নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ‘মারধর’, দুই আনসার প্রত্যাহার

ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে আসা জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে দুই আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার ঐশ্বর্য সরকার নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী।

ওই দুই আনসার সদস্য হলেন মো. মাসুদ ও শরীফ আহমেদ। তারা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ছিলেন।

হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের এসআই জুলহাস মিয়া বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী তীব্র মাথাব্যথা নিয়ে হাসপাতালের বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। 

“টিকিট সংগ্রহের লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর বাকবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি লক্ষ্য করে এগিয়ে এসে আনসার সদস্যরাও বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তারা অসুস্থ শিক্ষার্থীকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। উপর্যুপরি কিলঘুষি দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন।”

পরে পুলিশ ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বিষয়টি হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানায়, বলেন এসআই জুলহাস। 

এ বিষয়ে ঐশ্বর্য সরকার বলেন, “অনেক বেশি মাথা ব্যথা নিয়ে আমি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাই। সেখানে দুই আনসার সদস্যকে আমি আগে গিয়ে টিকেট নেওয়ার কথা বলি। এই নিয়ে তাদের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা আমাকে কিল ঘুষি দিয়ে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করেন।”  

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. আসাদুজ্জামান নিউটন বলেন, “মারধরের বিষয়টি আমাকে জানানোর সাথে সাথে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাই। সেখানে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাই। আনসার কর্তৃপক্ষ ওই দুই আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার করেছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে হাসপাতালের উপ-পরিচালক মো. ওয়ায়েজ উদ্দিন ফরাজি বলেন, “মারধরের কথা স্বীকার করায় দুই আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার করার পাশাপাশি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।” 

ময়মনসিংহ জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট মোস্তারী জাহান ফেরদৌস বলেন, “বিষয়টি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ছেলেটা তার ভুল বুঝতে পেরেছে। আনসার সদস্যদেরও কিছু ভুল থাকায় তাদের সাময়িক প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”