কাশালিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কাশালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. আবু জাফর রিপন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানাকে এ ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের মুখে থাকা ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বেও রয়েছেন।

জেলা প্রশাসক শাহিদা বলেন, কাশারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও দুর্নীতির তদন্তের বিষয়ে গত ১২ অগাস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন তারা। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কাশালিয়া ইউনিয়নের হাজরাগাতি গ্রামের সুদেব ঢালী ও ননীক্ষীর গ্রামের সুনীল বাড়ৈ গত ২৪ জুন সিরাজুলের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় বিষয়টি তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান সিরাজ গাববাড়ি থেকে বড় রাস্তা পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ না করে ১ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। তিনি এমকেবিএইচ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের একাধিকবার বড় বরাদ্দের অর্থ কাজ না করে তুলে নিয়েছেন। ওই স্কুলের দীর্ঘদিনের সভাপতি সিরাজ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে স্কুল থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এছাড়া দুর্যোগ সহনীয় প্রকল্পের তিনটি সরকারি ঘর দরিদ্রদের না করে দিয়ে সিরাজ সাড়ে ১০ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন। সুদেব ঢালীর ছেলে মিল্টন ঢালীকে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরীর পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সিরাজ চেয়ারম্যান ১৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় করেন। পরে তিনি অন্য একজনকে দপ্তরীর চাকরি দেন এবং সুদেব ঢালীকে তিনি টাকাও ফেরত দেননি।

এছাড়া সুনিল বাড়ৈকে ২ বিঘা জমি লিখে দেওয়ার কথা বলে সিরাজ চেয়ারম্যান ২৭ হাজার ৫০০ টাকা নিলেও ওই পরিবারকে জমি লিখে দেননি। এছাড়া সিরাজ চেয়ারম্যান জোর করে হিন্দুদের সম্পত্তি দখলে রেখেছেন এবং জোর করে জমি থেকে ধান কেটে নিয়েছেন।

এছাড়া সরকারি সোলার প্যানেল চেয়ারম্যান নিজের পুকুরে স্থাপন করেছেন। খাল দখল করে চেয়ারম্যান সাধারণ কৃষকের জমিতে পানি সেচ বন্ধ করে দিয়েছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তা অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, “সুনীল বাড়ৈর কাছে আমি জমি বন্ধক রেখে ছিলাম। বিক্রি করিনি; টাকা ফেরত দিয়ে জমি ছাড়িয়ে নিয়েছি। আর চাকরি দেওয়ার জন্য সুদেব ঢালির কাছ থেকে যে টাকা নিয়ে ছিলাম, সেটাও ফেরত দিয়েছি “