রাশিয়ার দখল থেকে ইউক্রেইনের গ্রামকে বাঁচিয়েছে বন্যা

ইউক্রেইনের রাজধানী কিইভের উত্তরে ছোট একটি গ্রাম ইচ্ছাকৃত বন্যা ঘটিয়ে রাশিয়ার দখলদারিত্ব থেকে রক্ষা পেয়েছে।

এ বন্যার কারণে ওই গ্রামের ফসলের ক্ষেত ও ভূগর্ভস্থ শস্য ভাণ্ডার ডুবে গেলেও তাদের ত্যাগের মূল্যে রাশিয়ার একটি আক্রমণ থেকে রাজধানী রক্ষা পেয়েছে বলে গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথমদিকে দেমেদিভে থাকা ইউক্রেইনীয় বাহিনীগুলো এরপিন নদীর একটি বাঁধ খুলে দেয়, এতে ওই গ্রাম ও সংলগ্ন কয়েক হাজার একর এলাকা পানিতে ডুবে যায়।

রাশিয়ার সেনা ও ট্যাঙ্কগুলোর ইউক্রেইনের প্রতিরক্ষা লাইন ভেদ করে রাজধানীর দিকে এগিয়ে যাওয়া এই পদক্ষেপের কারণেই বন্ধ হয়েছে বলে কৃতিত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাঁধ খুলে দেওয়া ভালো হয়েছিল কিনা এ প্রশ্নে দেমেদিভের বাসিন্দা ভলোদিমির আর্তেমচুক বলেন, “অবশ্যই সেটা ভালো ছিল। কী হতো যদি তারা (রাশিয়ার বাহিনীগুলো) ছোট এই নদীটি পার হয়ে কিইভে ঢুকে পড়ত?”

গ্রামটির বাসিন্দা ওলেকসান্দর রিবালকো (৩৯) জানিয়েছেন, বন্যায় অনেক ক্ষেতের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি ডুবে গেছে।

ওই ঘটনার প্রায় দুই মাস পর এখনও গ্রামটির বাসিন্দারা বন্যার কারণে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির মোকাবেলা করছেন। তারা আশপাশে যেতে রাবারের ডিঙ্গি ব্যবহার করছেন এবং যেটুকু শুকনো জমি আছে তাতে শাকসব্জি ও ফুল রোপণ করছেন।

ইউক্রেইনে তিন মাস ধরে চলা রাশিয়ার আক্রমণে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, শহরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং দেশটির লাখ লাখ বাসিন্দা প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে গেছে।

মস্কো বলেছে, নব্য নাৎসিদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার লক্ষ্যে ইউক্রেইনকে নিরস্ত্র করতে দেশটিতে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ চালাচ্ছে তারা।

অপরদিকে ইউক্রেইন ও পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, নাৎসিবাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং রাশিয়া বিনা উস্কানিতে ইউক্রেইনে আগ্রাসন চালাচ্ছে।