মহারাষ্ট্রে বন্যা, ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ১৩৬

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রে প্রবল বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৬ এ দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সেখানে উদ্ধারকাজেও ব্যাঘাত ঘটছে।

ব্যাপক কাদা ও ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে আটকা পড়াদের কাছে পৌঁছাতে শনিবারও উদ্ধারকারী দলগুলোকে হিমশিম খেতে দেখা গেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

চার দশকের মধ্যে এ বছরের জুলাইয়েই সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি দেখেছে ভারতের এ পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যটি।

টানা বর্ষণে বিপাকে পড়েছে সেখানকার লাখো মানুষ; বেশ কয়েকটি নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তীর সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিয়েও বাড়ছে ভয়।

মহারাষ্ট্র সরকারের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মুম্বাই থেকে ১৮০ কিলোমিটার দূরের তালিয়ায় নতুন ৪টি মৃতদেহ উদ্ধারের পর ভূমিধসে বেশিরভাগ ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়া গ্রামটিতে প্রাণহানির সংখ্যা ৪২ এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

“প্রায় ৪০ জনের মতো এখনো আটকা। কাদার মধ্যে ৩৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটকা থাকায় তাদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে আসছে,” মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে আভাস দিয়ে বলেছেন মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকারের ওই কর্মকর্তা।

গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার দায়িত্বপ্রাপ্ত না হওয়ায় নিজের নাম বলতে রাজি হননি তিনি।

ভারতের পাশাপাশি গত কয়েকদিনে পশ্চিম ইউরোপ ও চীনের কিছু অংশেও আবহাওয়ার বিধ্বংসী রূপ দেখেছে বিশ্ব। উত্তর আমেরিকার কিছু অংশের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র দাবদাহ। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এরকম ঘন ঘন প্রাকৃতিক দর্যোগের দেখা মিলছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় আগামী কয়েকদিনও ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে পূর্বাভাস দিয়ে আবহাওয়া বিভাগ ৬টি জেলায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার।

মহামারীতে ভারতের মথ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যটিকে এখন কোভিড-১৯ এর পাশাপাশি রেকর্ড বৃষ্টি, বন্যা, ভূমিধসের মতো দুর্যোগও সামলাতে হচ্ছে।

তবে এতসবের মধ্যেও কোভিডে আক্রান্ত এবং অন্য অসুস্থদের চিকিৎসায় যেন কোনও ধরনের বিঘ্ন না ঘটে তা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধভ ঠাকরে।