চীন স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের জন্য ‘সবচেয়ে বড় হুমকি’: শীর্ষ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টিলিজেন্সের পরিচালক জন রেটক্লিফ। ফাইল ছবি। রয়টার্স থেকে নেওয়া
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য চীনই সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জন রেটক্লিফ। 

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে লেখা এক নিবন্ধে তিনি বলেছেন, বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের গোপনীয় তথ্য ও মেধা চুরি করে নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে এবং পরে বাজার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকেই হটিয়ে দিয়েছে।

চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তারা বিশ্বে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে এবং প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে আধিপত্য বিস্তারে ইচ্ছুক, বলেছেন রেটক্লিফ।

তার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানের বক্তব্যকে ‘সত্যের অপলাপ’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

“এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরকার কিছু লোকের ঠাণ্ডাযুদ্ধের মানসিকতা ও আদর্শিক অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ,” বলেছেন তিনি।

মেধাসত্ত্ব চুরির অভিযোগে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গত কয়েক বছর ধরেই চীনের বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক আরোপের পাশাপাশি দেশটির বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চাপও বাড়িয়েছিল। নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে ধারণা অনেক পশ্চিমা বিশ্লেষকের। 

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টিলিজেন্সের পরিচালক রেটক্লিফ তার নিবন্ধে লিখেছেন, চীন এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রাশিয়ার জায়গায় নিজেদের নিয়ে এসেছে।

“চীন বিশ্বাস করে তাদের শীর্ষে না রেখে হওয়া বিশ্ব ব্যবস্থা একটি ঐতিহাসিক স্খলন। তাই তারা বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন ও বিশ্বজুড়ে স্বাধীনতার বিস্তৃতি বদলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে,” বলেছেন মার্কিন এ গুপ্তচর প্রধান।  

চীনের বিরুদ্ধে ‘চুরি, প্রতিলিপি তৈরি ও প্রতিস্থাপনের’ মাধ্যমে অর্থনৈতিক চরবৃত্তি চালানোরও অভিযোগ তুলেছেন রেটক্লিফ। প্রতিবছর কেবল যুক্তরাষ্ট্রেরই ৫০০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের মেধাসত্ত্ব চুরি যায় বলেও দাবি তার। 

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ইউনিয়নকে দিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিকদের উপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন যেন চীনের প্রতি খানিকটা নমনীয় হয় বেইজিং সে চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে, বলেছেন এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

রেটক্লিফের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং এফবিআই প্রধান ক্রিস্টোফার রে’ও চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন মেধাসত্ত্ব চুরি ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে বেইজিংয়ের হস্তক্ষেপচেষ্টার অভিযোগ করেছিলেন।

বুধবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া ছানইং পাল্টা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই চীনবিরোধী নানান রাজনৈতিক অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তুলেছেন।

“এগুলো তারা করছে দৃঢ় দার্শনিক পক্ষপাতিত্ব ও চীনকে আটকে রাখার কৌশল থেকে। চীনে একটা প্রবাদ আছে- চোখ তা-ই দেখে, মন যা বিশ্বাস করে। আমরা আশা করছি, যুক্তরাষ্ট্র সবাইকে গুপ্তচর হিসেবে বিবেচনা করা বন্ধ করবে,” বলেছেন তিনি ।