কোভিড: ভারতে দৈনিক শনাক্ত ৮ মাসে সর্বোচ্চ

ভারতে দিনে শনাক্ত কোভিড রোগীর সংখ্যা আট মাস পর আবার সর্বোচ্চে পৌঁছল। গত ২৪ ঘন্টায় দেশটিতে ২ লাখ ৮২ হাজার ৯৭০ জন নতুন কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এ নিয়ে ভারতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৩ কোটি ৭৯ লাখে।

কেরালায় নথিভুক্ত না হওয়া আগের ৮৩টি মৃত্যুসহ ৪৪১টি নতুন মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে ভারতের তালিকায়। এতে এবছর মৃতের পরিসংখ্যানও সর্বোচ্চ পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে।

আর ওমিক্রনের জেরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সর্বশেষ যে ঢেউ চলছে, তা কতটুকু গুরুতর হবে সেটি হাসপাতাল ও মৃত্যুর তথ্যে বেরিয়ে আসার আগে সংক্রমণ কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, ওমিক্রনের ফলে হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তি এবং মৃত্যুর সংখ্যা ডেল্টা ধরনের তুলনায় অনেক কম।

তবে চেন্নাইয়ের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি’র বিশেষজ্ঞ তরুণ ভাটনাগর বলেন, সাম্প্রতিক সংক্রমণের প্রভাব দীর্ঘায়িত হতে পারে।

ফোনে একটি সাক্ষাৎকারে রয়টার্সকে তরুণ বলেন, “হাসপাতালে রোগী ভর্তি এবং মৃত্যু নিয়ে আমাদেরকে চিন্তিত থাকতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিটা পরবর্তীতে আসবে। দুই-তিন সপ্তাহের টানা এমন একটি পরিস্থিতি সবসময়ই থাকবে।”

ভারতের বড় শহরগুলোতে কোভিড সংক্রমণের হার বর্তমানে নিম্নগামী হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয়ভাবে সামনের মাসের মাঝামঝি সময়ে সংক্রমণ শিখরে পৌঁছে যেতে পারে।

ভারতে ৯৩ কোটি ৯০ লাখ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ইতোমধ্যে টিকার দুটি ডোজ গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্যকর্মী ও ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে বুস্টার ডোজ দেওয়ার কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

তবে অনেকেই এখনও টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। তরুণ ভাটনাগর কয়েকটি রাজ্যের রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, কোভিড টিকা না নেওয়া এবং টিকার পূর্ণ ডোজ গ্রহণ না করা ৯০ শতাংশের বেশি মানুষই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোর রোগী।

ভারত বুধবার প্রথম বড় ধরনের কোভিড পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংক্রমণের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করার পরপরই এই কার্যক্রম শুরু করেছে বিভিন্ন রাজ্য।

মঙ্গলবার দেশটি প্রায় ১৯ লাখ কোভিড-১৯ পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে, যা জানুয়ারি ১২ তারিখের পর সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ সক্ষমতা অনুযায়ী, প্রতিদিন ২০ লাখ মানুষের কোভিড পরীক্ষা করানোর পরিকল্পনা করেছে ভারত।