স্কুলের মূল বিষয়গুলোতে প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করছে চীন

চীন শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ কমাতে ও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা সঙ্কট মোকাবেলায় সহায়তা করতে প্রাইভেট পড়ানোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে যাচ্ছে। 

চলতি বছরের মার্চে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দেশটিতে স্কুলের পর প্রাইভেট পড়ানোর যে ধারা গড়ে উঠেছে তাকে ‘সামাজিক সমস্যা’ বলে অভিহিত করার পর থেকে এই খাতটি চাপে ছিল।

এরপর দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিশু ও কিশোরদের ওপর চাপ কমানোর পরিকল্পনা করে অভিভাবকদের তাদের শিশুদের প্রাইভেট পড়াতে না পাঠানোর আহ্বান জানানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের হোমওয়ার্ক না দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

সন্তানদের প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে পরিবারগুলোর ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে আর এ বিষয়টি জন্মহার হ্রাস করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে বলে শনিবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

শুক্রবার ব্যাপকভাবে প্রচারিত সরকারি একটি নথিতে এ বিষয়ক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে, সিনহুয়ার এই সংবাদে তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।       

সিনহুয়া জানিয়েছে, স্টেট কাউন্সিলের নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী এই খাতে বিদেশি বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।

পাশাপাশি পাঠ্যক্রমভিত্তিক প্রাইভেট পড়ানোর প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তি বা অন্য কোনো পুঁজি সংক্রান্ত তৎপরতা চালানোও বন্ধ করা হচ্ছে। অপরদিকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিকগুলোকে এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের অনুমতিও দেওয়া হবে না বলে বিধিতে বলা হয়েছে। 

এই নীতিতে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের ওপর চেপে বসা অর্থিক চাপ তিন বছরের মধ্যে ‘উল্লেখযোগ্যভাবে’ হ্রাস করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে সিনহুয়া জানিয়েছে।  

অনেক পরিবারের জন্যই পদক্ষেপটি একটি স্বস্তির বিষয় হয়ে এসেছে। 

দুই শিশুর অভিভাবক সাংহাইয়ের উ শাওমি বলেন, “শেষ পর্যন্ত সরকার শিক্ষার এই উন্মত্ততার দিকে নজর দিল দেখে আমাদের ভাল লাগছে। অন্য অভিভাবকদের একই কাজ করতে দেখে আমরাও চাপে পড়ে আমাদের সন্তানদেরও অনেকগুলো প্রাইভেট পড়ানোর প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছি।  

“আমাদের সন্তানরা অন্যদের পেছনে পড়ে যাক তা চাই না আমরা, কিন্তু এত চাপ শুধু আমাদের ওপর না ওদের ওপরও। তাই এই এই আইন আশা করছি আমাদের ওপর আর্থিক চাপ কমিয়ে সন্তানদের গড়ে তোলার বিষয়টি সহজ করবে।”