মহামারীতে তরুণদের ক্ষতি নিয়ে প্রিন্স চার্লসের উদ্বেগ

মহামারীর মধ্যে তরুণরা কঠিন সময় পার করছে। এ সময়ে যুক্তরাজ্যে অন্তত ১০ লাখ তরুণের জরুরি সাহায্যের প্রয়োজন পড়বে বলে মনে করেন যুবরাজ প্রিন্স চার্লস।

দ্য টেলিগ্রাফে লেখা এক আর্টিকেলে মহামারীর মধ্যে তরুণদের নিয়ে এভাবেই নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেন ব্রিটিশ যুবরাজ। রোববার আর্টিকেলটি প্রকাশ পায় বলে জানায় বিবিসি।

প্রিন্স চার্লস লেখেন, ‘‘সবাই বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। তবে বিশেষ করে তরুণদের জন্য এটা খুবই কঠিন সময়।”

তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ওই সময়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন যখন কোথাও আশার আলো দেখতে পাওয়া যায় না’।

মহামারীর কারণে সারাবিশ্বের বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন, বেড়েছে বেকারত্ব। এ অবস্থাকে তিনি সত্তরের দশকের সঙ্গে তুলনা করেছেন। যখন যুক্তরাজ্যে বেকারত্বের হার অনেক বেড়ে গিয়েছিল। যা নিবারণে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে তিনি ওই সময় তার দাতব্য সংস্থা ‘দ্য প্রিন্সস ট্রাস্ট’ গঠন করেন।

ওই দাতব্য সংস্থা ১১ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে।

যুবরাজ লেখেন, ‘‘গত ৪৫ বছর ধরে আমরা প্রায় ১০ লাখ তরুণের জীবন পাল্টে দিয়েছি। আমাদের সাহায্যে তারা আরো উন্নত জীবন পেয়েছে। দাতব্য সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর অনেকগুলো বছর কেটে গেছে। এই পথ চলা কখনোই সহজ ছিল না।

‘‘তবে বর্তমান অবস্থার মত চ্যালেঞ্জে অতীতে কখনো পড়তে হয়নি। যখন মহামারী শেষ হবে তখন খুব সম্ভবত আরো ১০ লাখ তরুণের ভবিষ্যত সুরক্ষিত করতে সাহায্যের প্রয়োজন পড়বে। নিশ্চিতভাবেই এটা অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ, কিন্তু এটা অনতিক্রম্য নয়।”

যুক্তরাজ্যে কোভিড-১৯ মহামারী ছড়িয়ে পড়ার শুরুর দিকে যুবরাজ চার্লসও এ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

মহামারীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত তরুণদের বাড়তি সহায়তার জন্য তিনি ‘ইয়াং পিপুল রিলিফ ফান্ড’ নামে একটি তহবিল গঠন করেছেন।

যুক্তরাজ্য জুড়ে নানা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো তরুণ লকডাউনের কারণে দিশাহীন হয়ে পড়েছে। অনেকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, তারা বুঝে উঠতে পারছেন না ঠিক কী করা উচিত।

প্রথম দফায় মহামারীর বিস্তার কিছুটা কমে আসার পর যুক্তরাজ্য জুড়ে স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো প্রায় চার লাখ শিক্ষার্থী স্কুলে ফেরেনি বলে সতর্ক করেছের ইংল্যান্ডের শিশু বিষয়ক কমিশনার।

এর আগে যুক্তরাজ্য সরকারের প্রধান মেডিকেল উপদেষ্টা অধ্যাপক ক্রিস হুইটি এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন, শিশুরা যদি স্কুলে না ফেরে তবে তারা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির চাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।