রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া ধারণার চেয়েও কঠোর: চেক প্রজাতন্ত্র

মস্কো তাদের ২০ কূটনীতিকে বহিষ্কার করার পর চেক প্রজাতন্ত্র বলেছে, রাশিয়ার এই প্রতিক্রিয়া তাদের প্রত্যাশার চেয়েও কঠোর এবং পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবে তারা।

রাশিয়ার ১৮ কূটনীতিককে বহিষ্কারের জবাবে রোববার চেক প্রজাতন্ত্রের ২০ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে মস্কো। চেক প্রজাতন্ত্র দেশ ছাড়তে রুশ কূটনীতিকদের ৭২ ঘণ্টা সময় দিলেও চেক কূটনীতিকদের মাত্র এক দিন সময় দেয় রাশিয়া।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জনায়, সোমবার সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত চেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ান হ্যামাচেক বলেন, “এমন প্রতিক্রিয়া আমাদের ধারণার চেয়ে কঠোর, যত গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে আমরা বহিষ্কার করেছি তারা তারও বেশি কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে।”

টিভিতে সম্প্রচার করা ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “চেক প্রজাতন্ত্রের পক্ষ থেকে আর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা কখন, সে বিষয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আলোচনা করব।”

চেক গোয়েন্দারা দাবি করছেন, রুশ কূটনীতিককরা গুপ্তচরের কাজ করছিলেন। ২০১৪ সালে একটি গোলাবারুদের গুদামে বিস্ফোরণের ঘটনায় তারা সন্দেহভাজন বলেও দাবি তাদের।

দেশটির বিরোধী দল এই ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বললেও চেক প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে বাবেস তা খারিজ করে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “চেক প্রজাতন্ত্রকে আক্রমণ করছে না রাশিয়া। গুপ্তচরেরা এই হামলা চালিয়েছে, এটাকে আমরা গুপ্তচরদের সন্ত্রাসী হামলা বলতে পারি।”

তিনি বলেন “যেসব দল রাশিয়ার সাথে সংঘাতে জড়িয়ে আছে সম্ভবত তাদের কাছে এসব অস্ত্র বিক্রি করছিল বুলগেরিয়ার এক অস্ত্র ব্যবসায়ী। সম্ভবত অস্ত্রগুলো কোথাও চালান যাওয়ার পথে বিস্ফোরিত হয়।

“অবশ্য জিআরইউ গোয়েন্দাদের এখানে অভিযান চালিয়ে ওই চালান ভণ্ডুল করে দেয়াটাও গ্রহণযোগ্য নয়।”

এর আগে চেক প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, “ভার্বেটিস শহরে গোলাবারুদের ডিপো বিস্ফোরণে রুশ গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ জড়িত থাকার ব্যাপারে ঘোরতর সন্দেহ আছে।”

ওদিকে রাশিয়ার একজন আইনপ্রণেতা চেক প্রধানমন্ত্রীর এমন অভিযোগকে পুরোপুরি অযৌক্তিক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগের প্রায় ৩৩০ কিলোমিটার দূরে ভার্বেটিসে ২০১৪ সালের অক্টোবরে কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বেসরকারি কোম্পানির দুইজন কর্মকর্তা নিহত হন। ওই কোম্পানি রাষ্ট্রীয় সামরিক সংগঠনের কাছ থেকে সাইটটি ভাড়া নিয়েছিল।

স্থানীয় একটি সংবাদপত্রকে দেয়া সাক্ষাৎকারে চেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেন, বুলগেরীয় ওই অস্ত্র ব্যবসায়ীর নাম এমিলিয়ান জেব্রেভ। ২০১৫ সালে বিষ প্রয়োগে হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন ওই অস্ত্র কারখানার মালিক। এই ঘটনায় ২০২০ সালে তিনজন রুশ নাগরিককে তাদের অনুপস্থিতিতে হত্যাচেষ্টায় অভিযুক্ত করেন বুলগেরীয় আইনজীবীরা।

সোমবার জেব্রেভের কোম্পানি ইএমসিও চেক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নাকচ করে দিয়ে দাবি করেন, বিস্ফোরণের আগের কয়েক মাসের মধ্যে কিংবা তার পরে বছর খানেকের মধ্যে কোনও সরবরাহ হস্তান্তরের পরিকল্পনা ছিল না তাদের।

চেক প্রজাতন্ত্র বলছে, যুক্তরাজ্যে ২০১৮ সালে বিষাক্ত রাসায়নিক 'নোভিচক' হামলার জন্য যে দুই রুশ গুপ্তচরকে সন্দেহ করা হয়, তারাই ভার্বেটিসের গোলাবারুদের গুদামে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত।

মধ্য ইউরোপের এ দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও নেটো জোটের সদস্য। ১৯৮৯ সালে কমিউনিস্ট শাসনের পতনের পর রাশিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র এবারই সবচেয়ে বড় বিরোধে জড়াল।

এই পরিস্থিতিতে সোমবার এক ভিডিও বৈঠক চলাকালে ‘সংহতি প্রকাশের’ জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ই্‌ইউ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্রতি আহ্বান জানান চেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হ্যামাচেক।

আরও পড়ুন