উদ্বেগজনক, দুঃখজনক ও লজ্জাজনক: কামাল হোসেন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2018-12-30 11:03:40 BdST

bdnews24
ফাইল ছবি

সারাদেশে ভোটের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।

রোববার সকাল ৯টায় বেইলি রোডে ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে এই প্রতিক্রিয়া জানান।

নিজের কেন্দ্রে পরিবেশ ভালো মন্তব্য করে গণফোরাম সভাপতি বলেন, “মিনিটে মিনিটে টেলিফোন কল আসছে যে, ‘কামাল ভাই আমাদের এখানে রাতেই হয়ে গেছে, সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয়ে গেল।’ এগুলো আমার পকেটে ভর্তি।

“জায়গায় জায়গায় যে খবরগুলো পাচ্ছি, এটা উদ্বেগজনক। এগুলো খুবই দুঃখজনক, লজ্জ্বাজনক।”

এভাবে ভোটকেন্দ্র দখল ও ভোট দিতে বাধা দেওয়াকে একাত্তরের শহীদ ও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ‘বেঈমানি’ করা হিসাবে মন্তব্য করে কামাল হোসেন।

বঙ্গবন্ধু সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, “উনিও জীবন দিয়েছিলেন। তাজউদ্দিন সাহেব, নজরুল ইসলাম সাহেবেও জীবন দিয়েছিলেন। আমাদের অসংখ্য পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জীবন দিয়েছিলেন, অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধারা জীবন দিয়েছিলেন। এসবের বিষয়ে আইনানুগভাবে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে।”

অনেকের ভোট দিতে না পারা এবং ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে  কামাল হোসেন বলেন, “এগুলো বসে বসে লিখছি। আমরা দাবি করব, এসবের উপর তদন্ত যাতে ঠিক মতো হয়।

“যারা মানুষের ভোটের অধিকার নিয়ে নিচ্ছে, এটা সবচেয়ে বড় অপরাধ। ভোট অধিকার নিয়ে নেওয়ার অর্থ হচ্ছে শহীদদের সাথে বেঈমানি করা। এটা শহীদদের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা।’’

অভিযোগগুলো লিপিবদ্ধ করে নির্বাচন কমিশন ও সরকারকেও দেওয়া হবে বলে জানান ভোটের আগে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত ঐক্যফ্রন্টের এই নেতা।

এর আগে বেইলি রোডের বাসা থেকে গাড়িতে চড়ে ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন ড. কামাল হোসেন।

কালো কোট পরা সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী স্কুলের তৃতীয় তলায় ৩০১ নম্ব কক্ষে ভোট দেন। ভোটের ব্যালট বাক্সে ফেলার পর বিজয়সূচক ‘ভি’ চিহ্ন দেখান তিনি।

জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী- এমন প্রশ্নে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল বলেন, “আমরা জয়ের উপরে বিশ্বাস করি ও রাজনীতিও করি।দেশের মালিকানার সম্পর্কে আমি আশাবাদী।”

তিনি বলেন, “দেশের জনগণ ক্ষমতার মালিক। স্বাধীনতার ৪৭ বছর হয়ে গেছে, আমাদের মালিকানা কেউ নিয়ে নিতে পারেনি, অনেক আক্রমণ হয়েছে, অনেক লোককে খুন করা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দিনসহ অনেককে …… ।তারপরও আমাদের স্বাধীনতা কেউ কেড়ে নিতে পারেনি এবং পারবে না।”

ড. কামাল হোসেন বলেন, “লাখো শহীদের প্রাণের বিনিময় এই ভোটের অধিকার পেয়েছি। এটা সব সময় অনুভব করেছি। তাদের কথা স্মরণ করেছি যারা একাত্তরে জীবন দিয়েছিলো। ভোটের মূল্য হলো দেশের মালিক। সেজন্য আমরা ভোট দিতে পেরেছি।”

“এখানে (এই কেন্দ্রে) ব্যাপক মানুষ আছেন সকাল থেকে। এটা আমাকে উৎসাহিত করছে। অনেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। একজন বৃদ্ধ আমার মতো, তিনিও ভোট দিতে এসেছেন। এটা উৎসাহজনক।”

কামাল হোসেনের স্ত্রী হামিদা হোসেন,  দুই মেয়ে সারা হোসেন ও দীনা হোসেন সকালে একই কেন্দ্রে ভোট দেন।

কোন নির্বাচনে
কোন আসনে কার অবস্থান কী