অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে অর্থ আত্মসাত, ইজারাদারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে ২৫১ কোটি ৫৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইজারাদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক।

বৃহস্পতিবার সকালে সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি হস্তান্তর করেন দুদক’সিলেটের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন।  এর আগে বুধবার দুদক সিলেট জেলা সমন্বিত কার্যালয়ে মামলা দায়ের করেন তিনি।

মামলার আসামি মোহাম্মদ আলী (৪০) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কাঠালবাড়ি এলাকার জিয়াদ উল্লাহর ছেলে।

মামলার বিবরণে বলা হয়, মেসার্স বশির কোম্পানির মালিক মোহাম্মদ আলী তার প্রতিষ্ঠানের নামে ২০০৪ সালের ৫ এপ্রিল ১৩টি শর্তে বিদুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো থেকে শাহ আরেফিন টিলার ৬১ একর জমি পাথর উত্তোলনের ইজারা নেন।

২০০৪ সালের ২০ এপ্রিল মোহাম্মদ আলীর প্রতিষ্ঠান মেসার্স বশির কোম্পানিকে পাথর তোলার কার্যাদেশ দেয় খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো। কিন্তু ইজারার শর্তভঙ্গ করে যন্ত্র দিয়ে পাথর তুলে পরিবেশ নষ্ট করায় ওই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর তার ইজারা বাতিল করে দেওয়া হয়।

এরপর মোহাম্মদ আলী প্রভাব খাটিয়ে শাহ আরেফিন টিলার ১৩৭ একর জায়গা থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করেন। অথচ তিনি ইজারা নিয়েছিলেন ৬১ একর জমি।পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নিয়ে অবৈধভাবে পাথর তোলায় বিরাভূমিতে পরিণত করেন পুরো টিলাকে। পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে প্রাণ হারান অনেক শ্রমিকও।

দুদক’সিলেটের সহকারি পরিচালক ইসমাইল বলেন, মোহাম্মদ আলী নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে শাহ আরেফির টিলা থেকে ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫০ ঘনফুট সরকারি পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন করে বিক্রি করেন। এ পাথরের বাজারমূল্য ২৫১ কোটি ৫৫ লাখ ৯০ হাজার; যা তিনি আত্মসাত করেন। এ ঘটনায় তদন্ত শেষে সরকারি পাথর আত্মসাতের দায়ে দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৬ ধরায় মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক।