খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষককে বরখাস্ত, দুজনকে অপসারণ

প্রশাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ‘উসকানি’ দেওয়াসহ কয়েকটি অভিযোগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষককে বরখাস্ত ও দুই শিক্ষককে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই তিন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছিলেন, যারা বেতন-ফি কমানো, আবাসন সংকট সমাধানসহ পাঁচ দফা দাবিতে ক্যাম্পাসে আন্দোলন করেন গত বছরের জানুয়ারিতে।

সিন্ডিকেট সচিব ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক খান গোলাম কুদ্দুস জানান, শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১২তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।

খান গোলাম কুদ্দুস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়েও ওই তিন শিক্ষক তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা বা দুঃখ প্রকাশ না করায় এবং অবাধ্যতা, গুরুতর অসদাচারণ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসন বিরোধী কার্যক্রম ছাড়াও একাধিক অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবুল ফজলকে বরখাস্ত করা হয়েছে; আর একই বিভাগের প্রভাষক শাকিলা আলম এবং ইতিহাস ও সভ্যতা বিভাগের প্রভাষক হৈমন্তী শুক্লা কাবেরীকে অপসারণ করা হয়েছে।

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধি অনুযায়ী, সরকারি চাকুরেকে বরখাস্ত বা চাকরিচ্যুত করা হলে তিনি অন্য সরকারি চাকরি অথবা কোনো আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত কোনো সংস্থায় চাকরি পাওয়ার সুযোগ থাকে না। তবে অপসারিত হলে এসব চাকরি পাওয়ায় বাধা নাই।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ‘বরখাস্ত’ সহকারী অধ্যাপক আবুল ফজল বলেন, এই ঘটনার তদন্ত কমিটি গঠন থেকে শুরু করে কোনো কার্যক্রমেই তাদের কোনো ধরনের সহযোগিতা করা হয়নি।

তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন চেয়ে লিখিত আবেদন করেছিলেন, সেটাও তাদের দেওয়া হয়নি। তারা তদন্ত কমিটির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন, সেটাও আমলে নেওয়া হয়নি।

“সব মিলিয়ে প্রশাসন যে এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, তা আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল।”

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের কাগজপত্র হাতে পেলে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান তিনি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামানের সভাপতিত্বে সিন্ডিকেট সভায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা, নতুন সদস্য প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ ওয়াহিদা আক্তার, অধ্যাপক ড. মো. মনিরুল ইসলাম, অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক, অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল জব্বার ও ড. নিহার রঞ্জন সিংহ, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন, অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা, অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্যাটাগির অন্যান্য সব সদস্য সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সিন্ডিকেটের অপর দুই সদস্য খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য বর্তমানে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর ও খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. ইসমাইল হোসেন অনলাইনে যুক্ত থেকে সভায় অংশ নিয়েছেন।

গত বছরের ১ ও ২ জানুয়ারি বেতন-ফি কমানো, আবাসন সংকট সমাধানসহ পাঁচ দফা দাবিতে ক্যাম্পাসে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা।

এর প্রায় ৯ মাস পর গত ১৩ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের ‘উসকানি’ দেওয়ার অভিযোগে ওই তিন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তিন দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়।

ওই চিঠির জবাব দেওয়ার পর গত ৯ নভেম্বর ওই শিক্ষকদের আরেকটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ২৩ নভেম্বরের ওই চিঠি জবাব দেওয়ার পর ২৪ নভেম্বর ‘তদন্ত কমিটি’ গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৭ ডিসেম্বর আবার চিঠি দেয়, যেখানে ১০ ডিসেম্বর হাজির হয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করার জন্য ওই তিন শিক্ষককে তলব করে।

১৩ ডিসেম্বর বিশেষ সিন্ডিকেট ডেকে আবার এই তিনজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ১০ জানুয়ারি ওই চিঠির জবাব দেন এ শিক্ষকরা।

এরপর ১৮ জানুয়ারি সোমবার সিন্ডিকেট করে চূড়ান্ত কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

গত মঙ্গলবার সকালে চাকরিচ্যুত ও অপসারণ করার আগের চূড়ান্ত কারণ দর্শানোর নোটিশ ওই তিন শিক্ষকের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। তাতে ২১ জানুয়ারি বেলা ২টার মধ্যে ওই চিঠির জবাব দিতে বলা হয়েছিল।