হত্যার এজাহারে ‘কারসাজি’: ওসির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

রাজশাহীতে শ্রমিক দলের নেতা নূরুল ইসলাম হত্যা মামলায় আসামির নাম ও এজাহার ‘পরিবর্তনের’ অভিযোগে পুঠিয়া থানার সাবেক ওসি সাকিল উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

কমিশনের রাজশাহী জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আল আমিন রোববার এ মামলা দায়ের করেন।

তিনি বলেন, “দুদকের তদন্তে পুঠিয়ার নূরুল ইসলাম হত্যার এজাহারে আসামির নাম ও বিবরণে পরিবর্তনের প্রমাণ মিলেছে।... ওসি সাকিল কারসাজি করে এজাহারে পরিবর্তন আনেন।”

২০১৯ সালের ১১ জুন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের এক ইটভাটায় নূরুলের লাশ মেলে। পরদিন তার মেয়ে নিগার সুলতানা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

উপজেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি নূরুল ইসলাম এক সময় উপজেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এবং জিউপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

তদন্তে নেমে পুলিশ ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করার কথা জানায়। সেই কিশোর আদালতে জবানবন্দিও দেন।

রাজশাহীর তখনকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) ইফতে খায়ের আলম ওই বছর ১৬ জুন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, “ওই কিশোর তার জবানবন্দিতে বলেছে, সমকামে বাধ্য করায় সে পরিবহন শ্রমিক নেতা নূরুল ইসলামকে হত্যা করে।”

কিন্তু নিহতের মেয়ে নিগার সুলতানা সে সময় অভিযোগ করেন, ওসি সাকিল উদ্দিন ‘দুইজন আসামির নাম বাদ দিয়ে এবং বিবরণ পরিবর্তন করে’ মামলা রেকর্ড করেছেন।

এ নিয়ে তিনি হাই কোর্টে রিট আবেদন করলে আদালত দুদককে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেয়। এছাড়া হাই কোর্টের নির্দেশে বিচার বিভাগীয় তদন্তও হয়।

দুই তদন্তেই ওসির ‘কারসাজির’ প্রমাণ মিলেছে জানিয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক আল আমিন বলেন, “সড়ক ও পরিবহন মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জেরে খুন হন পুঠিয়ার নূরুল ইসলাম। কিন্তু ওসি আসামির নাম বাদ দিয়ে এবং বিবরণ পরিবর্তন করে মামলা রেকর্ড করেন।”