ঝুঁকি নিয়েও রাশিয়ায় ফিরছেন নেতা নাভালনি

রুশ বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সি নাভালনি মামলায় পড়া এবং কারাদণ্ডের ঝুঁকি মাথায় নিয়েও আগামী রোববার জার্মানি থেকে রাশিয়ায় ফিরছেন বলে জানিয়েছেন।

বিষ প্রয়োগে অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য নাভলনি জার্মানিতে গিয়েছিলেন।

বুধবার রাশিয়ায় ফেরার পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘রাশিয়া আমার দেশ।” দেশে ফিরেই আবার রাজনীতি যোগ দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কড়া সমালোচক নাভালনিকে গত বছর অগাস্টে বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।

বিষপ্রয়োগে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে কোমায় চলে যাওয়া নাভালনির চিকিৎসা রাশিয়াতে শুরু হলেও পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জার্মানিতে নেওয়ার অনুমতি দেয় পুতিন সরকার।

নাভালনি তারপর থেকে জার্মানিতেই অবস্থান করছেন। নাভালনির সমর্থকদের অভিযোগ, পুতিনের নির্দেশেই নাভালনিকে সোভিয়েত আমলে তৈরি বিষাক্ত নার্ভ এজেন্ট নোভিচক প্রয়োগ করা হয়। তাই তারা প্রিয় নেতার নিরাপত্তার কথা ভেবে তাকে বিদেশে অবস্থান করতে বলছেন।

পুতিন অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‍দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে বলেছেন, যদি রুশ এজেন্টরা নাভালনিকে হত্যা করতে চাইত, তবে তারা তাদের কাজ অবশ্যই শেষ করত।

ক্রেমলিন থেকেও বলা হয়েছে, নাভালনি যে কোনও সময় রাশিয়া ফিরতে পারেন। তার দেশে ফিরে নিয়ে কোনো বাধাই নেই। তবে তাদের দাবি, নাভলনিকে বিষ প্রয়োগের কোনো প্রমাণ তারা এখনও দেখেনি বা হাতে পায়নি।

৪৪ বছরের নাভালনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তার স্বাস্থ্যও প্রায় আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। দেশে ফিরলে তার জীবন আবার ঝুঁকিতে পাড়তে পারে এ বিষয়টি তিনি একদমই বিবেচনা করছেন না।

নিজের ইন্সটাগ্রাম একাউন্টে তিনি লেখেন, ‘‘আমি ফিরব নাকি ফিরব না সেই প্রশ্ন কখনওই ছিল না। তার খুব সহজ কারণ হচ্ছে, আমি তো কখনও ছেড়েই যাইনি। আমি একটা কারণেই ইনটেনসিভ কেয়ার বক্সে করে জার্মানিতে এসেছিলাম: তারা আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।”

“বরাবরের মতো (পুতিনের) চাকররা আমার বিরুদ্ধে মনগড়া নতুন নতুন সব ফৌজদারি মামলা করতে থাকবে। কিন্তু তারা সেখানে কী করছে সেটা জানতে আমি মোটেই আগ্রহী নই। রাশিয়া আমার দেশ। মস্কো আমার শহর এবং আমি তার অভাব সবসময় বোধ করছি।”

রাশিয়ায় নাভালনির বিরুদ্ধে দুইটি ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যেগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে মত নাভালনির।