কুমিল্লায় ‘ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মত খেলা’ দেখতে চান সিইসি

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সংঘাতময় না হয়ে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ফুটবল খেলার মতো প্রতিযোগিতাপূর্ণ হবে বলে আশা করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।

তিনি বলেছেন, “আমরা নির্বাচনে যুদ্ধ চাই না, প্রতিযোগিতা চাই। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার খেলার মত। এখানে কেউ বিজয়ী হবে, কেউ হারবে। তবে কেউ পেশীশক্তির ব্যবহার করবেন না।”

রোববার দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে আসন্ন সিটি নির্বাচনের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিতে হয়েছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তার কমিশনের অধীনে এটাই হবে প্রথম নির্বাচন।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, “আমরা আনন্দমুখর একটি পরিবেশ চাই। আনন্দমুখর পরিবেশে নির্বাচন করতে আমরা প্রস্তুত আছি।”

এর বাইরে কেউ ভিন্ন কিছু ভাবলে তাদের হুঁশিয়ার করে সিইসি বলেন, “যদি কোনো প্রার্থী পেশীশক্তি ব্যবহার করে বিজয়ী হওয়ার চেষ্টা করেন, সেটা হবে চরম ভুল। আমরা প্রয়োজনে নির্বাচন বন্ধ করে দেব।”

এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর হবেন জানিয়ে হাবিবুল আউয়াল বলেন, “যদি কেউ নির্বাচনে কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বিজয়ী হন এবং তা যদি নির্বাচনের পরে তদন্ত করে বের করা যায়, সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণসহ ফৌজদারি আইনে মামলা দায়ের করা হবে।

“এ ছাড়া কোনো কারণে যদি কোনো কেন্দ্রে ইভিএম নষ্ট হয়, কেউ নষ্ট করে ফেলে… কোনো ভোটার যদি বিকেল ৪টার আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তাদের জন্য রাত ১টায় হলেও ভোটগ্রহণ করা হবে।”

সিইসির ভাষায়, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি কমিশন নিয়ে রেখেছে। এখন কেউ যদি সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করার পাঁয়তারা করে, তারা ‘নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনবে’।

“তাই কাউন্সিলর, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও মেয়র প্রার্থীদের অনুরোধ করব, তারা যেন সৌহার্দ্য বজায় রেখে নির্বাচন শেষ করেন।”

নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর, নির্বাচন কমিশনের যুগ্মসচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, জেলা পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমেদ, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং অফিসার মো. শাহেদুন্নাবী চৌধুরী, কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. দুলাল তালুকদার এবং নির্বাচনের প্রার্থীরা মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন।

আগামী ১৫ জুন কুমিল্লা সিটিতে ১০৫ কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে এখন ১৪৭ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন।

নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন ভোটার সিদ্ধান্ত নেবেন, আগামী পাঁচ বছর কাদের হাতে তারা সিটি করপোরেশন পরিচালনার ভার তুলে দেবেন।