খুলনায় এক সপ্তাহে সংক্রমণ দ্রুত বেড়েছে: স্বাস্থ্য বিভাগ

খুলনায় গত এক সপ্তাহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ‘দ্রুত বেড়েছে’ জানিয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, এ সময়ে নতুন করে ৩১৪ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মনজুরুল মুরশিদ জানান, বৃহস্পতিবার বিভাগে করোনাভাইরাস শনাক্তের হার ছিল ৩২ দশমিক ২৯ শতাংশ। এর আগে বুধবার ২৮৫ জনের শরীরে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়, যার শনাক্তের হার ছিল ২৬ দশমিক ৩২ শতাংশ।

মঙ্গলবার বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দুইজনের মৃত্যু হয়। এ সময়ে শনাক্ত হয় ১৫৮ জনের। শনাক্তের হার ছিল ১৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

গত এক সপ্তাহে বিভাগে নতুন করে ৩১৪ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছে জানিয়ে মুনজুরুল বলেন, “গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শনাক্তের হার পাঁচ শতাংশের ওপর ওঠেনি। আর সপ্তাহ দুয়েক আগে থেকে শনাক্তের হার ও সংখ্যা বাড়তে থাকে।

“১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত শনাক্ত ১০ শতাংশের নিচেই ছিল। এরপর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত শনাক্ত ১৫ শতাংশের কিছু উপরে ওঠে।

বৃহস্পতিবার সেই হার ছাড়িয়ে গেছে।”

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা বলেন, “আমরা খুলনা বিভাগের সব কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল এবং জেলা সদর ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ‘করোনা ওয়ার্ড’ প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দিয়েছি। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে।”

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের পাশাপাশি টিকা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

খুলনার সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ বিডিনিউজ টোয়েন্টফোর ডটকমকে জানান, ওমিক্রনের দাপট বেড়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যে করোনা চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক-নার্সসহ সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এখন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুই’শ শয্যার করোনা ইউনিটের ১৩০ শয্যার কার্যক্রম চালু রয়েছে। চাপ বেড়ে গেলে অবশিষ্ট শয্যাগুলোও চালু করা হবে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ফোকাল পারসন ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, “বর্তমানে হাসপাতালে ২০টি আইসিইউ ও ১৬টি এইচডিইউ প্রস্তুত রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা, চিকিৎসক-নার্স ও সম্মুখসারির করোনা যোদ্ধাদের জন্য পৃথক ১০টি কেবিন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বাকিগুলো স্বল্প সময়ের নোটিশেই প্রস্তুত করা যাবে।”

খুলনা জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, “সারা দেশের মতো খুলনায়ও সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। সংক্রমণ ঠেকাতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে এবং মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।”

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি নির্দেশনা কার্যকর করতে জেলায় প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।