কোভিড: ভারতে দৈনিক শনাক্ত ৩ লাখ ছাড়াল

ছবি: রয়টার্স
বিশ্বে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রমনের দাপটের মধ্যে ভারতে দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে, সংক্রমণের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬.৪১ শতাংশে।

গত ডিসেম্বরের পর থেকে ভারতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কোভিডের সংক্রমণ, বেড়েছে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও। সংক্রমণ পরিস্থিতিতে বর্তমানে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের পরই ভারতের অবস্থান।

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার সেখানে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৫৩২ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে; বুধবার এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৮২ হাজার ৯৭০।

মহামারীর পুরো সময়ে দেশটিতে মোট ৩ কোটি ৮২ লাখের বেশি মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, গত বছর ১৫ মে একদিনে ভারতে ৩ লাখ ১১ হাজার ১৭০ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। ফলে গত এক দিনের নতুন রোগীর সংখ্যা গত আট মাসের সর্বোচ্চ।

গত একদিনে ভারতে আরও ৪৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে, আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৪৪১ জন। মহামারীর পুরো সময়ে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৬৯৩ জনের ‍মৃত্যু হয়েছে সেখানে।

ভারতের ২৯টি রাজ্যে কোভিড আক্রান্তদের মধ্যে যাদের নমুনা থেকে ভাইরাসের জেনোম সিকোয়েন্স করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ৯ হাজার ২৮৭ জনের ওমিক্রনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রেই ১ হাজার ৮৬০ জনের এবং পশ্চিমবঙ্গে ১ হাজার ৬৭২ জনের ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।

ওমিক্রনের প্রভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সর্বশেষ যে ঢেউ চলছে, তা কতটুকু গুরুতর হবে সেটি হাসপাতাল ও মৃত্যুর তথ্যে বেরিয়ে আসার আগে সংক্রমণ কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য জানিয়েছে, ওমিক্রনের ফলে হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তি এবং মৃত্যুর সংখ্যা ডেল্টা ধরনের তুলনায় অনেক কম।

তবে চেন্নাইয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজির বিশেষজ্ঞ তরুণ ভাটনাগর বলেছেন, সাম্প্রতিক সংক্রমণের প্রভাব দীর্ঘায়িত হতে পারে।

বুধবার দেশটিতে দৈনিক সংক্রমণের হার ছিল ১৫.১৩ শতাংশ, গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়ে হয়েছে ১৬.৪১ শতাংশ।

কোভিড আক্রান্তের দিক থেকে সবথেকে বেশি নাজুক অবস্থা মহারাষ্ট্রের। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৪৩ হাজার ৬৯৭ জন কোভিড শনাক্ত হয়েছেন, তার মধ্যে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে ২১৪ জনের শরীরে। একদিনে হিসেবে বৃহস্পতিবার সেখানে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এরপরই রয়েছে দিল্লি, সেখানে ১৩ হাজার ৭৮৫ জন কোভিডে সংক্রমণ ও ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে সক্রিয় কোভিড রোগীর সংখ্যা ৭৫ হাজার ২৮২ জন।

ভারতে ৯৩ কোটি ৯০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ইতোমধ্যে টিকার দুটি ডোজ পেয়েছেন। স্বাস্থ্যকর্মী ও ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে বুস্টার ডোজ দেওয়ার কার্যক্রমও চলছে। তবে অনেকেই এখনও টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

তরুণ ভাটনাগর কয়েকটি রাজ্যের তথ্য জানিয়ে বলেছেন, হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে এখন যারা চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের ৯০ শতাংশের বেশি টিকা নেননি, অথবা টিকার পূর্ণ ডোজ পাননি।

 

পুরনো খবর

কোভিড: ভারতে দৈনিক শনাক্ত ৮ মাসে সর্বোচ্চ  

কোভিড চিকিৎসায় স্টেরয়েড এড়িয়ে চলার পরামর্শ ভারতে  

আরও পড়ুন