ইউক্রেইনের আগে নিজেদের স্কুল নিরাপদ করুন: ট্রাম্প

ইউক্রেইনে সামরিক সহায়তা পাঠানোর আগে বরং যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের নিজ দেশে স্কুলে নিজেদের শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করা উচিত বলেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

আগ্নেয়াস্ত্রের কেনাবেচা এবং ব্যবহার সহজ করার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে এমন একটি গ্রুপের আয়োজিত এক সম্মেলনে শুক্রবার ট্রাম্প এ কথা বলেন বলে জানায় বিবিসি।

সেখানে ট্রাম্প প্রশ্ন তোলেন, ‘‘কিভাবে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেইনে চার হাজার কোটি মার্কিন ডলার পাঠাতে পারছে, কিন্তু স্কুলগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না?”

গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক তরুণ একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে ১৯ শিক্ষার্থী (যাদের বয়স ৭ থেকে ১০ বছরের মধ্যে) এবং দুই শিক্ষককে গুলি করে হত্যা করে।

ছবি: রয়টার্স

ভয়াবহ ওই হামলার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের আগ্নেয়াস্ত্র আইন নিয়ে বিতর্ককে আবার উসকে দিয়েছে। কারণ ১৮ বছর বয়সী তরুণ সালভাদর রামোস বৈধভাবে কেনা অস্ত্র দিয়েই ওই হামলা করেছিল।

অনেকে মনে করেন, এ ধরনের হামলা বন্ধে দেশটির অস্ত্র আইন আরো কঠোর করা উচিত। যাতে চাইলেই কেউ অস্ত্র কিনতে বা বহন করতে না পারে।

ট্রাম্প অবশ্য কোনোভাবেই তাদের দলে নন। বরং তিনি অস্ত্র কেনাবেচা এবং বৈধভাব তা নিজের কাছে রাখতে আরো সহজ আইন চান।

টেক্সাসের হিউস্টনে শুক্রবার ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন (এনআরএ) এক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘‘জাতি হিসেবে বাকি বিশ্বকে নির্মাণ করার আগে আমাদের উচিত আমাদের নিজেদের দেশে নিজেদের শিশুদের জন্য নিরাপদ স্কুল তৈরি করা।”

ছবি: রয়টার্স

গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া প্রতিবেশী ইউক্রেইনে আগ্রাসন শুরুর পর এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহায়তা হিসেবে কিইভকে পাঁচ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার দিয়েছে বা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যার মধ্যে এ মাসের শুরুতে ইউক্রেইনের জন্য প্রায় চার হাজার কোটি মার্কিন ডলারের সামরিক সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে পাস হয়েছে।

কোভিড মহামারীর সময় ত্রাণ হিসেবে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে যে তহবিল দেয়া হয়েছিল সেখানে যে অর্থ অব্যবহৃত রয়ে গেছে তার প্রতিটি পয়সা ফেরত নিতে কংগ্রেসের দ্রুত ভোটের আয়োজন করা উচিত বলেও পরামর্শ দিয়েছেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, ‘‘অঙ্গরাজ্য থেকে ওই অর্থ ফেরত নিন এবং সেই অর্থ দিয়ে দ্রুত আমাদের দেশের সব স্কুলের জন্য দুর্ভেদ্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করুন।”

ছবি: রয়টার্স

তিনি অস্ত্র আইন আরো কঠোর করার বিপক্ষে মত দিয়ে বলেন, আমেরিকার ভদ্র নাগরিকদের ‘শয়তানের বিরুদ্ধে’ আত্মরক্ষার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া উচিত।

কিভাবে স্কুলগুলো নিরাপদ করা যায় সে বিষয়েও তিনি পরামর্শ দিয়েছেন। বলেছেন, স্কুল ক্যাম্পাসে প্রবেশের পথ সুরক্ষিত করা। এমনকি মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে দেহ তল্লাশি এবং প্রতিটি ক্যাম্পাসে অন্তত একজন অস্ত্রধারী পুলিশ কর্মকর্তাকে পাহারার জন্য নিযুক্ত করা।

ট্রাম্পের এই পরামর্শ যে একেবারে অযৌক্তিক নয় তার প্রমাণ কিন্তু হাতেনাতে পাওয়া গেছে।

ছবি: রয়টার্স

টেক্সাসে স্কুলে হামলার পরদিন বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার চার্লসটনে  এক বন্দুকধারীর হামলায় একই ধরনের গণহত্যার ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল। এক নারীর রুখে দাঁড়ানোয় বেঁচে যায় অনেক প্রাণ।

পুলিশ জানায়, ডেনিস বাটলার নামে ৩৭ বছরের এক ব্যক্তি স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় তার গাড়ি থেকে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের বাইরে চলতে থাকা একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠান লক্ষ্য করে গুলি চালান। যেখানে ৪০ জনের মত অতিথি ছিলেন।

বার্থডে পার্টি লক্ষ্য করে গুলির সময় বন্দুকধারী মরলেন নারী পথচারীর গুলিতে  

টেক্সাসের স্কুলে ঢুকে গুলি, ১৯ শিশুসহ নিহত ২১  

বাটলারকে গুলি করতে দেখে পথচারী এক নারী ক্ষিপ্রতার সঙ্গে নিজের বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তাকে গুলি করে হত্যা করে।

ওই নারীর কারণেই অনেক প্রাণ বেঁচে গেছে বলে জানায় পুলিশ। বাটলারের অতীত অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। তাই বৈধভাবে তার আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে পারার কথা না। তিনি কিভাবে অস্ত্র পেলেন তা পুলিশ তখন নিশ্চিত হতে পারেনি।