ইউক্রেইনকে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দিতে চায় হোয়াইট হাউস

ছবি: রয়টার্স
রাশিয়ার নৌ অবরোধকে পরাস্ত করতে ইউক্রেইনের যোদ্ধাদের হাতে অত্যাধুনিক জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছে দিতে হোয়াইট হাউস কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

শক্তিশালী অস্ত্র রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিলে ইউক্রেইন সংঘাতের তীব্রতা  আরও বাড়াতে পারে এমন উদ্বেগ সত্ত্বেও ওয়াশিংটন এ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে বলে জানিয়েছেন তারা।

নিজেদের ভাণ্ডারে এখন যেসব গোলা, জেভেলিন ও স্টিঙ্গার ক্ষেপণাস্ত্র আছে তার চেয়েও অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী অস্ত্র পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ইউক্রেইন কখনোই গোপন রাখেনি, তারা যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে সেগুলোই চায়।   

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কিইভের চাওয়া অস্ত্রের তালিকায় সেই ধরনের অস্ত্রও ছিল, যা রুশ নৌবাহিনীকে ইউক্রেইনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলো থেকে দূরে সরিয়ে দেবে। তেমনটা হলে ওই বন্দরগুলোর মাধ্যমে শস্য ও নানান কৃষিজাত পণ্যের চালান বিশ্বব্যাপী ফের পাঠানো শুরু করতে পারবে ইউক্রেইন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা এবং মার্কিন কংগ্রেসের বিভিন্ন সূত্র এর আগে ইউক্রেইনে শক্তিশালী অস্ত্র পাঠানোর ক্ষেত্রে সেসব অস্ত্র চালাতে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণে জটিলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র শেষ পর্যন্ত রুশ বাহিনীর হাতে চলে যেতে পারে ও যুদ্ধের তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কাসহ নানান বাধাবিপত্তির উল্লেখ করেছিলেন।

রাশিয়ার হামলায় দনবাস ‘নরকে’ পরিণত হয়েছে: জেলেনস্কি  

কিন্তু তিন মার্কিন কর্মকর্তা ও কংগ্রেসের দুটি সূত্র এখন বলছে, বোয়িংয়ের বানানো হারপুন এবং কংসবার্গ-রেথন টেকনোলজিসের বানানো নেভাল স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্র, এই দুই ধরনের শক্তিশালী জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি বা ইউরোপের যে মিত্রদের কাছে এ ধরনের অস্ত্র আছে তাদের মাধ্যমে  ইউক্রেইনে পাঠানোর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এপ্রিলে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পর্তুগালের কাছে হারপুন ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছিলেন, যার পাল্লা প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

তবে বেশকিছু জটিলতার কারণে ইউক্রেইন এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পায়নি। এর একটি হল, সমুদ্রভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র হওয়ায় তীর থেকে হারপুন ছোড়ার প্ল্যাটফর্ম পাওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে; এই প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতার কথা একাধিক কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন।

এই সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ চলছে; সম্ভাব্য সমাধানের মধ্যে মার্কিন কোনো যুদ্ধজাহাজ থেকে একটি লঞ্চার খুলে নিয়ে যাওয়ার চিন্তাও করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, কৃষ্ণসাগরের ‘অপারেশনাল জোনে’ সাবমেরিনসহ প্রায় ২০টির মতো রুশ নৌযান রয়েছে।

হাডসন ইনস্টিটিউটের নৌ বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান ক্লার্ক বলছেন, ১০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ১২-২৪টি হারপুন জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে সক্ষম এবং এমন ক্ষেত্রে মস্কো তার নৌ অবরোধ তুলে নিতে রাজিও হতে পারে।

“এরপরও পুতিন অটল থাকলে ইউক্রেইন বড় বড় রুশ জাহাজে আঘাত হানতে পারবে, কেননা কৃষ্ণসাগরে তাদের লুকানোর জায়গা নেই,” বলেছেন ক্লার্ক।

ইউক্রেইনে অভিযান শুরুর পর ইতিমধ্যেই সমুদ্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে রাশিয়াকে, তাদের কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের ফ্ল্যাগশীপ জাহাজ মস্কভা ডুবে গেছে।

আরও পড়ুন