১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৫ ফাল্গুন ১৪২৫

অশ্রুনয়নে ‘সরে দাঁড়ালেন’ সালমা

  • তাবারুল হক, দোহার-নবাবগঞ্জ থেকে, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2018-12-30 14:53:27 BdST

bdnews24
ভোটগ্রহণের মাঝপথে বর্জন করেন ঢাকা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা ইসলাম। রোববার দুপুরে নবাবগঞ্জের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তার স্বামী ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বাবুল। পাশে বসা সালমা এসময় কাঁদছিলেন। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

ভোটগ্রহণ শুরুর চার ঘন্টার মাথায় ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা এসেছে ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা ইসলামের পক্ষ থেকে।

রোববার দুপুরে ঢাকার এক প্রান্তের নবাবগঞ্জে কামারখোলা এলাকার বাড়িতে প্রার্থীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের এই ঘোষণা দেন প্রার্থীর স্বামী ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বাবুল।

নিজেদের বাড়িতে বাবুল যখন সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন, তখন পাশে বসা তার স্ত্রী সালমাকে কাঁদতে দেখা যায়। বারবার টিস্যু দিয়ে চোখের জল মুছতে ছিলেন তিনি।

স্ত্রী সালমাকে উদ্ধৃত করে বাবুল বলেন, “আমার এজেন্ট ও ভোটারদের জানমালের রক্ষার্থে সরে দাঁড়ালাম। পুনরায় ভোট করার দাবি করছি। প্রধানমন্ত্রী এখানে আবার সুন্দর ও ভালো পরিবেশে একটা নির্বাচনের ব্যবস্থা করাবেন। এটা আমি আশা রাখি।”

দোহার-নবাবগঞ্জে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “জনগণ, ভোটারদের নিরাপত্তা- সমস্ত কিছু বিবেচনা করে আমরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম। এ নির্বাচন স্থগিত চাই। পুনরায় ঢাকা-১ আসনে নির্বাচন চাই।”

বিএনপিবিহীন ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নৌকার আবদুল মান্নান খানকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সালমা।

বিএনপি নেতা আবু আশফাক খন্দকারের প্রার্থিতা বাতিলের প্রেক্ষাপটে এবার সালমার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের সালমান এফ রহমান।

সাংসদ সালমা ইসলাম যমুনা গ্রুপের মালিক নুরুল ইসলাম বাবুলের স্ত্রী; যুগান্তর, যমুনা টিভির মালিকানা তাদেরই।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বেক্সিমকো গ্রুপের অন্যতম মালিক সালমানের মালিকানায় রয়েছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন ও পত্রিকা।

ভোটের একদিন আগে প্রতিদ্বন্দ্বী সালমার বাড়িতে গিয়ে তার হাতে ফুল দিয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন সালমান এফ রহমান।

ভোটগ্রহণের মাঝপথে বর্জন করেন ঢাকা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা ইসলাম। রোববার দুপুরে নবাবগঞ্জের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তার স্বামী ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বাবুল। পাশে বসা সালমা এসময় কাঁদছিলেন। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

ভোটগ্রহণের মাঝপথে বর্জন করেন ঢাকা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা ইসলাম। রোববার দুপুরে নবাবগঞ্জের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তার স্বামী ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বাবুল। পাশে বসা সালমা এসময় কাঁদছিলেন। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

অন্যদিকে ধানের শীষের বিএনপির প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিপরীতে মোটর গাড়ি প্রতীকের সালমাকে সমর্থন দিয়েছিল বিএনপি।

সালমার সরে দাঁড়ানোর ব্যাখ্যায় ব্যবসায়ী বাবুল বলেন, “গতরাতে আওয়ামী লীগের কিছু লোক আমাদের এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশের সহায়তা গ্রেপ্তার করেছে। কাউকে বাড়িতে থাকতে দেয়নি। হত্যা-ক্রসফায়ারের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। কারো বাড়িঘরে আগুন লাগানো হয়েছে।

“বহু কষ্টে আমরা এজেন্ট দিয়েছিলাম। ভয়ের কারণে আমাদের এজেন্টদের অধিকাংশই আসেনি। কেউ কেউ কেন্দ্রে এসেছিল। পৌনে ১১ টার মধ্যে আমাদের ১৫০টি কেন্দ্রই এজেন্টবিহীন করা হয়। ১১ টা বাজতেই ১৭১টি কেন্দ্রেই একজনও থাকতে পারল না, বের করে দিয়েছে।”

নুরুল ইসলাম বাবুল বলেন, “আমি একজন ব্যবসায়ী। আমি সব সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। প্রধানমন্ত্রীর আদর্শে বিশ্বাস করি। উনার উপরে শ্রদ্ধা রেখে সরে দাঁড়ালাম, প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি রাখলাম এখানে সুন্দর নির্বাচন দিবেন।”

ঢাকা-১ আসন ছাড়া সব এলাকায়ই ‘ভালোভাবে হচ্ছে’ হচ্ছে বলে মনে করছেন বাবুল। সালমান রহমান নির্বাচনকে ‘বিতর্কিত’ করেছেন বলেই ভাষ্য তার।

আওয়ামী লীগ সভাপতির বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমানকে উদ্দেশ ব্যবসায় বাবুল বলেন, “এখানে একজন শিল্পপতি যিনি বিতর্কিত, তিনি আওয়ামী লীগের না। আপনারা জানেন, তার সম্পর্কে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না। এ নির্বাচনকে বিতর্কিত না করলেই হতো। কারণ, আমরা দু’জনই আওয়ামী লীগ।”

অন্য এজেন্ট নেই, ভোটকেন্দ্রেই নৌকার সমর্থকদের ভোজ

এদিকে ঘাটা-১ সারকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সালমানের ছাড়া অন্যদের পোলিং এজেন্ট পাওয়া যায়নি।

নৌকা প্রার্থীর এজেন্ট ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রের ভেতরে-বাইরে হাঁটাহাঁটি এবং খাওয়া-দাওয়া করতে দেখা গেছে।

কেন্দ্রের ভেতরে এমন বিশৃঙ্খলার ছবি তুলে গেলে কয়েকজন আওয়ামী লীগকর্মী তেড়ে এসে থামিয়ে দেন বলে জানান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফটো সাংবাদিক আসিফ মাহমুদ অভি।

সেখানে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থেকেও ভোট দিতে না পারার অভিযোগ করেন বেশ কয়েকজন ভোটার।

একাধিক ভোটার ভোট কেন্দ্রের বাইরে এসে এক ভোটার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ ভোটের গতি কম। যারা ভোট নিচ্ছে তারা বলছেন পরে আইসেন।”

এই কেন্দ্রটিতেও সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণও করছেন সালমানের এজেন্টরা।

ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকতে চাইলে নৌকার এজেন্ট মোশারফ হোসেন এগিয়ে এসে বলেন, “আপনারা সাংবাদিক? ও আচ্ছা।”

এরপরই সাংবাদিকদের কাছে ছুটে আসেন ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আব্দুর রহমান।

ভোট না দিয়ে ভোটারদের ফিরে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “কোনো ভোটার ফিরে যচ্ছে না। সুষ্ঠু ভোট হচ্ছে।”

কেন্দ্রের ভেতরে যাওয়া অনুমতি চাইলে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা বলেন, “ভেতরে যাওয়ার সুযোগ নেই। বাইরে থেকেই দেখতে হবে।”

কোন নির্বাচনে
কোন আসনে কার অবস্থান কী