রংপুরে হিন্দুপাড়ায় হামলা: আরও ১০ আসামি রিমান্ডে

রংপুরের পীরগঞ্জের মাঝিপাড়ায় হামলার ঘটনা আরও  নতুন করে দশ আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফজলে এলাহি খান এ আদেশ দেন। 

এ নিয়ে এ ঘটনায় ৬০ আসামিকে রিমাণ্ডে পেল পুলিশ।

পীরগঞ্জ আমলি আদালতের সাধারণ নিবন্ধক শহীদুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ১০ আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। এর আগে দুই দফায় ৫০ আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটের মামলায় নতুন ১০ আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে, সে কারণে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

পীরগঞ্জের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ৩  

রংপুরে হিন্দুপাড়ায় হামলা: আটক ৪২  

পীরগঞ্জ থানার ওসি সরেস চন্দ্র জানান, রিমান্ড পাওয়া ১০ আসামির মধ্যে হামলার সময় পেট্রল নিয়ে মোটরসাইকেলে করে আসা আবদুল্লাহ আল মামুন (২৩) ও ওমর ফারুক ওরফে টনেট (২৪) নামে দুজন রয়েছে। ২৪ অক্টোবর মধ্যরাতে তাদের গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার আলীনগর গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা জামায়াত-শিবিরের কর্মী।

বড়করিমপুর মাঝিপাড়া গ্রামে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা তিনটি মামলা এবং হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় আরেকটি মামলা করা হয়েছে।

সবশেষ মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) রাতে নজরুল ইসলাম নামে একজনকে পীরগঞ্জের চতরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তির সংখ্যা ৭০ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানান সরেস।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ফেইসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া ও সহিংসতার ঘটনা উসকে দেওয়ার অন্যতম হোতা পরিতোষ সরকার, উজ্জ্বল হোসেন, বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা সৈকত মণ্ডল ও মসজিদের ইমাম রবিউল ইসলামসহ অনেকই রয়েছেন।  এখন পর্যন্ত হামলার ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে সাত আসামি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পীরগঞ্জে ‘পেট্রোল ছিটানো’ শিবিরকর্মী গ্রেপ্তার

পীরগঞ্জে হামলা: আদালতে সৈকত, রবিউলের স্বীকারোক্তি  

গত ১৭ অক্টোবর রাতে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের বড়করিমপুর মাঝিপাড়া গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গ্রামটির ১৫ পরিবারের ২১টি বাড়ির সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে। সব মিলিয়ে অন্তত ৫০ বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। হামলাকারীরা গরু-ছাগল ও টাকা নিয়ে গেছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের।

এ ঘটনায় দায়ের হওয়া চার মামলায় ৭০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রথম দফায় ৩৭ জন, দ্বিতীয় দফায় ১৩ ও তৃতীয় দফায় ১০জন আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাওয়ার কথা জানিয়েছে  পুলিশ।