৫ প্রাক্তনির বিরুদ্ধে মামলায় নিন্দা শাবি শিক্ষক সমিতির

আন্দোলনে অর্থ জোগান দেওয়ার অভিযোগে সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাদের মুক্তি দাবি করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

বুধবার দুপুরে সমিতির সভাপতি অধ্যাপক তুলসী কুমার দাস ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ মহিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।

এতে বলা হয়, “আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা প্রদানকারী পাঁচজন প্রাক্তন সাস্টিয়ানকে গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে শাবি শিক্ষক সমিতি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

“গ্রেপ্তারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য শাবি শিক্ষক সমিতি দাবি জানাচ্ছে এবং একই সাথে আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট কারো বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার আহ্বান জানাচ্ছে”, যোগ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

গ্রেপ্তারকৃতদের দুইজন: হাবিবুর রহমান স্বপন ও  রেজা নূর মুঈন দীপ

এর কিছু আগেই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টানা সাত দিনের অনশন ভাঙেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষায়তনের সাবেক শিক্ষক ও জনপ্রিয় লেখক অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমীন হক পানি পান করিয়ে তাদের অনশন ভাঙান।

এই আন্দোলনকারীদের জন্য অর্থ সহায়তা দেওয়ার অভিযোগেই ঢাকা থেকে পাঁচ সাবেক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। পরে তাদের সিলেট পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

রাতে জালালাবাদ থানায় দায়ের করা মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও এক থেকে দেড়শ জনকে আসামি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সিলেট সিটি পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বি এম আশরাফউল্লাহ তাহের বলেন, “মামলার এজাহারে অসৎ উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অর্থ জোগান এবং আন্দোলনকারীদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।”

পাঁচ আসামি হলেন- কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান স্বপন এবং স্থাপত্য বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রেজা নূর মুঈন দীপ ও নাজমুস সাকিব দ্বীপ এবং এ কে এম মারুফ হোসেন ও ফয়সাল আহমেদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে গত ১৩ জানুয়ারি রাতে আন্দোলনে নামেন ওই হলের শিক্ষার্থীরা। এর জেরে পুলিশের লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেডে শিক্ষার্থীসহ ক্যাম্পাসের অন্তত অর্ধশত লোকজন আহত হন। সে ঘটনায় পুলিশ ‘গুলি বর্ষণ ও হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিটের অভিযোগ’এনে অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করে।

তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে উল্টো উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা অনশনে যান; ঘোষণা দেন উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার।