ফ্লাই ডাইনিং: সাগরে চোখ রেখে খানাপিনা আকাশে

কক্সবাজারে গেলে তো সমুদ্রস্নান হবেই, সেইসঙ্গে পর্যটকদের জন্য আকাশে ভেসে ভেসে পেটপূজার সুযোগ এনে দিচ্ছে দেশের প্রথম ঝুলন্ত রেস্তোরাঁ ‘ফ্লাই ডাইনিং’।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ‘সুগন্ধা পয়েন্টে’ মাটি থেকে ১৬০ ফুট উপরে ঝুলন্ত এই রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে বসতে পারেন ২০ জন। মাটি থেকে শূন্যে ওঠার পর অতিথিদের রসনাবিলাসের রসদ যোগাবেন রন্ধন শিল্পী টনি খান।

ফ্লাই ডাইনিং কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, ওঠা, নামা, খাওয়া আড্ডা মিলিয়ে দুই ঘণ্টার প্যাকেজে জনপ্রতি খরচ ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা।

দুবাই কিংবা ভারতে এ ধরনের ঝুলন্ত রেস্তোরাঁ জনপ্রিয় হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগেই। ভারতের স্কাই রেস্টুরেন্টের ফ্র্যাঞ্জাইজি হিসেবেই কক্সবাজারের এ রেস্তোরাঁ চালু করেছে ইউর ট্র্যাভেল লিমিটেড, যার কর্ণধার ভারতীয় নাগরিক নবাব আবু বক্কর খান।

ডিসেম্বরের প্রথম দিন প্রথম উড়ানেই কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের চমৎকৃত করেছে ফ্লাই ডাইনিং। শূন্যে ভেসে খাওয়াদাওয়ার সঙ্গে সমুদ্র দর্শনের এই অভিজ্ঞতা তাদের জন্য একেবারেই নতুন।

কক্সবাজারে বেড়াতে আসা সাংবাদিক লায়েকুজ্জামান বললেন, “মাটি থেকে ১৬০ ফুট উপরে বসে খাচ্ছি, ব্যাপারটা সত্যি রোমাঞ্চকর। এখান থেকে খেতে খেতেই কক্সবাজার শহরটা দেখা যাচ্ছে; পাহাড় দেখা যাচ্ছে, সমুদ্রটাও দেখা যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে মেঘের শীতল হাওয়ার অনুভূতিটাও পাচ্ছি।”

তার ধারণা, এই ফ্লাই ডাইনিংয়ের আকর্ষণেও কক্সবাজারে পর্যটক সমাগম আরও বাড়তে পারে।

“দিনের বেলায় কক্সবাজারে সমুদ্র সৈকত আর কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্রে ঘোরাঘুরি ছাড়া পর্যটকদের জন্য এতদিন বৈচিত্র্যময় কিছু উপভোগ করার সুযোগ ছিল না। ফ্লাই ডাইনিং সেই বৈচিত্র্যটা যোগ করল।”

ঢাকার মালিবাগ থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা আব্দুল মান্নানও ঝুলন্ত রেস্তোরাঁর আনন্দ নিয়েছেন সপরিবারে। আকাশে বসে সমুদ্র সৈকত আর শহরের দৃশ্য দেখার এই সুযোগ তার ভাষায় ‘অসাধারণ’। তবে তিনি সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ হয়েছেন সন্ধ্যায় ফ্লাই ডাইনিংয়ে বসে সূর্যাস্ত আর সৈকতের দৃশ্য দেখে।

রেস্তোরাঁ মাটি থেকে ওপরে ওঠার সময় কিছুটা ভয় লাগলেও মনে ‘নতুন কিছুর’ আনন্দই বেশি ছিল বলে জানালেন মান্নান।

রাজশাহী থেকে বেড়াতে আসা নারিমা জাহান বললেন, “বিশ্বের কয়েকটি দেশের পর বাংলাদেশে এই প্রথম ফ্লাই ডাইনিং চালু হল। মাটি থেকে যখন উপরে উঠছিলাম, তখন অনেক বেশি আনন্দ লাগছিল। শূন্যে ভেসে ভেসে খাবার খাচ্ছি, অভিজ্ঞতাটা দারুণ।”

‘সবধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েই’ এ ফ্লাই ডাইনিং চালু হয়েছে বলে জানালেন ফ্লাই ডাইনিংয়ের ব্যবস্থাপক আমান উল্লাহ।

তিনি বললেন, “বিশ্বে মাত্র অল্প কয়েকটি দেশে এ ধরনের রেস্টুরেন্ট চালু আছে। এর মধ্যে দুবাই, প্যারিস, রিও, বার্লিন, লন্ডন ও এথেন্স রয়েছে। এবার বাংলাদেশেও চালু হল ব্যতিক্রমী এ ফ্লাই ডাইনিং।”

ফ্লাই ডাইনিং কীভাবে তৈরি

একটি পাটাতনের ওপর চেয়ার, টেবিল ও উপরে ছাতার মত ছাদ বসিয়ে তৈরি হয়েছে চারপাশ খোলা ফ্লাই ডাইনিং। মাটি থেকে আকাশে তুলে এই রেস্তোরাঁকে চারপাশে ঘোরানো হয় বিশেষ ধরনের ক্রেনের মাধ্যমে।

অতিথিরা ফ্লাই ডাইনিংয়ের টেবিলে বসার পর কর্মীরা তিন স্তরের বেল্ট দিয়ে বেঁধে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন।

ক্রেনের সাহায্যে পুরো পাটাতন খুব ধীরে ধীরে উঠরে তোলা হয়। কর্মীরা ক্রেতাদের সামনে খাবার পরিবেশন করেন। ১৬০ ফুট উপরে ওঠার পর টেবিলটি শূন্যে চারপাশে ঘুরতে থাকে। দুই ঘণ্টার ভোজনপর্ব শেষে অতিথিদের নিয়ে নেমে এসে ফ্লাই ডাইনিং।

বুকিং ও খরচ

ফ্লাই ডাইনিংয়ের ঝুলনতা পাটাতনে টেবিল ঘিরে আছে ২৪ জনের বসার ব্যবস্থা। এর মধ্যে ২০টি চেয়ার অতিথিদের জন্য। টেবিলে চারজন কর্মী থাকবেন অতিথিদের সেবায়। ফ্লাই ডাইনিং অতিথিদের নিয়ে আকাশে থাকবে দুই ঘণ্টা।

ঝুলন্ত রেস্তোরাঁয় চড়তে অনলাইনে বুকিং দেওয়া যাবে। এছাড়া সরাসরি গিয়ে নগদ টাকা দিয়েও বুকিং করা যাবে।

উদ্বোধন উপলক্ষে শুক্রবার পর্যন্ত জনপ্রতি সর্বনিম্ন খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে চার হাজার টাকা। পরে খরচ নির্ধারণ করা হবে মেনুর ওপর। তাতে ৬ থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা খরচ পড়বে। দাম যা নির্ধারণ করা হোক, সেটা ফ্লাই ডাইনিংয়ের অনলাইন পোর্টালে দেখতে পাবেন ক্রেতারা।

কি ধরনের আয়োজন

ফ্লাই ডাইনিংয়ে একা এবং দলবেঁধে খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। জনপ্রতি নির্ধারিত সর্বনিম্ন খরচ ছাড়াও খাবারের মেনুর উপর দাম নির্ধারণ হবে। জন্মদিন, এনগেজমেন্ট, বিবাহ বার্ষিকীর মত অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা যাবে।