ময়মনসিংহে ‘জুতার চিহ্ন ধরে উচ্চশিক্ষিত খুনি’ গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহে অটোরিকশা ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় চালককে হত্যার অভিযোগে ‘উচ্চশিক্ষিত’ তিনজনসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

‘ফেলে যাওয়া গেঞ্জি ও জুতার চিহ্ন ধরে’ তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হানুল ইসলাম জানান।

গত ২ নভেম্বর কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থানার দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের মো. সুলতান উদ্দিন সুলতু মিয়ার ছেলে অটোরিকশা চালক মোশাররফ হোসেন (২৪) খুন হন। এর তিন দিন পর সুলতান উদ্দিন অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে নান্দাইল থানায় মামলা করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা রায়হানুল বলেন, ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ খুনির ফেলে যাওয়া একটি গেঞ্জি ও একটি জুতা উদ্ধার করে নান্দাইল উপজেলার নধী হাজীপুর আমের মোরাটি বাজার এলাকা থেকে। ওই এলাকায় মোশাররফকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়।

“এই গেঞ্জি ও জুতার উৎস খুঁজতে গিয়ে খুনির খোঁজ পায় পুলিশ।”

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নান্দাইল উপজেলার মো. শাহজাহান সিকদার ওরফে বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. শাহ জালাল সিকদার (২৫), মো. উজ্জ্বল মণ্ডলের ছেলে মো. শান্ত মণ্ডল (২০),আব্দুল বারিকের ছেলে মো. আশরাফুল ইসলাম ওরফে মানিক (২৫) ও  মো. সোহরাব উদ্দিনের ছেলে মো. মনির উদ্দিন (২৬)।

সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা রায়হানুল।

তিনি গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য দিয়ে বলেন, চারজন যাত্রী সেজে ৩০০ টাকায় মোশারফের অটোরিকশা ভাড়া করেন রোগী নেওয়ার জন্য। নান্দাইল উপজেলার নধী হাজীপুর আমের মোরাটি বাজার এলাকায় তারা একটি বাড়ির ভেতর গিয়ে রোগী নেওয়ার জন্য চাপাচাপি করেন। মোশারফ আপত্তি করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে মোশাররফকে তারা ছুরি মেরে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যান।

“স্থানীয়দের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য একজন তার পরনের গেঞ্জি এবং আরেকজন তার পায়ের জুতা ফেলে পালিয়ে গেলেও অটোরিকশাটি নিয়ে যান তারা। তবে অটোরিকশাটি শেষ পর্যন্ত তারা আত্মসাৎ না করে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ফেলে রাখেন। অটোরিকশার চাবিটি তারা মাটিতে পুঁতে রেখে যান।”

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতরা অভাবের তাড়নায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পথ বেচে নেন। চারজনের মধ্যে তিনজনই উচ্চশিক্ষিত। এর আগে তারা কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন না।”

তারা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হবে। আদালতের নির্দেশে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে পুলিশ।