পরকীয়া সম্পর্কে নিপীড়নের অভিযোগ, অস্ট্রেলীয় মন্ত্রীর পদত্যাগ

ছবি: ইউটিউব ভিডিও
পরকীয়া সম্পর্কে নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তের মুখে পড়ে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষামন্ত্রী অ্যালান টজ।

বিবিসি জানায়, অ্যালানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তারই সাবেক এক নারী সহকর্মী র‌্যাশেল মিলার। তিনি ছিলেন অ্যালেনের গণমাধ্যম উপদেষ্টা।

২০১৭ সালে অ্যালেনের সঙ্গে বিবাহবহিভূত সম্পর্কে জড়ানো এবং সেই সম্পর্ক চলাকালে শারীরিক ও মানসিকভাবে নিপীড়নের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন মিলার।

তবে অ্যালান টজ তার বিরুদ্ধে ওঠা এমন অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে ঘটনাটির তদন্ত শুরু হওয়ায় এই সময়ের জন্য অ্যালান টজ পদত্যাগে রাজি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

অ্যালানের সঙ্গে সম্পর্কের কথা র‌্যাশেল মিলার একবছর আগেই জনসম্মুখে প্রকাশ করেছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত আরও কিছু কথা জানান।

মিলার বলেন, সম্পর্ক চলাকালে ‘বড় ধরনের ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা’ তৈরি হয়েছিল। অ্যালেনের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ চলে গিয়েছিলেন তিনি। কর্মক্ষেত্রে তিনি উৎপীড়ন, হুমকি-ধামকি এবং হয়রানির শিকার হয়ে নিজের দক্ষতার ওপর আত্মবিশ্বাস সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেছিলেন।

“আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে আমি আর কোথাও চাকরি পাব। প্রায়ই আমি কাঁদতাম,” বলেন মিলার। অ্যালেনের সঙ্গে সম্পর্কে চিড় ধরার পর মিলার ক্ষমতাসীন দলে অন্য কোনও কাজের ক্ষেত্রে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ হয়ে গেছেন বলেই বোধ করেছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টের এক তৃতীয়াংশ কর্মী যৌন হয়রানির শিকার- এক তদন্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য বেরিয়ে আসার পর ক্যাবেরার রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং রাজনীতিবিদদের আচরণ নিয়ে বিস্তর আলোচনা শুরু হওয়ার মধ্যেই সামনে এল মিলারের এইসব অভিযোগ।

অ্যালেন টজ তার সাবেক সহকর্মী মিলারের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করলেও মিলারকে নিপীড়ন করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।