সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদ শাবিতে

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দু মন্দির, পূজামণ্ডপ ও ঘরবাড়িতে হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে মানববন্ধনে দাঁড়ান শতাধিক শিক্ষার্থী।

চলমান সাম্প্রদায়িক হামলার মাধ্যমে একটি ‘কুচক্রী মহল’ ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বাঙালিদের বিভাজন ও ষড়যন্ত্রের অপরাজনীতি করছে বলে দাবি তাদের। 

‘বাংলাদেশ আর ভাঙন চাই না’, ‘সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বন্ধ করো’, ‘ধর্ম যার যার বাংলাদেশ সবার’, ‘বিভাজন ষড়যন্ত্র বন্ধ করো করতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায় মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে।

গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী উমর ফারুক বলেন, “বাংলাদেশ যে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নিয়েছিল, সেই নৈতিক অবস্থান আজ হুমকির মুখে। প্রতিনিয়ত ধর্মকে ব্যবহার করে দেশে একের পর এক সাম্প্রদায়িক হামলা যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে, তার এক চূড়ান্ত রূপ ইসলাম ধর্মকে অবমাননার অভিযোগ তুলে গত কয়েকদিনে দেশব্যাপী মন্দির ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা।” 

লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মেহনাজ মৌমিতা বলেন, “বাংলাদেশ যে বিপদ সংকেতের সামনে দাঁড়িয়ে, সেটা মহাবিপদ সংকেতে রূপ নেওয়ার আগেই এর লাগাম টেনে ধরার দায়িত্ব এই রাষ্ট্রের, এই দেশের প্রত্যেকটা মানুষের, প্রতিটি মিডিয়া কর্মীর, সর্বোপরি আমাদের সকলের। এবং সেটা এই মুহূর্তেই।”

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রাজর্ষী ভট্টাচার্য্য বলেন, “রংপুরে রাতের অন্ধকারে যে বিভীষিকা আমরা দেখেছি, সেই সাথে গত কয়েকদিন যাবৎ কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনীতে যে নিন্দনীয় ঘটনা বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ করেছে, তা দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফল। প্রশাসনের উপযুক্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলেই সাম্প্রদায়িক চিন্তার বহিপ্রকাশ ঘটছে, বাড়ছে দেশের মানুষের মাঝে বিভাজন।”

পলিটিক্যাল স্টাডিজ  বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল বলেন, “রাষ্ট্রীয়ভাবে যতদ্রুত সম্ভব এই সহিংসতা বন্ধের ব্যবস্থা করা উচিত,  যারা এর হোতা তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।”