পেরুতে ২০০০ বছর আগের বিড়ালের নকশা

পাহাড়ের গায়ে আঁকা একটি বিড়ালের ছবি। দেখলে মনে হবে আঁকাবাঁকা হাতে আঁচড় কেটে কেউ নকশা তৈরি করেছে।

পেরুর নাজকা লাইন্সের পাহাড়ে ৩৬ মিটারেরও বেশি এলাকাজুড়ে আঁকা এই বিশাল বিড়ালের ছবির সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। মনে করা হচ্ছে ছবিটি খোদাই করা হয়েছে কমপক্ষে ২ হাজার বছর আগে।

নাজকা লাইন্সে এমন ছবির খোঁজ মেলা অবশ্য নতুন নয়। এলাকাটির একাধিক পাহাড়ে এর আগেও শিল্পকর্মের বেশকিছু নিদর্শন মেলায় ইউনেস্কো থেকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের সম্মান পেয়েছে নাজকা লাইন্স।

তবে বিড়াল আঁকা ছবিটি যে পাহাড়ে পাওয়া গেছে সেখানে আগে এই ছবি চোখে পড়েনি। পাহাড়ের খাড়া ঢাল ক্ষয়ে যাওয়ায় ছবিটি অস্পষ্ট হয়ে পড়েছিল বলে ধারণা প্রত্নতাত্ত্বিকদের।

আর পাহাড়ে ওঠার তেমন কোনও রাস্তা না থাকায় অগোচরেই রয়ে গিয়েছিল এই ছবি। পেরুর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে জানিয়েছে, সম্প্রতি পাহাড়ের একটি অংশে রাস্তা তৈরির জন্য কাজ চলার সময়ই দেখা মেলে ছবিটির।

প্রত্নতাত্ত্বিকদের অনুমান, ২০০ থেকে ১o০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আঁকা হয়েছিল এই বিড়ালের ছবি। পেরুতে পারাকাস যুগ চলার সময় সম্ভবত এটি আঁকা। পাহাড়ের গায়ে নানা ছবি আঁকা ছিল ওই সময়ের পেরুভিয়ানদের বৈশিষ্ট্য।

পেরুর রাজধানী লিমা থেকে প্রায় ২৫০ মাইল দক্ষিণপূর্বে অবস্থিত নাজকা ও পালপা শহরের মধ্যকার মরুভূমির বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে রয়েছে নাজকা লাইন্স। ১৯২৭ সালে প্রত্নতাত্ত্বিকরা প্রথম এলাকাটি আবিষ্কার করেছিলেন।

এর আগে ওই এলাকায় বানর, হামিংবার্ডের মতো প্রাণীসহ গাছেরও চিত্র পাওয়া গেছে। সবশেষে সেখানে পাওয়া গেল বিড়ালের ছবিটি। আর এটি আগের সব ছবির চেয়ে বেশি পুরোনো বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

নাজকা লাইন্সে পেরুর প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক স্প্যানিশ এফ বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, আমরা এখনও নতুন শিল্পকর্ম খুঁজে পাচ্ছি; এ এক অসাধারণ ব্যাপার। অবশ্য আরও এমন নিদর্শন যে এখানে খুঁজে পাওয়া যাবে তাও আমরা জানি।”