ইউক্রেইন: কূটনীতির জন্য দরজা খোলা রেখেছে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র

ইউক্রেইন সীমান্তে প্রায় এক লাখ সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছে রাশিয়া। ছবি: রয়টার্স
রাশিয়া বলেছে, ইউক্রেইন নিয়ে চলমান অচলাবস্থায় তাদের প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্র আমলে নিতে রাজি নয় এটি পরিষ্কার হয়ে গেলেও দুই পক্ষই আরও আলোচনার জন্য তাদের দরজা খোলা রেখেছে।

রাশিয়া ইউক্রেইন সীমান্তের কাছে সেনা সমাবেশ করার পর দেশটিতে মস্কো আগ্রাসন চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন আশংকায় শঙ্কিত হয়ে ওঠে পশ্চিমা শক্তিগুলো। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেইনকে নতুন করে প্রতিরক্ষা সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

এরপর ইউরোপে স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে সাজানোর দাবি জানায় রাশিয়া, বুধবার এসব দাবির লিখিত জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও নেটো।

এর প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ বলেছেন, পর্যালোচনার জন্য মস্কোর সময় প্রয়োজন এবং সিদ্ধান্ত নিতে তারা তাড়াহুড়া করবে না।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও নেটো তাদের বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রধান দাবিগুলোকে অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করায় এক্ষেত্রে আশাবাদী হওয়ার তেমন একটা সুযোগ নেই।

পেশকভ বলেন, “গতকাল আমাদের সহকর্মীরা (যুক্তরাষ্ট্র ও নেটো) যা বলেছেন তার ভিত্তিতে এটি পুরোপুরি পরিষ্কার যে ওইসব খসড়া নথিতে বর্ণিত প্রধান বিভাগগুলোতে আমাদের চিন্তা আমলে নেওয়া হয়েছে অথবা আমাদের উদ্বেগ আমলে নেওয়ার কোনো সদিচ্ছা দেখানো হয়েছে, এমনটি আমরা বলতে পারবো না; কিন্তু আমরা আমাদের মূল্যায়ন নিয়ে তাড়াহুড়া করবো না।”

রয়টার্স বলেছে, ক্রেমলিনের এই সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় দেখা যাচ্ছে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও নেটোর জবাব ফেলে দিচ্ছে না বা কূটনীতির জন্য দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে না। 

ওয়াশিংটন বলেছে, রাশিয়া তাদের জবাব পড়ে দেখবে এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে এমনটি আশা করছে তারা ও তাদের মিত্ররা।

যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড বলেছেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধ, কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা ঐক্যবদ্ধ। তবে এই সঙ্কল্পেও আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি যে, যদি মস্কো আমাদের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তবে এর মূল্য অবশ্যই দ্রুত ও মারাত্মক হবে।”

রাশিয়া ইউক্রেইনে আগ্রাসন চালালে, পশ্চিম ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস পাঠানোর জন্য যে গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন চালু করার কথা তা স্থগিত করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

‘নর্ড স্ট্রিম টু’ নামের এই পাইপলাইন রাশিয়া থেকে জার্মানি যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার বার্লিনের কর্মকর্তারা বলেছেন, রাশিয়া হামলা চালালে এই প্রকল্পটি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।

আগ্রাসন চালালে রাশিয়ার অর্থনীতিকে লক্ষ্যস্থল করা হবে বলে জানিয়েছে পশ্চিমা শক্তিগুলো। অপরদিকে আগ্রাসনের পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে রাশিয়া।

আরও পড়ুন:

ইউক্রেইন উত্তেজনা: রাশিয়া যদি গ্যাস বন্ধ করে দেয়? উদ্বেগে ইউরোপ