রোহিঙ্গা শিবিরে এক চুলা থেকে আগুনে পুড়ল হাজার ঘর

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে এক বছরের মধ্যে আবার ঘটল বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড।

রোববার সন্ধ্যায় একটি ঘরের চুলা থেকে লাগা এই অগ্নিকাণ্ডে সহস্রাধিক ঘর পুড়েছে বলে শরণার্থী শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন জানিয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে কারও হতাহতের খবর তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি এই শরণার্থীদের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারে দপ্তর।

মিয়ানমার থেকে নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার অধিকাংশই থাকে সীমান্ত জেলা টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন ক্যাম্পে ছোট ছোট ঘরে গাদাগাদি করে।

তারই একটি পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. সামছু-দৌজা নয়ন জানান।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একটি বসত ঘর থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে।”

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের (এপিবিএন) অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. শিহাব কায়সার খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রাথমিকভাবে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, ক্যাম্পের বি-১ ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলমের (৩৫) বসতঘরের রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন দ্রুত বি-ব্লক ও সি-ব্লকে ছড়িয়ে পড়ে।”

আগুন লাগার পর প্রথমে উখিয়া স্টেশনের দুটি ইউনিট তা নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। স্থানীয় রোহিঙ্গা ও শিবিরের স্বেচ্ছাসেবকরাও তাদের সহায়তা করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ইউনিট যোগ দেয় আগুন নেভানোর কাজে।

নয়নবলেন, “সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন যাতে ছড়াতে না পারে, সেজন্য কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। পাশাপাশি তারা ক্ষয়ক্ষতিও নিরূপণ করবে।”

ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার বলেন, “প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ক্যাম্পটির অন্তত ১ হাজার ২০০ বসত ঘরসহ দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলোর নানা স্থাপনা পুড়ে গেছে।”

নয়ন বলেন, রোহিঙ্গাদের ঘরের জিনিসপত্রের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে দেশি-বিদেশি সাহায্য সংস্থার কার্যালয়ও রয়েছে।

কেউ হতাহত হয়েছে কি না-জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।”

আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়ায় মিয়ানমারের এই শরণার্থীদের অনেকে এখন খোলা আকাশের নিচে রয়েছে।

এর আগে গত বছরের ২৩ মার্চ উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১ জন মারা গিয়েছিল।

সেই আগুনে ক্যাম্পের ৯ হাজার ৩০০ পরিবারের আনুমানিক ৪৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।