ক্রান্তীয় ঝড় আনার তাণ্ডবে মোজাম্বিক ও মালাউইতে নিহত ১২

গত কয়েকদিন ধরে চলা ভারি বৃষ্টিতে মাদাগাস্কারে একটি গাড়ি রাখার স্থাপনা ধসে পড়ার পর দমকল কর্মীরা ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালাচ্ছেন। ছবি: নিউজ টোয়েন্টিফোর
ক্রান্তীয় ঝড় আনার তাণ্ডবে আফ্রিকার দুই প্রতিবেশী দেশ মোজাম্বিক ও মালাউইতে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছে।

দেশ দুটির কর্তৃপক্ষগুলো প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর জানিয়েছে।

সোমবার সাগর থেকে স্থলে উঠে আসার পর থেকে আনার প্রভাবে সেখানে ভারি বৃষ্টি হচ্ছে ও প্রবল বাতাস বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

মোজাম্বিকের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ৮ জন নিহত ও ৬৬ জন আহত হয়েছে আর ১১৫টি বাড়ি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত ও ৫৪৬টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মালাউইর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, ৪ জন নিহত ও আরও ৩০ জন আহত হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিপাতে দেখা দেওয়া বন্যায় ঘরহারা লোকজন গির্জা ও স্কুলগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে।  

ঝড়ের কারণে মালাউইর অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় দেশটিতে উৎপাদিত বিদ্যুতের মাত্র ৩০ শতাংশ কার্যকার ছিল বলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি ইজিইএনসিও জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি বলেছে, ঝড়ে কাপিচিরা জলবিদ্যুৎ স্টেশনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং হড়কা বানে বাঁধের কাঠামোর একটি অংশ ধসে পড়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে মোজাম্বিক ও আফ্রিকার দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের অনেক দেশ একের পর এক প্রবল ঝড় ও ঘূর্ণিঝড়ের মুখে পড়ছে। এতে বহু অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাড়িঘর হারিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মহাসাগরগুলোর পানি উষ্ণ হয়ে ওঠায় ঝড়গুলো ক্রমেই আরও শক্তিশালী হচ্ছে আর সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলগুলো অরক্ষিত হয়ে উঠেছে।

মোজাম্বিকের দুর্যোগ ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, আনার কারণে প্রায় ৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

দেশটির আবহাওয়া ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, আনা দুর্বল হয়ে ‘মাঝারি ধরনের ক্রান্তীয় ঝড়’ থেকে ‘ক্রান্তীয় নিম্নচাপে’ পরিণত হয়েছে।