দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে গেল ইলিশের প্রথম চালান

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকার রপ্তানির অনুমোদন দেওয়ার পর ভারতে ইলিশ রপ্তানি শুরু হয়েছে, যার প্রথম চালানে গেল ২৩ দশমিক ১৫ মেট্রিক টন।

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বুধবার বিকালে ইলিশের এই চালান ভারত গিয়েছে বলে জানিয়েছেন বেনাপোল স্থলবন্দর মৎস্য কোয়ারেন্টিন পরিদর্শক আসওয়াদুল আলম।

আসওয়াদুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ইলিশ মাছ রপ্তানি নিষিদ্ধ হলেও দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ২০ সেপ্টেম্বর দুই হাজার ৮০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেয় সরকার।

এসব ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশের ৫২টি প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে শর্তসাপেক্ষে ৪০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

কাস্টমস এর সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে রপ্তানি করেন মিলা এন্টারপ্রাইজ ও বিশ্বাস ট্রেডাস নামে দুইটি সিএন্ডএফ এজেন্ট। 

বেনাপোলের সিএন্ডএফ এজেন্ট 'বিশ্বাস ট্রেডার্সের' স্বত্বাধিকারী নুরুল আমিন বিশ্বাস বলেন, এবার প্রতি কেজি ইলিশের রপ্তানি মূল্য ১০ মার্কিন ডলার। ভারত ও বাংলাদেশের কাস্টমস থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইলিশের এ চালান ছাড় করা হবে। প্রথম চালানের চার ট্রাকে গিয়েছে ২৩ দশমিক ১৫ মেট্রিক টন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, এসব ইলিশের রপ্তানিকারক খুলনার সাউদার্ন ফুড লিমিটেড ও ঢাকার ইউনিয়ন ভেঞ্চার লিমিটেড। ভারতের আমদানিকারক কলকাতার 'জেকে ইন্টারন্যাশনাল'ও সিদ্ধেশ্বরী এন্টারপ্রাইজ।

"বুধবার ইউনিয়ন ভেঞ্চার লিমিটেড রপ্তানি করেছে ১৭ হাজার কেজি ইলিশ এবং সাউদার্ন ফুড লিমিটেড রপ্তানি করেছে ৬ হাজার ১৫০ কেজি ইলিশ।"

এসব ইলিশের মূল্য মোট ২ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার বলে জানান তিনি।

পদ্মার ইলিশ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের কাছে প্রিয় হলেও দেশের চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন সময় তা রপ্তানি বন্ধ রাখে বাংলাদেশ সরকার।

২০১২ সালের আগে ভারতে ইলিশ রপ্তানি করা হতো। ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ২০১২ সালের পর ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় সরকার।

তবে গত বছর (২০২০) দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক হাজার ৪৫০ টন এবং ২০১৯ সালে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছিল সরকার। এরপর ফের ইলিশ রপ্তানি বন্ধ থাকে। 

আগামী ১১ অক্টোবর শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা।