আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা এখন দুই দশকে সবচেয়ে কম: পেন্টাগন

আফগানিস্তানে মার্কিন সৈন্য সংখ্যা কমতে কমতে আড়াই হাজারে পৌঁছেছে; এ সংখ্যা দুই দশক আগে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শুরুর পর সবচেয়ে কম বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।

গত বছরের নভেম্বরে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যসংখ্যা মধ্য জানুয়ারির ভেতর সাড়ে ৪ হাজার থেকে কমিয়ে আড়াই হাজারে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘতম যুদ্ধ শেষ করতে ট্রাম্প তার মেয়াদের শুরু থেকেই তৎপর ছিলেন। যদিও আফগানিস্তান থেকে সৈন্য কমানো নিয়ে রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্টকে ঘরে-বাইরে অনেক চাপ মোকাবেলা করতে হয়েছে। এক পর্যায়ে ট্রাম্প দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি থেকে সব মার্কিন সেনা ফিরিয়ে আনারও হুমকি দিয়েছিলেন।

সৈন্য সংখ্যা আড়াই হাজারে নেমে এসেছে জানিয়ে ভবিষ্যতে আফগানিস্তান থেকে ‘শর্ত সাপেক্ষে’ আরও সেনা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হতে পারে বলে মার্কিন ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ক্রিস মিলারের বিবৃতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

আফগানিস্তানে সৈন্য কমানোর ঝুঁকি পর্যালোচনায় সেখানে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পাঠানোর আগ পর্যন্ত দেশটি থেকে আর সেনা কমানো যাবে না- যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া নতুন একটি আইনে এ বিধান থাকা সত্ত্বেও পেন্টাগন সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার অব্যাহত রেখেছিল বলে সোমবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

এ প্রসঙ্গে শুক্রবার পেন্টাগনের মুখপাত্র মেজর রব লোডউইক জানান, ট্রাম্পের দেওয়া ছাড়ের সুবিধা নিয়ে তারা সৈন্য আড়াই হাজার পর্যন্ত কমানো অব্যাহত রেখেছিলেন।

“দেশজুড়ে যুদ্ধক্ষেত্র বিস্তৃত, এমন এলাকা থেকে সৈন্য সংখ্যা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও তাদের সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট অনুষঙ্গ কমানোর সিদ্ধান্ত রাতারাতি স্থগিত করা যায় না; এরকম কিছু হলে বাহিনীর সদস্যদের ঝুঁকি বেড়ে যাবে, মিশনের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে,” বলেছেন তিনি। 

২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানভিত্তিক ইসলামী জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদা যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালানোর পর মার্কিন বাহিনী তালেবান অধ্যুষিত দেশটিতে অভিযান শুরু করে। এক পর্যায়ে ২০১১ সালে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ১ লাখেরও বেশি সৈন্য ছিল।

ট্রাম্প প্রশাসন দেশটি থেকে সৈন্য প্রত্যাহারে আগ্রহী থাকলেও ২০ জানুয়ারি দেশটির নতুন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে যাওয়া বাইডেন এখনও আফগানিস্তান নিয়ে তার পরিকল্পনা খোলাসা করেননি।

তালেবানদের পাশাপাশি আল কায়েদা এবং মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটও (আইএস) সক্রিয় থাকায় আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদ দমনে যুক্তরাষ্ট্র সামান্য কিছু সৈন্য দেশটিতে রাখতে পারে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।