নুসরাত ঘানির মুসলিম-বিদ্বেষের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিলেন জনসন

‘মুসলমান হওয়ার কারণে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন’, যুক্তরাজ্যের এমপি নুসরাত ঘানির তোলা এ অভিযোগ তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

জনসন ক্ষমতায় আসার পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মন্ত্রিসভার রদবদলের সময় পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা নুসরাত বাদ পড়েন।

‘দ্য সানডে টাইমস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কনজারভেটিভ এমপি নুসরাত দাবি করেন, তাকে বাদ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যায় একজন হুইপ তাকে বলেছেন, ‘‘মুসলমানদের নিয়ে ‘একটি সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং একজন মুসলমান নারী হিসেবে তিনি তার সহকর্মীদের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন’।’’

সানডে টাইমসে এ খবর প্রকাশ করার পর ডাউনিং স্ট্রিট থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘এমপি নুসরাত ঘানি যে ‍অভিযোগ তুলেছেন, সেটি নিয়ে তদন্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন কেবিনেট অফিসকে নির্দেশ দিয়েছেন।

‘‘তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি ওই অভিযোগ খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন।” নুসরাতের অভিযোগের তীর কনজারভেটিভ চিফ হুইপ মার্ক স্পেন্সারের দিকে। স্পেন্সার নিজেই তা স্বীকার করেছেন।

নুসরাতের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এটি তার জন্য মানহানিকর বলে দাবি করেন স্পেন্সার। তিনি বলেন, ‘‘নুসরাত যে অভিযোগ তুলেছেন আমি কখনওই তার বিরুদ্ধে তেমন কোনো শব্দ উচ্চারণ করিনি।”

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ার পর নুসরাত যে ‘গুরুতর অভিযোগ’ তুলেছিলেন তা নিয়ে আলোচনার জন্য ২০২০ সালের জুলাই মাসে তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জনসন সাক্ষাৎ করেন বলে রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র।

ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বলা হয়, নুসরাত প্রথম যখন ‍অভিযোগ তোলেন তখন প্রধানমন্ত্রী জনসন তাকে কনজারভেটিভ ক্যাম্পেইন হেডকোয়ার্টার্সে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দিয়েছিলেন। ‘‘কিন্তু তিনি তখন সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।”

সম্প্রতি কনজারভেটিভ দলের একজন এমপি সরকারি দলের হুইপদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে পুলিশের কাছে যাওয়ার কথা বলেছেন। তার সন্দেহ, লকডাউনে পার্টি কাণ্ডে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করতে চাপ দিতে হুইপরা এমপিদের ‘ব্ল্যাকমেইল’ করার চেষ্টা করছে।

এর পরপরই নুসরাত কনজারভেটিভ দলের চিফ হুইপ মার্ক স্পেন্সারের বিরুদ্ধে তার পুরনো অভিযোগ নিয়ে আবার সরব হয়েছেন।

কোভিড-১৯ মহামারীর সংক্রমণ বিস্তার রোধে ২০২০ সালে যুক্তরাজ্য জুড়ে যখন কঠোর লকডাউন চলছিল। তখন ডাউনিং স্ট্রিটের বাগানে মদের পার্টি আয়োজন এবং সেই পার্টিতে প্রধানমন্ত্রী জনসনের উপস্থিত থাকা নিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে উত্তেজনা চলছে।

এ কাণ্ডে এমনকী জনসনের কনজারভেটিভ দলের অনেক এমপি তার পদত্যাগ দাবি করছেন।

আরও পড়ুন