দক্ষিণ কোরিয়ায় ফ্লুর টিকা নেওয়ার পর ৫ জনের মৃত্যু

দক্ষিণ কোরিয়ায় ফ্লুর টিকা নেওয়ার পর ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

গত কয়েকদিন ধরে হওয়া এসব মৃত্যুর ঘটনা এশিয়ার দেশটিতে ভাইরাস প্রতিষেধকের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জটিলতা কমাতে দক্ষিণ কোরিয়ায় এবার বিস্তৃত আকারে ফ্লুর টিকা প্রয়োগের পরিকল্পনা ছিল।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ৫ জনের মৃত্যুর সঙ্গে ফ্লুর টিকার কোনো যোগসাজশ আছে বলে মনে করছেন না তারা। তবে তদন্ত চলছে।

“এ সংক্রান্ত সুস্পষ্ট বিবৃতি দেওয়া আমাদের জন্য কঠিন,” বুধবার এক ব্রিফিংয়ে এমনটাই বলেছেন দক্ষিণ কোরিয়ায়র সহকারী স্বাস্থ্যমন্ত্রী কিম গাং-লিপ।

দেশটিতে ফ্লুর টিকা নেওয়ার পর যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর ও বয়স ৭০ এর ঘরে থাকা এক বৃদ্ধও আছেন।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি স্থগিত করার কয়েক সপ্তাহ পর ৫ মৃত্যুর ঘটনা দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যমগুলোর শিরোনামেও স্থান করে নিয়েছে।

দেশটির কর্মকর্তারা গত মাসে এক ঘোষণায় এবারের শীতের জন্য গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি ফ্লুর টিকা উৎপাদনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। ফ্লু এবং কোভিড-১৯ এর চাপে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা যেন ভেঙে না পড়ে সেজন্য মোট ৩ কোটি মানুষকে প্রতিষেধক দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

কিন্তু এক কোটি ৯০ লাখ মানুষকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার এক কর্মসূচি শুরুর পরই তিন সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

টিকার ডোজগুলোকে শীতল স্থানে রাখার কথা থাকলেও একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রায় ৫০ লাখ ডোজ টিকা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা হয়েছিল, এমনটা জানার পর কর্তৃপক্ষ ওই কর্মসূচি স্থগিত করে দেয়।

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় নিরাপত্তা ও দক্ষতা প্রমাণের সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া অনেক দেশের সরকার বিভিন্ন পরীক্ষামূলক টিকা অনুমোদন দেওয়ায় চলতি বছর টিকা বা প্রতিষেধকের প্রতি মানুষকে আস্থাশীল করা বিশ্বজুড়েই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া তাদের ফ্লুর টিকা আলাদা আলাদা ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে নেয়। এসব কোম্পানির মধ্যে এলজি কেমিক্যাল লিমিটেড ও বোরইয়াং বায়োফার্মা কোম্পানি লিমিটেড অন্যতম।

বোরইয়াংয়ের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠান ফ্লুর টিকা নেওয়ার পর ৫ জনের মৃত্যুর বিষয়ে অবগত কিন্তু এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবে না। এলজি কেমিক্যাল জানিয়েছে, তারা যে কোনো বিষয়ে সরকারি পরামর্শ মেনে চলবে।

১৭ বছর বয়সী কিশোরের মৃত্যু হয়েছিল শুক্রবার, রাজধানী সিউলের কাছের শহর ইনচেওনে টিকা নেওয়ার দুইদিন পর। আর বয়স ৭০ এর ঘরে থাকা বৃদ্ধ মারা যান বুধবার, দাইগুতে; টিকা নেওয়ার একদিন পর। তার পারকিনসন ও অ্যারিথমিয়া ছিল, তিনি ২০১৫ সাল থেকে টানা টিকা নিচ্ছিলেন এবং তার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন দাইগুর কর্মকর্তারা।

১৩ অক্টোবর থেকে ফের বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৩ লাখ লোককে টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩৫০ জনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা জানা গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

করোনাভাইরাস মহামারীর আগে থেকেই টিকার উপর মানুষের অনাস্থা বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মাথাব্যথার কারণ ছিল। ভ্যাকসিন নিয়ে দ্বিধার বিষয়টিকে গত বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বিশ্বের শীর্ষ ১০ স্বাস্থ্য হুমকির তালিকাতেও রেখেছিল।

চলতি মাসে সিউলের নিকটবর্তী গিয়ঙ্গি প্রদেশে এক জরিপে অংশ নেওয়া দুই হাজার ৫৪৮ জনের মধ্যে ৬২ শতাংশই বলেছেন, সব ধরনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নের যথাযথ উত্তর না পেলে তারা সরকার অনুমোদন করলেও কোনো টিকা গ্রহণ করবেন না।