মানুষ ভালো থাকলে ফখরুল সাহেবেদের মন খারাপ থাকে: ওবায়দুল কাদের

দেশের মানুষ ভালো থাকলে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মন খারাপ থাকে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।  

বৃহস্পতিবার গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের সামর্থ্যরে স্মারক এই পদ্মা সেতু। আজ পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। শতভাগ সততার সাথে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এজন্য বিএনপি নানা অপবাদ দিচ্ছে। যারা দুর্নীতির অপবাদ দেন তাদের বিশ্ব ব্যাংকের বক্তব্যের দিকে নজর দিতে হবে। বিশ্ব ব্যাংক অবশেষে স্বীকার করেছে, তারা পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে সরে গিয়ে ভুল করেছে।

“পদ্মা সেতু হয়ে গোল। মানুষ খুশি। দেশের মানুষের ভালো মানুষ ভালো আছে। কিন্তু ফখরুল সাহেবর মন খারাপ। দেশের মানুষ ভালো থাকলে বিএনপির সকলের মন খারাপ হয়, বিশেষ করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের।”

বিএনপির উদ্দেশে সেতুমন্ত্রী বলেন, গত ১৩ বছরের আন্দোলনে তারা ব্যর্থ, তাদের আন্দোলন হবে আর কোন বছর? তারা নির্বাচনে ব্যর্থ, এখন পদ্মা সেতু দেখে বিএনপির গাত্রদাহ হয়েছে। আজকে বিআরটি প্রকল্প হয়ে যাচ্ছে, মেট্রোরেল হয়ে যাচ্ছে, কর্ণফুলী টানেল হয়ে যাচ্ছে। সামনে ভোট বিএনপির মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ বিরোধীদের মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আজকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব সারা দুনিয়ায় হয়েছে। জিনিসপত্রের দাম ফুয়েলের ওপর, জ্বালানির ওপর – সারা দুনিয়ায় এর প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়। এ দেশেও তার প্রভাব পড়েছে। এ নিয়েও তারা ফায়দা লুটতে চচ্ছে। 

কাদের দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “সম্মেলনে আমি দেখতে পাচ্ছি হাজার হাজার মানুষ ঐক্যবদ্ধ, এবং তারা দলে দলে এই সম্মেলনে এসেছে। আপনারা আজ এই সম্মেলন থেকে শপথ নিন। সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আপনাদেরকে শুধু বলব ঐক্যবদ্ধ থাকতে। সকলে অন্তর্কলহ বিরোধ মিটিয়ে ফেলুন।”

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ইনশাল্লাহ ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ নিয়ে আগামী নির্বাচনে আমরা বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাব।”

বিগত উপজেলা পরিষদসহ অন্যান্য নির্বাচনে যারা নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন তাদের বাদ দিয়ে তৃণমুল নেতা-কর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠনের জন্য উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতাদের আহ্বান জানান তিনি।

বিআরটিসহ দেশের মেগা প্রকল্প নিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, “বিআরটি প্রকল্প চলাকালে আমি জানি গাজীপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত অনেক ভোগান্তি হয়েছে। গাজীপুর থেকে ঢাকা যাতায়াতে তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লেগেছে। আমি আপনাদেরকে আশ্বস্ত করতে চাই বিআরটির শতকরা ৭৫ ভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে। বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের নিচের দিকে আর দুর্ভোগ হওয়ার সুযোগ নাই। আমরা খুব কাছাকাছি এসে গেছি, কাজ সমাপ্তের পথে। আপনারা হাফ এন অওয়ারের মধ্যে ঢাকা থেকে গাজীপুর চলে আসবেন।”

পদ্মা সেতু নির্মাণ করা নিয়ে সেতু মন্ত্রী বলেন, পদ্মা খরস্রোতা নদী। এরজন্য ফেরি চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। আগে পদ্মা পার হতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগত। এখন ৬ থেকে ৭ মিনিটের মধ্যে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে চলে যাবেন। এটি ৩০ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প । পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করাই ছিল এক দুষ্কর ব্যাপার। একদিকে কাজ শুরু হয় সামনের দিকে এগিয়ে যেতে আবার পেছন দিকে ভাঙে।

গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজের পরিচালনায় সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আজমসহ কেন্দ্রীয় অনেক নেতানেত্রী বক্তব্য রাখেন।

১৯ বছর পরে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করেন কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও এলাকা থেকে বাদ্য বাজিয়ে প্রিয় নেতাদের ছবিযুক্ত ব্যানার ও পোস্টার বহন করে দলের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সম্মেলনস্থলে পৌঁছেন।েএক সময় গাজীপুর নগরী লোকারণ্য হয়ে যায় এবং মিছিলে মিছিলে এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। দুপুর হওয়ার আগেই সম্মেলনস্থল মানুষে কানায়কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

কাউন্সিলে সভাপতি- সম্পাদক পুনর্নির্বাচিত

বিকালে জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের দ্বিতীয় সেশনে কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক থাকছেন পুরানা কমিটির দুইজনই। তারা হলেন যথাক্রমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও ইকবাল হোসেন সবুজ।

কমিটি ঘোষণা করেছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

জেলা দপ্তর সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন দেলু জানান, ১৯ বছর পর জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে ২০০৩ সালের ২৯ জুন জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর ১৩ বছর পর ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর সম্মেলন ছাড়াই কেন্দ্র থেকে আ ক ম মোজাম্মেল হককে পুনরায় সভাপতি এবং ইকবাল হোসেন সবুজকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে। ২০১৭ সালের ২২ জুলাই পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি অনুমোদন হয়।