জেগে উঠেছে ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট সেমেরু আগ্নেয়গিরি

দুর্যোগ যেন পিছু ছাড়ছে না ইন্দোনেশিয়ার। সুলাওয়েসি দ্বীপে ভূমিকম্পে বিপর্যয়ের মধ্যেই এবার দেশটিতে জেগে উঠেছে আগ্নেয়গিরি মাউন্ট সেমেরু।

শুরু হয়েছে ধোঁয়া আর ছাই উৎগীরণ। আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ দিয়ে বের হয়ে আসা ছাই জাভা দ্বীপের আকাশে প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সময় শনিবার ১৭:২৪ মিনিটে (জিএমটি ১০:২৪) মাউন্ট সেমেরুর জ্বালামুখ দিয়ে ধোঁয়া বের হওয়া শুরু হয়।

তবে প্রশাসন থেকে শনিবার স্থানীয়দের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার কোনও নির্দেশ জারি করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি। ‍

বরং দেশটির ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার মিটিগেশন এজেন্সি’ (এনডিএমএ) থেকে পাহাড়ের পাদদেশে থাকা গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের আগ্নেয়গিরির উগ্ন্যুৎপাতের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ‍নানা ছবিতে ১২ হাজার ৬০ ফুট উঁচু পাহাড়ের জ্বালামুখ থেকে বেরিয়ে আসা ছাইয়ে বাড়ি ঘর ঢেকে যেতে দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় কর্মকর্তা তহোরিকুল হক বলেন, ‘‘উত্তপ্ত মেঘের চলার পথে সামবার মায়ুর এবং কুরাহ কোবোআন গ্রামের বাসিন্দাদের বাড়িঘরগুলো ‍অবস্থিত।”

তার মধ্যে কুরাহ কোবোআন গ্রামের বাসিন্দাদের জ্বালামুখ দিয়ে ‘কোল্ড লাভা’ বা কাদার প্রবাহ বের হয়ে আসে কিনা সে বিষয়ে নজর রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। আগ্নেয়গিরি থেকে বেরিয়ে আসা লাভার সঙ্গে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত মিলে ওই কাদার প্রবাহের সৃষ্টি হয়।

ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ‘রিং অব ফায়ার’ এ অবস্থিত। যে কারণে দেশটিতে মাঝেমধ্যেই নানা সক্রিয় আগ্নেয়গিরি জেগে উঠে। একই কারণে দেশটি বেশ ভূমিকম্প প্রবণ।

শুক্রবার সুলাওয়েসি দ্বীপে ৬ দশমিক ২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। যাতে বাড়িঘর ধসে অন্তত ৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও উদ্ধার কাজ চলতে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পের আগে ও পরে বেশ কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের একদিন পরই মাউন্ট সেমেরু থেকে উদগীরণ শুরু হয়েছে।

সেমেরু ‘দ্য গ্রেট ‍মাউন্টেইন’নামেও পরিচিত। এটি জাভা দ্বীপের সর্বোচ্চ এবং সবচেয়ে বেশি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। পাহাড়টি ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর একটিও বটে। সারা বিশ্ব থেকে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ এই পাহাড়ে বেড়াতে আসেন।

এর আগে গত ডিসেম্বরে মাউন্ট সেমেরু থেকে উদগিরণ হয়েছিল। সেবার প্রায় সাড়ে পাঁচশ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

গত এক সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়াকে একের পর এক দুর্যোগে পড়তে হচ্ছে। প্রথমে ৬২ জন আরোহী নিয়ে শ্রীবিজয়ার একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হল। তারপর সুলাওয়েসি দ্বীপের শক্তিশালী ভূমিকম্প। আর এখন ফুঁসে ওঠা আগ্নেয়গিরি।