‘নির্দোষ’ প্রমাণিত শফিকুল বললেন, নৈতিক শক্তিই বড়

রেলওয়ের ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা ‘অসদাচরণের’ অভিযোগের প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি। 

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা (এটিও) সাজেদুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি সোমবার বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহিদুল ইসলামের কাছে ৪০ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জমা দেন।

শাহিদুল ইসলাম পরে সাংবাদিকদের বলেন, “প্রতিবেদনে টিটিইকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলা হয়েছে। কমিটি বলেছে, ওই ট্রেনের গার্ড শরিফুল ইসলাম বিনা টিকেটের যাত্রী ইমরুল কায়েস প্রান্তকে ‘ফুসলিয়ে’ টিটিই'র বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে বাধ্য করেন।”

পরে টিটিই শফিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবদিকদের বলেন, “সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী। আমি অন্যায় করিনি কিংবা কখনও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করিনি। আমি সবাইকে বলতে চাই, সত্য ন্যায় আর নৈতিক শক্তি পৃথিবীর সব থেকে বড়।

“কারোর বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমি যতদিন রেলে চাকরি করব, ততদিন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাব।”

ঈদের পরদিন গত ৬ মে রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিনা টিকেটে রেল ভ্রমণ করায় তিন যাত্রীকে জরিমানা করেন খুলনা থেকে ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসের ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলাম। কিন্তু রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পরদিন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে রেল কর্তৃপক্ষ। ‘অসদাচরণের’ অভিযোগ তদন্ত করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় সমালোচনা। রেলমন্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিনা টিকেটে ট্রেনে ভ্রমণ করা তিন যাত্রীর সঙ্গে তার ‘কোনো সম্পর্ক নেই’। যাত্রীদের সঙ্গে ‘খারাপ আচরণ করায়’ শফিকুলকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে তিনি কর্মকর্তাদের কাছে শুনেছেন।

কিন্তু বিনা টিকেটেরে ওই যাত্রীরা যে রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় সে বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। এরপর সংবাদ সম্মেলন করে রেলমন্ত্রী বলেন, টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করা যাত্রীরা যে তার আত্মীয়, তা তিনি জানতেন না।

গত ৮ মে ওই সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী জানান, টিটিই শফিকুল ইসলামের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি তড়িঘড়ি বরখাস্তের আদেশ দেওয়ায় রেলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (পাকশীর ডিসিও) নাসির উদ্দিনকে নোটিস দিয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

সুন্দরবন এক্সপ্রেনে বিনা টিকেটে এসি কেবিনে ভ্রমণকারী সেই তিন যাত্রী ছিলেন রেলপথমন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আক্তার মনির ভাগ্নে ইমরুল কায়েস প্রান্ত এবং তার দুই মামা হাসান ও ওমর। হাসান ও ওমর প্রান্তের মা ইয়াসমিন আক্তার নিপার চাচাত ভাই। সেই সূত্রে তারাও রেলমন্ত্রীর স্ত্রী মনির আত্মীয়।

টিটিই শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলেন প্রান্ত। ওই ঘটনা নিয়ে তদন্তে কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি ক্ষোভ ঝাড়েন সাংবাদিকদের উপর।

তার ভাষায়, “আমরা সামগ্রিক বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছিলাম, অথচ সাংবাদিকরা সামান্য একটি বিষয়কে অহেতুক টানা-হেঁচড়া করেছেন।”

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের এটিও সাজেদুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত ওই তদন্ত কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন  সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) শিপন আলী এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সহকারী কমান্ডেন্ট (এসিআরএনবি) আবু হেনা মোস্তফা কামাল।