তাসমানিয়া উপকূলে রেকর্ড ৪৭০ তিমি আটকা

এই পাইলট তিমিগুলো অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া রাজ্যর পশ্চিম উপকূলে আটকা পড়ে আছে। ছবি: রয়টার্স 
বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান শুরু করার পর অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া রাজ্যের উপকূলে আটকা পড়া আরও তিমির সন্ধান পাওয়া গেছে; এতে রাজ্যটির উপকূলে সবচেয়ে বেশি তিমি আটকা পড়ার রেকর্ড হয়েছে।

সোমবার থেকে করা হিসাব অনুযায়ী তাসমানিয়ার পশ্চিম উপকূলে মোট ৪৭০টি পাইলট তিমিকে আটকা পড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে।

বুধবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সন্ধান পাওয়া দলটির ২০০ তিমির মধ্যে অধিকাংশই মারা গেছে বলে তাদের মনে হয়েছে। 

বিবিসি জানিয়েছে, অগভীর পানিতে আটকা পড়া প্রাণীগুলোর মধ্যে যেগুলো এখনও জীবিত আছে তাদের জীবন রক্ষা করতে উদ্ধারকারীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছেন।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার প্রথম দলের ২৫টি তিমিকে মুক্ত করা গেলেও জোয়ারের সময় তাদের মধ্যে কিছু ফের সৈকতে ফিরে আসে।

তাসমানিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব প্রাইমারি ইন্ডাষ্ট্রিজ, ওয়াটার এন্ড ইনভায়রনমেন্ট এর নিক ডেকা বলেন, “সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ও বহু তিমির মৃত্যু হওয়ায় আমরা খুব হতাশ।”

তারপরও উদ্ধারকারীরা বুধবার আরও তিমিকে সাগরে ফেরত পাঠাতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। 

সোমবার তাসমানিয়ার ম্যাককুয়েরি হেডস এলাকায় প্রথম আটকা পড়া ২৭০টি তিমির সন্ধান পাওয়া যায়। পরদিন মঙ্গলবার সেখান থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে হেলিকপ্টার টিম আটকা পড়া তিমিদের দ্বিতীয় আরেকটি দলের সন্ধান পায় যাদের ওই আগের দলেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। 

প্রথম দলের অন্তত ৯০টি তিমি মারা গেছে। 

কী কারণে তিমিগুলো তীরে চলে এসেছে তা অজানাই থেকে গেছে। পাইলট তিমিদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন অত্যন্ত দৃঢ় বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

সৈকতে চলে আসার ঘটনাটি ছোট তিমিদের এই প্রজাতিটির ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি ঘটে থাকে। এই তিমিগুলো ৭ মিটার (২৩ ফুট) পর্যন্ত লম্বা এবং এদের ওজন তিন টন পর্যন্ত হতে পারে।

একসঙ্গে এত তিমি আটকা পড়ার ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ডেও বৃহত্তম কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে অস্ট্রেলিয়ান অ্যান্টার্কটিক ডিভিশন জানিয়েছে।

এর আগে তাসমানিয়ায় তিমি আটকা পড়ার সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৩৫ সালে। তখন উপকূলে ২৯৪টি পাইলট তিমি আটকা পড়েছিল। এখানে ২০০৯ সালে শেষ গণআটকা পড়ার ঘটনাটি ঘটেছিল, তখন প্রায় ২০০টি পাইলট তিমি আটকা পড়েছিল।

অস্ট্রেলিয়ায় তিমি আটকা পড়ার ঘটনাগুলোর ৮০ শতাংশেরও বেশি তাসমানিয়ায় ঘটে।