হত্যা, গুম: তালেবানকে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ

ছবি রয়টার্সের
আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক সদস্যদের খুঁজে খুঁজে হত্যা ও গুম বন্ধে তালেবানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।

এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে, আফগানিস্তানের সাবেক সরকারি কর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের কোনো ধরনের ক্ষতি না করার যে প্রতিশ্রুতি তালেবান দিয়েছিল, তা তাদের মেনে চলা উচিত।

“বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম সংক্রান্ত যেসব খবর মিলছে তাতে আমরা গভীর উদ্বিগ্ন,” বিবৃতিতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আরও ২০টি দেশ।

অগাস্টে ক্ষমতা দখলের পর থেকে তালেবান আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর শতাধিক সাবেক সদস্যকে হত্যা ও গুম করেছে- এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় তারা এ বিবৃতি দিল বলে জানিয়েছে বিবিসি।

গত সপ্তাহে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে তালেবানের ক্ষমতা দখলের ৪ মাসে একসময় আফগান নিরাপত্তা বাহিনীতে কর্মরত ১০০র বেশি সদস্যকে হত্যা ও গুমের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

একই প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ অগাস্ট থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে তালেবান তাদের হাতে ধরা পড়া অথবা আত্মসমর্পণ করা নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক ৪৭ সদস্যকে হত্যা করেছে।

তালেবান ক্ষমতা দখলের পর আফগানিস্তানের আগের সরকারগুলোর কর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক সদস্যদের কোনো ধরনের ক্ষতি করা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছিল। তা সত্ত্বেও এ হত্যা-গুম চলছে বলে জানায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

এ প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় দেওয়া বিবৃতিটি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র, সেখানে তাদের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও আরও ১৯ দেশের স্বাক্ষর দেখা গেছে।

সংক্ষিপ্ত এ বিবৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের পাশাপাশি প্রতিটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়।

“আমরা তালেবানকে তাদের পদক্ষেপ দিয়েই বিচার করবো,” বিবৃতির শেষে এমনটাই বলে তারা।

বিবিসি লিখেছে, তালেবানের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আগে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিস্তর ফারাক দেখা যাচ্ছে। অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদনেও তাদের ‘টার্গেট কিলিংয়ের’ কথা উঠে এসেছে।

অগাস্টে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক সদস্যরা তাদের পরিবার নিয়ে বসবাস করেন এমন এক গ্রামে ৩০ অগাস্ট ৩০০ তালেবান যোদ্ধা গিয়ে হাজির হন।

এরপর ওই যোদ্ধারা তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করা আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক ৯ সদস্যকে হত্যা করেন, তালেবানের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান নিরাপত্তা বাহিনীর আরও ২ সাবেক সদস্য; দুই পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে নিহত হয় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীসহ ২ বেসামরিক।