অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিয়ে সংকট: ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য টানাপড়েন বাড়ছে

ছবি রয়টার্সের
ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করা অভিবাসন প্রত্যাশীদের ফিরিয়ে নিতে ফ্রান্সকে লেখা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের চিঠির ভাষ্যে ক্ষুব্ধ হয়ে ক্যালেতে হতে যাওয়া এক বৈঠকে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেলকে দেওয়া আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নিয়েছে প্যারিস।

রোববারের ওই বৈঠকে যুক্তরাজ্য ছাড়াও বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি এবং ইউরোপিয়ান কমিশনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ফ্রান্স।

প্যাটেলের আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করা হলেও বাকিদের নিয়ে অভিবাসন প্রত্যাশীদের সৃষ্ট সংকট নিরসনে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, জনসনের চিঠি ফ্রান্সকে হতাশ করেছে।

“চিঠিটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা আরও খারাপ হয়েছে,” তিনি এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।  

বুধবার ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ফ্রান্স থেকে যুক্তরাজ্য যাওয়ার পথে ক্যালের উপকূলে রাবারের ডিঙ্গি চুপসে গিয়ে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার জন্য দুই দেশ একে অপরকে দোষারোপ করে আসছে।

জনসন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে লেখা তার চিঠিতে বুধবারের মতো ‘বেদনাদায়ক ঘটনা’ এড়াতে ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য যৌথ টহল চালু, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, অভিবাসন প্রত্যাশীদের ফ্রান্সে ফিরিয়ে নিতে দ্রুত একটি চুক্তি করাসহ বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

ইংলিশ চ্যানেলে পাড়ি দিতে গিয়ে ‍যুক্তরাজ্যগামী ২৭ শরণার্থীর মৃত্যু  

“ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর খোলা চিঠিটিকে অগ্রহণযোগ্য এবং অংশীদারদের মধ্যে আলোচনার পাল্টা হিসেবে বিবেচনা করছি আমরা। যার ফলস্বরূপ প্রীতি প্যাটেলকে জানানো আমন্ত্রণ আর থাকছে না,” বলেছেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল ডারমানো।

যুক্তরাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী গ্র্যান্ট শ্যাপস প্রধানমন্ত্রীর চিঠির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছেন, যে কোনো সংকটে বন্ধু ও প্রতিবেশীদের একসঙ্গে কাজ করতে হয়।

“কোনো দেশই এটা (অভিবাসন প্রত্যাশীদের চাপ) একা সামাল দিতে পারবে না। ফ্রান্স তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে বলে আমি আশাবাদী,” বলেছেন তিনি।