ভাইরাল ছবির কল্যাণে ইতালিতে সিরীয় শরণার্থী পরিবার

সিরিয়া সীমান্তবর্তী তুরস্কের দক্ষিণের একটি শরণার্থী শিবিরে মুনজির এল নাজেল এবং তার ছেলে মুস্তফা। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে তুরস্কের আলোকচিত্রী মেহমেত আসলানের তোলা এই ছবিটি একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জেতার পাশাপাশি অনলাইনে ভাইরাল হয়।
সিরিয়ায় বোমা হামলায় বাবা হারিয়েছেন পা। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের বিভীষিকা ছেলের শরীরে; চার হাত-পা ছাড়াই তার জন্ম হয়েছে। তুরস্কের একটি শরণার্থী শিবিরে এই ‍বাবা-ছেলে জুটির ছবি তোলেন তুর্কি আলোকচিত্রী মেহমেত আসলান।

‘হার্ডশিপ অব লাইফ’ শিরোনামে ওই ছবিতে ক্রসে ভর করে দাঁড়ানো  বাবা তার ছেলেকে আকাশে তুলে ধরেছেন। দুজনের মুখেই হাসি।

মেহমেত ছবিটি ‘সিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল ফটো অ্যাওয়ার্ডস’ প্রতিযোগিতায় পাঠান এবং সেটি গত বছরের সেরা ছবির পুরস্কার জেতে। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে তোলা ওই ছবিটি অনলাইনে বিশেষ করে ইতালিতে ভাইরাল হয়ে যায়।

‘সিয়েনা ইন্টারন্যালনাল ফটো অ্যাওয়ার্ডস’ কর্তৃপক্ষ তুরস্কের শরণার্থী শিবিরে বসবাস করা পরিবারটিকে ইতালিতে আনার উদ্যোগ নেন।

ছবিতে থাকা ব্যক্তির নাম মুনজির এল নেজেল। তার ছেলের নাম মুস্তফা।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, শুক্রবার শরণার্থী ওই পরিবারটি ইতালি পৌঁছেছে।

তুরস্কের আঙ্কারা থেকে বৃহস্পতিবার ইতালির ফ্লাইটে উঠার আগে এক ভিডিও বার্তায় ছয় বছরের মুস্তফা হাসি মুখে বলে, ‘‘আমরা আসছি, ধন্যবাদ। আমরা ইতালিকে ভালোবাসি।”

মুস্তফা ছাড়াও তার চার ও এক বছর বয়সের দুইটি বোন রয়েছে। বাবা-মা এবং তিন ভাইবোনের সবাই ইতালি পৌঁছেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া মুস্তফা এবং তার বাবার ছবিটি মানুষের আবেগকে নাড়িয়ে দেয়। ইতালিতে ছবিটি খবরের শিরোনাম হয়। বাবা-ছেলের চিকিৎসার জন্য তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়। সেই সঙ্গে সবাই উৎসব আয়োজকদের বাবা-ছেলের জন্য কিছু করার আহ্বান জানায়।

সিয়েনা ফটোগ্রাফি ফেস্টিভাল এর প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী লুকা ভেন্তুরি বলেন, ‘‘ওই ছবিটি সব কল্পনাকে হার মানিয়েছে। আমাদের বিশ্বাস ছিল, ওই পরিবারটির জন্য কিছু করতে পারার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের ভয় কে জয় করতে পারবো।”

অন্যান্য দেশের মত ইতালিও মানবিক কারণে শরণার্থীদের ভিসা দেয়। কিন্তু সেজন্য অবশ্যই স্থানীয় কোনো সংগঠনকে শরণার্থীর পৃষ্ঠপোষক হতে হবে। যাতে তারা ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি এবং আর্থিক সহায়তা দিতে পারে।

মুস্তফার পরিবার কে আর্থিক সহায়তা দিতে ‍অনেক মানুষ এগিয়ে আসেন। তাদের থেকেই প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ হয়ে যায়। এরপর ফটোগ্রাফি ফেস্টিভ্যাল থেকে তাদের পরিবারকে স্পন্সর করা হয়।

ভেন্তুরি বলেন, ‘‘এটা সবার জন্য বিশাল বড় স্বপ্ন।”

মুস্তফার পরিবারকে ইতালিতে আনতে ভেন্তুরি নিজেই যোগাযোগ শুরু করেন। তিনি তুলস্কে মুস্তফার বাবা এল নেজেলের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।

ভেন্তুরি জানান, ‘‘এ মাসে তাদের আমি যখন জানাই তাদের ভিসা হয়ে গেছে, তারা বিশ্বাস করতে পারছিল না। মুস্তফা ডিগবাজি খাচ্ছিল আর হাসছিল। চিৎকার করে বলছিল, ‘আমি আপনাকে ভালোবাসি’।”

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, সিরিয়ায় বিষাক্ত নার্ভ গ্যাস হামলার সময় মুস্তফার মা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং তাকে নানা ধরনের ওষুধ খেতে হয়েছিল। মুস্তফা ওই সময় মায়ের পেটে ছিল।

মুস্তফা এবং তার বাবার জন্য ইতালিতে প্রস্থেটিক অঙ্গের ব্যবস্থা করা হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রস্থেটিক বিশেষজ্ঞরা তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।