ড্রাগন ফলকে ‘কমলাম’ ডাকবে ভারতের গুজরাট

পদ্মফুলের মতো দেখতে ড্রাগন ফলকে ‘‌কমলাম’‌ বলে ডাকবে ভারতের গুজরাট রাজ্য সরকার।

ড্রাগন ফলটির নামের সঙ্গে ‘চীনা যোগ’ থাকার কারণে এর নাম বদলে পদ্ম ফুলের সংস্কৃত নামে ‘কমলাম’ রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি।

পদ্ম ফুল হিন্দুদের জন্য পবিত্র এবং এটি ভারতের জাতীয় ফুলও।

মঙ্গলবার এক ঘোষণায় রূপানি বলেন, “ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নির্বাচনী প্রতীক পদ্মফুল; যে পার্টিতে আছেন তিনি নিজে এবং প্রধানন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তাছাড়া, ফলের নাম ড্রাগন হওয়াটাও উপযুক্ত নয়, এই নাম শুনলেই চীনের কথা প্রথমে মাথায় আসে। তাই আমরা এই ফলের নাম ‘কমলাম’ রাখছি।”

‘ড্রাগন’ নামটার মধ্যেই একধরনের বিদেশি গন্ধ আছে। এতদিন চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামে ড্রাগন ফলের বাজার রমরমা থাকলেও কয়েকবছর ধরে ভারতেও ড্রাগন ফল বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।

ক্যাকটাস পরিবারের ফল ড্রাগন। এর বাইরের আবরণে অনেকটা ড্রাগনের গায়ের চামড়ার মত খোঁচা খোঁচা আঁশের কারণেই ফলটির এমন নাম। খাদ্যগুণে অতুলনীয় এই ফলের চাহিদা উত্তরোত্তর বাড়ছে।

কিন্তু ‘চীনা সংশ্লিষ্টতা’র কারণে গুজরাট সরকারের এই ফলের নাম বদলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঠাট্টা-মস্করার ঝড় বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

কেউ কেউ টুইটারে মন্তব্য করেছেন: “চীনের ভারতীয় ভূখন্ডে অনুপ্রবেশের চেষ্টার সত্যিকারের অভিনব জবাব কী হতে পারে সামরিক ইতিাসবেত্তারা তা জেনে নিন- এর জবাব হল সরকারিভাবে থাই ফলের নাম বদলে দেওয়া।”

“আমাদের সাথে গোলমাল বাধানোর চেষ্টা করবেন না, তাহলে আমাদের কড়া বার্তা- আমরা সব কিছুর নাম বদলে দিতে পারি।”

আবার কেউ টুইটে চীনের পতাকার ছবি দিয়ে লিখেছেন, “আমরা ভূমি দখল করতে আসছি”, আর এর নিচেই ভারতের পতাকার ছবি দিয়ে লেখা, “আমরা ড্রাগন ফলের নাম পরিবর্তন করছি।”

ভারত ও চীনের মধ্যে হিমালয় অঞ্চলে দীর্ঘ সীমান্তে দু’পক্ষের সেনাবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনার কারণে দেশদু’টির সম্পর্ক সম্প্রতি তলানিতে ঠেকেছে।

গত বছর জুনে লাদাখ সীমান্তে চীন ও ভারতের সেনাদের মধ্যে সংঘাতে ২০ ভারতীয় সেনা নিহতের ঘটনার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা বেড়েছে এবং একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ চলে আসছে।

উষ্ণমন্ডলীয় আবহাওয়ার ড্রাগন ফলের আদি উৎপাদনস্থল যদিও মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকা থেকেই মূলত এ ফলের আমদানি; তবুও ফলটির নামের কারণে ভারতে অনেকে মনে করেন এ ফল চীন থেকে এসেছে।

ভারতে চীনের সঙ্গে ড্রাগন নাম জড়ানোটা বহুদিনের পুরোনো সংস্কৃতি। আবার একইভাবে ভারতীয়দের ক্ষেত্রে চীনে হাতি শব্দ ব্যবহারের প্রচলন আছে।