সুপ্রিম কোর্টে কনি ব্যারেটকে মনোনয়নের পরিকল্পনা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে সুপ্রিম কোর্টের নতুন বিচারপতি পদে মনোনয়নের ঘোষণা দিতে চলেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

এ পদে তিনি ফেডারেল আপিল কোর্টের রক্ষণশীল বিচারক এমি কনি ব্যারেটকে মনোনীত করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

শনিবার হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের মনোনয়ন ঘোষণার কথা রয়েছে। ব্যারেটের নিয়োগ সিনেটের ভোটে নিশ্চিত হলে তিনিই প্রয়াত বিচারপতি রুথ বেডার গিন্সবার্গের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

ট্রাম্প ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগেই নতুন বিচারপতির নিয়োগ নিশ্চিত করতে সিনেটকে আহ্বান জানিয়েছেন।

গত ১৮ সেপ্টম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে মৃত্যু হয় গিন্সবার্গের। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ বিচারপতি ছিলেন তিনি। সুপ্রিম কোটে নিয়োগ পাওয়া দ্বিতীয় নারী বিচারপতিও ছিলেন গিন্সবার্গ।

তার মৃত্যুতে সর্বোচ্চ আদালতের খালি হওয়া বিচারপতির আসন পূরণ নিয়ে ডেমোক্র্যাট আর রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক বিরোধ দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তড়িঘড়ি এ পদ পূরণ করতে চাইছেন।আর ডেমোক্র্যাটরা এ প্রক্রিয়া পিছাতে চাইছেন।

গিন্সবার্গের উত্তরসূরি নিয়োগে ট্রাম্পের তাড়াহুড়োয় শঙ্কিত ডেমোক্র্যাটরা। তাদের আশঙ্কা, রিপাবলিকানরা এমন একজনকে মনোনয়ন দেবে, যার মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা কয়েক দশকের জন্য নিশ্চিত করে ফেলবে।

৪৮ বছর বয়সী এমি কনি ব্যারেট ট্রাম্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী আসনে ধর্মীয় রক্ষণশীলদের পছন্দনীয় ব্যক্তিত্ব। ২০১৭ সালে ট্রাম্প শিকাগো-ভিত্তিক সপ্তম ইউএস সার্কিট আপিল কোর্টে ব্যারেটকে নিয়োগ করেছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে তার নিয়োগ নিশ্চিত হলে রক্ষণশীলদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ব্যবধান বেড়ে দাঁড়াবে ৬-৩ এ। আর এমন হলে আগামী কয়েক দশকের জন্য সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিজেদের অনুকূলে থাকার সুবিধা পেয়ে যাবে রিপাবলিকানরা।

ফলে ডেমোক্র্যাটরাসহ নানা অধিকার নিয়ে সোচ্চার উদারনৈতিক দলগুলো ব্যারেটের নিয়োগ নিয়ে উদ্বিগ্ন।

ট্রাম্প অবশ্য তার পছন্দের তালিকায় ব্যারেট ছাড়াও আরও কয়েকজনের নাম রেখেছেন। তবে সোমবার তিনি ব্যারেটের সঙ্গে দেখা করেন এবং শনিবারেই পছন্দের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা জানান।

পরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই কর্মকর্তা বলেন,  ট্রাম্প বিচারপতি পদে কনি ব্যারেটকে মনোনীত করার পরিকল্পনা করেছেন। তবে প্রকাশ্যে নাম ঘোষণার আগ পর্যন্ত ট্রাম্প শেষ মুহূর্তেও মন পরিবর্তন করতে পারেন বলেও জানান তারা।

ওদিকে, শুক্রবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন। যদিও কি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা বলেননি তিনি।