সারা এভারার্ড হত্যা: ব্রিটিশ পুলিশ কর্মকর্তার আজীবন কারাদণ্ড

সারা এভারার্ড হত্যাকাণ্ডের রায় শোনার অপেক্ষায় গণমাধ্যমকর্মীরা। ছবি রয়টার্সের
লন্ডনের রাস্তা থেকে এক নারীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ব্রিটিশ এক পুলিশ কর্মকর্তাকে আজীবন কারাদণ্ড দিয়েছে ইংল্যান্ডের এক আদালত।

গত ৩ মার্চ স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে ৩৩ বছর বয়সী সারা এভারার্ড দক্ষিণ লন্ডনে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করে বাড়ি ফিরছিলেন; সেসময় লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তা ওয়েইন কুজেনস তাকে গ্রেপ্তারের নামে জোর করে একটি ভাড়া করা গাড়িতে তোলেন।

সপ্তাহখানেক পরে দক্ষিণপূর্ব ইংল্যান্ডের একটি গাছপালায় পরিপূর্ণ এলাকায় এভারার্ডের মৃতদেহ মেলে।

এ ঘটনা যুক্তরাজ্যকে তুমুল নাড়া দেয়; দেশটির বিভিন্ন শহরে নারীর ওপর সহিংসতার বিরুদ্ধে একাধিক কর্মসূচিও হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

৪৮ বছর বয়সী কুজেনস বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রাঙ্গণ পাহারার দায়িত্বে ছিলেন, এভারার্ডকে অপহরণের সময় তিনি তার পুলিশ পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন বলে জানতে পেরেছে ওল্ড বেইলির আদালত।

আজীবন কারাদণ্ড হওয়ায় কুজেনসের প্যারোলে মুক্তির সুযোগ থাকছে না।

“কোনো কিছুই আমাদের আনন্দ দিতে পারবে না, কোনোকিছুই আর সারাকে ফেরাবে না। কিন্তু তাকে (কুজেনস) যে আজীবন জেলে থাকতে হবে, এটা জেনে স্বস্তি পাচ্ছি।

“পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ওয়েইন কুজেনস বিশ্বাস করা যায় এমন একটি অবস্থানে ছিলেন, কিন্তু সারাকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি সেই বিশ্বাসটি ভঙ্গ করেছেন, এতে আমরা ক্ষুব্ধ ও পীড়িত,” বিবৃতিতে বলেছে এভারার্ডের পরিবার।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, এভারার্ড গুম হওয়ার আগমুহুর্তে তিনি তার হাতে হ্যান্ডকাফ দেখেছিলেন।

পুলিশের তদন্ত দল জানিয়েছে, এভারার্ডকে গ্রেপ্তারের নাম করে তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে কুজেনস সম্ভবত কোভিড-১৯ নির্দেশনাকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছিলেন। 

কুজেনস দীর্ঘদিন ধরেই কাউকে হেফাজতে নিয়ে তার ওপর যৌন নির্যাতনের পরিকল্পনা করছিলেন বলে ধারণা বিচারক অ্যাড্রিয়ান ফুলফোর্ডের।

“এই উদ্দেশ্যেই যে অভিযুক্ত নিজের পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া কারণ দেখিয়ে এভারার্ডকে ভাড়া করা একটি গাড়িতে তুলেছিলেন, সে বিষয়ে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই,” বলেছেন তিনি।

মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, তারা কুজেনসের কৃতকর্মে ‘লজ্জিত, পীড়িত ও ক্রুদ্ধ’।

পুলিশ কমিশনার ক্রেসিডা ডিক নিহত এভারার্ডের পরিবারের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন।

“আমাদের পুলিশ থাকবে আমাদের রক্ষা করতে। আমি জানি, তার (কুজেনস) কর্মকাণ্ডে আমাদের মতোই অনেক পুলিশ কর্মকর্তাও স্তম্ভিত ও অসহায় বোধ করছেন,” বলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতা হ্যারিয়েন হারমান এ ঘটনায় ডিকের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

“সারা এভারার্ড হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। নারীদের পুলিশকে বিশ্বাস করার কথা, ভয় পাওয়ার কথা নয়। (এ ঘটনায়) পুলিশের ওপর নারীদের আস্থা একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে,” বলেছেন তিনি।