সিলেটে কলেজ শিক্ষার্থী রাহাত হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার

সিলেটে র দক্ষিণ সুরমায় কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম রাহাত খুনে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।

বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ সুরমার হাজীপুর এলাকার একটি ডোবা থেকে ছুরিটি উদ্ধার করা হয় বলে সিলেট মেট্রো ও জেলা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা সংবাদ সম্মেলনে জানান। 

সুজ্ঞান বলেন, মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দুর্গম চর এলাকা থেকে রাহাত খুনের প্রধান আসামি সামসুদ্দোহা সাদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটির সন্ধান পায় সিআইডি। উদ্ধার করা ছুরিটির দৈর্ঘ্য সাড়ে ৭ ইঞ্চি।

সামসুদ্দোহা সাদী দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানা এলাকার সিলাম পশ্চিমপাড়ার মৃত মোবারক আলীর ছেলে।

নিহত মো. আরিফুল ইসলাম রাহাত উপজেলার ধরাধরপুর গ্রামের প্রবাসী সুরমান আলীর ছেলে এবং দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সাদী হত্যার কথা স্বীকার করেছে জানিয়ে এ পুলিশ কর্মকর্র্তা বলেন, বয়সে সাদী ছিলেন রাহাতের চেয়ে বড়। এজন্য তিনি রাহাতের কাছে ‘জ্যেষ্ঠতা’ (সিনিয়রিটি) দাবি করে আসছিলেন। সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্ধের বিবাদের জেরেই তিনি রাহাতকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন।

সিআইডি জানায়, ঘটনার পর সাদী পালিয়ে ঢাকার মিরপুরে অবস্থান করেন। সেখান থেকে আত্মগোপনে কুষ্টিয়ায় চলে যান তিনি। তাকে গ্রেপ্তারের পর কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে বুধবার বিকালে তাকে সিলেটে পাঠানো হয়।

গত ২১ অক্টোবর কলেজ ক্যাম্পাসে কথা কাটাকাটির জেরে ছুরিকাঘাতে রাহাতকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২২ অক্টোবর রাতে তার চাচা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ৫-৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানা এলাকার সিলাম পশ্চিমপাড়ার মৃত মোবারক আলীর ছেলে সামসুদ্দোহা সাদীকে।

অপর দুই আসামি হলেন একই এলাকার জামাল মিয়ার ছেলে তানভীর আহমদ (১৯) ও দক্ষিণ সুরমার তেতলি ইউনিয়নের আহমদপুর গ্রামের মৃত গৌছ মিয়ার ছেলে ওলিদুর রহমান সানী।