ইসরায়েলে প্রথম আনুষ্ঠানিক সফরে আমিরাতের সরকারি প্রতিনিধিদল

দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফরে ইসরায়েল পৌঁছেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি সরকারি প্রতিনিধিদল।

মঙ্গলবার আবু ধাবি থেকে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি বিমান আমিরাতের সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে নামে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

আমিরাতের এ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারাও ছিলেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাবি আশকেনাজি ও অর্থমন্ত্রী ইসরায়েল কাতজ আমিরাতের এ সরকারি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান।

“আমরা এমনভাবে ইতিহাস নির্মাণ করবো যেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম তা থাকে,” আমিরাতের প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগের কারণে আমিরাত প্রতিনিধিদলের ৫ ঘণ্টার এই সফর তেল আবিবের কাছাকাছি ওই বিমানবন্দরেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের কর্মকর্তারা। 

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকে চুক্তি করে। ২৫ বছরের মধ্যে কোনো আরব দেশের সঙ্গে সেটিই ছিল ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকের প্রথম ঘটনা।

এর ফলে ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদার হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্ররা বলে এলেও ফিলিস্তিনিরা এ ধরনের ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান উত্থানও ইসরায়েলের সঙ্গে মার্কিন মিত্র মুসলিম দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিকের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে বলে অনুমান বিশ্লেষকদের।

“সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহুর্ত। আমরা এই অঞ্চলে শান্তির দিকে তাকিয়ে আছি,” ইতিহাদের যে বিমানটি আমিরাতের প্রতিনিধিদলকে ইসরায়েল নিয়ে গেছে তার এক চালককে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত আরি বারকোইজের টুইটারে পোস্ট করা ভিডিওতে এমনটাই বলতে শোনা গেছে।

বারকোইজ ও মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মনুশেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইসরায়েল গেছেন। আমিরাতের অর্থমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন তুক আল-মারি ও অর্থ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ওবায়েদ হুমাইদ আল- তায়ের তাদের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র। 

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এর আগে রোববার  বাহরাইনে ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছিলেন। সেদিন ইসরায়েল ও বাহরাইন কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।

অগাস্টের মাঝামাঝি সম্পর্ক স্বাভাবিকের ঘোষণা দেয়ার পর থেকে ইসরায়েল ও আরব আমিরাত এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি বাণিজ্য চুক্তি করেছে। কিছুদিনের মধ্যেই দুই পক্ষ পারষ্পরিক ভিসা-ছাড় চুক্তিতেও স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। এমনটা হলে, তা হবে ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো আরব দেশের এ ধরনের প্রথম চুক্তি।