রাজশাহীতে সার্জেন্ট মজিবুরের আত্মহত্যা: ২ শিক্ষিকা গ্রেপ্তার

রাজশাহীতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মজিবুর রহমানের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে দুই স্কুলশিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রাজশাহী সিটির পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এই তত্য জানান।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি বোয়ালিয়া থানার পুলিশ রাজশাহী উপশহরের ২ নম্বর সেক্টরের ভাড়া বাসার দরজা ভেঙ্গে মজিবুরের লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় বোয়ালিয়া থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়। পরে পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার বালিচ গ্রামের মাহবুবুর রহমানের স্ত্রী মিস আইরিন ইয়াসমিন লিজা (৩৪) ও ঢাকার সাভার থানার ডেন্ডাবর নতুনপাড়া পলাশবাড়ী গ্রামের ফিরোজ মিয়ার মেয়ে মোসাম্মৎ শামীমা আক্তার (২৪)।

তারা দুইজনই ঢাকার সাভারে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা বলে জানান পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক।

তিনি বলেন, মজিবুর রহমান সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট। তিনি পরিবার নিয়ে রাজশাহীতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টা থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে কোনো একসময় মজিবুর আত্মহত্যা করেন। ওই দিন মজিবুর রহমানের পরিবারের অন্য সদস্যরা বাসায় ছিলেন না।

তার পরিবারের অভিযোগ, বাসা থেকে মোবাইল ফোন, চার লাখ টাকা ও কিছু কাগজপত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পুলিশ কমিশনার বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্তে নেমে ওই দুইজনকে শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর রোববার পুলিশ প্রথমে আইরিন ইয়াসমিন লিজাকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে মৃত মজিবুর রহমানের খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে অপর আসামিকে গ্রেপ্তোর করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আইরিনের বরাতে তিনি বলেন, “মজিবুর রহমানের সঙ্গে তার কথপোকথন ও অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল। তারা দুইজন মজিবুর রহমানের বাসায় আসেন। মজিবুর তার রুমে ডাকেন আইরিনকে। আইরিন যেতে না চাইলে মুজিবর আত্মহত্যা করবেন বলে হুমকি দেন। পরে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে আইরিনের দাবি। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন তারা মজিবুরকে গলায় ফাঁস নিয়ে ঝুলতে দেখে তার মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।”

মজিবুর রহমান রাজশাহীতে প্লট ক্রয়-বিক্রয় ও রেন্ট-এ-কার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

পুলিশ কমিশনার বলেন, গ্রেপ্তার দুইজন ঢাকার সাভারে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।

“তারা শিক্ষকতার অন্তরালে একটি সংঘবদ্ধ ব্লাকমেইলিং চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা হয়েছে।”