পাবনায় ফিলিং স্টেশনে বিস্ফোরণ: দগ্ধ কর্মচারীর মৃত্যু

পাবনা সদরে একটি তেলের পাম্পে বিস্ফোরণে দগ্ধ হওয়ার পাঁচদিন পর তাদের এক কর্মচারী মারা গেছেন। এখনও চিকিৎসাধীন আছেন আরও দুই জন।

হেমায়েতপুর পুলিশ ফাঁড়ির আইসি [পরিদর্শক] নাজমুল হোসেন জানান, গত বুধবার [২৪ নভেম্বর] বুধবার বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার হেমায়েতপুরে ‘কৃষি পেট্রোল পাম্পে’ বিস্ফোরণে তিনজন আহত হন।

“সোমবার ভোরে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে একজন মারা যান।

মৃত মতিউর রহমান (২১) ওই ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী ছিলেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২৪ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে বিকট শব্দে ‘কৃষি পেট্রোল পাম্পে’ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ওই প্রতিষ্ঠানে তিন কর্মচারী দগ্ধ হন। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ওইদিনই তাদের ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে মতিউর রহমান মারা যান। মতিউর পাবনা সদর উপজেলার নাজিরপুর খন্দকারপাড়া গ্রামের মো. গোলজার হোসেনের ছেলে।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই পাম্পে তেল দেওয়ার কাজ করছিলেন বলে পাম্পটির মালিক জাহাঙ্গীর আলম ওরফে আলম হাজী জানান।

জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সময় একটি ট্রাকে তেল দিচ্ছিল মতিউরসহ আরও দুইজন কর্মচারী।

“এ সময়  ট্রাকের উপরে একজন সিগারেট খাচ্ছিল, বুঝতে না পেরে পাম্পের ট্যাংকে সিগারেটের জলন্ত উচ্ছিষ্ট ফেললে সাথে সাথে বিস্ফোরণ ঘটে। সেখানে থাকা তিনজন দগ্ধ হয়; তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি এবং সকল চিকিৎসার ব্যয় বহন করি।” 

এই পাম্পে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই তেল বিক্রি করা হতো বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন।

এই বিষয়ে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, “এই বিষয়ে আমরা কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”