১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৫ ফাল্গুন ১৪২৫

ভোটের সংঘাতে নিহত ১৭, অধিকাংশই আ. লীগের

  • নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2018-12-30 20:15:09 BdST

bdnews24

বিভিন্ন স্থানে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা আর সংঘাতের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ১৩ জেলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের আটজনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থক।

রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯ আসনে এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলে। চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীসহ কয়েকটি স্থানে কেন্দ্র দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে আগের রাতেই সংঘাত শুরু হয়।

বিকালে ভোট শেষ হওয়া চট্টগ্রামে তিনজন, রাজশাহীতে দুইজন, কুমিল্লায় দুইজন এবং কক্সবাজার, বগুড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, রাঙামাটি, সিলেট, যশোর, লালমনিরহাট, নাটোর ও গাজীপুরে একজন করে নিহত হওয়ার খবর পাঠিয়েছেন আমাদের জেলা প্রতিনিধিরা।

এবার ভোটের প্রচারের শেষ দিকে এসে গত ২৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এক অনুষ্ঠানে বলেন, গত ১ থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের দলের পাঁচজন নেতাকর্মী নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হয়েছেন।

আর রোববার সকালে ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোট দেওয়ার পর তিনি বলেন, কেবল ডিসেম্বরেই আওয়ামী লীগের ১০ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন।

এরপর সারা দিনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সংঘাতে হতাহতের ঘর আসতে থাকে। সন্ধ্যায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেন, ভোট ঘিরে দেশের ১৪টি স্থানে অন্তত ১৮ জন নিহতহ হওয়ার খবর তাদের হাতে রয়েছে।

অবশ্য বিগত নির্বাচনগুলোর সঙ্গে তুলনা করে এবারের জাতীয় নির্বাচনকে ‘সংঘাতহীন’ বলতে চাইছে আওয়ামী লীগ।

ভোটের দুপুরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, “বাংলাদেশের গত ৪৭ বছরের ইতিহাসে, আমি বলতে পারি, এবারের নির্বাচন সংঘাতহীন হয়েছে। কিছু জায়গায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও তা অত্যন্ত নগণ্য।”

চট্টগ্রাম

ভোট শুরুর আগে শনিবার রাতে চট্টগ্রামের পটিয়ায় বিএনপিকর্মীদের হামলায় এক যুবলীগ কর্মীর নিহত হওয়ার খবর দেয় পুলিশ।

নিহত দ্বীন মোহাম্মদের বাড়ি (৩৫) কুসুমপুরা ইউনিয়নের গুরনখাইন এলাকায়।

পটিয়া থানার ওসি নিয়ামত উল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গুরনখাইন এলাকায় রাত ১০ টার দিকে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে যুবলীগকর্মী দ্বীন মোহাম্মদকে হত্যা করে। ইটের আঘাতে তাকে হত্যা করা হয়।”

চট্টগ্রাম- ১২ (পটিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যবসায়ী এনামুল হক এনাম। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী।

দ্বীন মোহাম্মদের ভাতিজা সাইফুর রহমান মামুন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভোটের আগে আমাদের একটি বৈঠক ছিল। বৈঠক থেকে ফেরার পথে ফকিরা মসজিদ বাজার এলাকায় পেছন দিক থেকে বিএনপিকর্মীরা আমাদের উপর হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ও ইট-পাথর দিয়ে আঘাত করে।”

এ বিষয়ে ধানের শীষের প্রার্থী এনাম কিংবা বিএনপি নেতাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভোটের আগের রাতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কাথারিয়া ইউনিয়নের বরইতলী এলাকায় একটি কেন্দ্র দখলের চেষ্টায় ত্রিমুখী সংঘর্ষ বাঁধলে জাতীয় পার্টির এক কর্মী গুলিতে নিহত হন।

নিহত আহমদ কবিরের (৪৫) বাড়ি ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে। রাতে সংঘর্ষের পর বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে নির্বিঘ্নেই ভোট হয়।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আফরুজুল হক টুটুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওই এলাকাটি জামায়াত অধ্যুষিত। শনিবার রাত আড়াইটার দিকে তারা বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখলের জন্য গেলে জাতীয় পার্টির সমর্থকরা বাধা দেয়। এসময় পুলিশ বাধা দিতে গেলে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়।”

বাঁশখালী আসনে এবার ভোটের লড়াই হচ্ছে চর্তুমুখী। লাঙ্গল নিয়ে জাতীয় পার্টির নেতা সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী নৌকা প্রতীক নিয়ে, বিএনপির জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এবং জামায়াত নেতা জহিরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আপেল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।

পটিয়ার অন্য ঘটনাটি ঘটে সকাল সোয়া ১০টার দিকে পশ্চিম মালিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকায়।

পুলিশ বলছে, ওই কেন্দ্র দখলের চেষ্টায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাদলে আবু সাদেক নামে এক যুবক নিহত হন। তিনি বিএনপি সমর্থক ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার হাবিবুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় গুলিও ছোড়া হয়। তবে কেন্দ্রে ভোট বন্ধ হয়নি।

রাজশাহী

রোববার ভোট চলাকালে রাজশাহীর মোহনপুর ও তানোরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। 

এর মধ্যে মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের পাকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের সামনে মিরাজুল ইসলাম (৩০) নামের এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। 

রাজশাহী- ৩ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী আয়েন উদ্দিন বলেন, নিহত মিরাজুল পাইকগাছা গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। তিনি নৌকার পক্ষে প্রচারে ছিলেন।

 আয়েন উদ্দিন বলেন, “বিএনপির কর্মীরা পাকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র দখল করতে  যায়। এ সময় আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাদের বাধা দিতে গেলে মিরাজুলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।”

জেলার পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ বলেন, পাকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে একজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়।পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারা মৃত্যু হয় বলে তারা শুনেছেন।

মোহনপুর-পবা এলাকা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের আইনউদ্দিন নৌকা এবং বিএনপির শফিকুল হক মিলন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। 

তানোরে নিহত মোদাচ্ছের আলী (৪০) পাঁচন্দর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পাঁচন্দর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে হামলায় তিনি নিহত হন।

তানোর থানার ওসি রেজাউল ইসলাম বলেন, “জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ভোটারদের এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে। এ সময় লাঠির আঘাতে মোদাচ্ছের আলী গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”

হামলার খবর পেয়ে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশসহ বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান তিনি।

কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মোরশেদ আলী মৃধা বলেন, হামলার পর প্রায় দুই ঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। পরে আবার শুরু হয়।

তানোর-গোদাগারী নিয়ে গঠিত রাজশাহী-১ আসনে আওয়ামী লীগের  ওমর ফারুকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন বিএনপির ব্যরিস্টার আমিনুল হক।

কুমিল্লা

কুমিল্লা-৭ আসনে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন এলডিপিকর্মী, অন্যজন বিএনপিকর্মী।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদু্ল্লাহ আল মামুন জানান, বেলা ১১টার দিকে চান্দিনা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে পশ্চিম বেলাশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং লাঙ্গলকোট উপজেলার মুর্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে তারা নিহত হন।

চান্দিনায় নিহত মজিবুর রহমান (৩৫) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার লাজৈর গ্রামের সুজাত আলীর ছেলে। আর লাঙ্গলকোটে নিহত বাচ্চু মিয়া (৫০) উপজেলার সন্ধ্যাইল গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার ছেলে।

সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এসএম জাকারিয়া বলেন, কুমিল্লা-৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী  এলডিপির রেদোয়ান আহমেদের কর্মীরা সকালে চান্দিনা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে পশ্চিম বেলাশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ‘দখলের চেষ্টা’ করে।

“একপর্যায়ে তারা একটি বুথের ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ গুলি ছুড়লে তিনজন আহত হন। পরে এলডিপি কর্মী মজিবুর মারা যায়।”

অন্য ঘটনাটি ঘটে লাঙ্গলকোট উপজেলার মুর্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে বটতলি এলাকায়। সেখানে বাচ্চু মিয়া নামে এক বিএনপিকর্মী নিহত হয়।

লাঙ্গলকোট থানার ওসি বলেন, মুর্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে দুই পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া হয়। এ সময় লাঠির আঘাতে বাচ্চু মারা যায়।

 কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ মুহসিনুজ্জামান মহসিন জানান, লাঙ্গলকোট ও চান্দিনা থেকে আসা দুটি লাশ তাদের হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।

বগুড়া

বগুড়ায় কাহালু উপজেলায় একটি ভোট কেন্দ্রের সামনে এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।এ

উপজেলার পাইকোল ইউনিয়নের বাগুইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বাইরে রোববার বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে কাহালু থানার ওসি শওকত কবীর জানান।

নিহত আজিজুল হক পাইকোল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আহত দোয়েলকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি যুবলীগের কর্মী।   

ওসি শওকত বলেন, “বাগুইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে আজিজুল ও দোয়েলসহ কয়েকজন ভোটারদের মধ্যে নৌকার স্লিপ দিচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপির লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে।”

এতে ঘটনাস্থলেই আজিজুলের মৃত্যু হয় বলে এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

বগুড়া- ৪ (কাহালু) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোশররফ হোসেন, আর মহাজোটের প্রার্থী রেজাউল করিম তানসেন।        

রাঙামাটি

রাঙামাটির কাউখালি উপজেলায় বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে এক যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন; এছাড়া আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।

নিহত মো. বাছির উদ্দিন ঘাগড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুর রহমান বলেন, “ঘাগড়া ইউনিয়নের রাঙ্গীপাড়া এলাকায় রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বিএনপি ও যু্বলীগ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় গোলাগুলিতে বাছিরসহ ১১ জন আহত হয়।”

বাছিরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান ইউএনও।

তবে কী নিয়ে এই সংঘর্ষ সে বিষয়ে ইউএনও কিছু বলতে পারেননি।

সংঘর্ষে আহত আরও ১০ জনকে কাউখালি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ মিয়া জানান।

রাঙ্গামাটি আসনে দীপঙ্কর তালুকদার আওয়ামী লীগ এবং এবং মনি স্বপন দেওয়ান বিএনপির মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

নোয়াখালী

কেন্দ্র দখলে বাধা দেওয়ায় নোয়াখালী-৩ আসনে বেগমগঞ্জের এক কেন্দ্রে এক আনসার সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে।

রোববার বেগমগঞ্জের গোপালপুর ইউনিয়নের তুলারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইলিয়াস শরীফ জানান।

নিহত নূর নবী বেগমগঞ্জের আমানুল্লাপুর ইউনিয়নের জয়নারায়ণপুর গ্রামে মতিন মিয়ার ছেলে।

পুলিশ সুপার বলেন, “বিএনপি-জামায়াতের সমর্থকরা দুপুরে কেন্দ্র দখল করতে গেলে বাধা দিতে গিয়ে হামলায় আহত হন নূরনবী। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।”

নোয়াখালী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মামুনুর রশিদ কিরণের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন বিএনপির বরকত উল্লাহ বুলু।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর) আসনের ভোটকেন্দ্রে গুলিতে এক কিশোর নিহত হয়েছে; গুলিবিদ্ধ হয়েছে আরও তিনজন।

নিহত ইসরাইল হোসেন সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের রাজঘর গ্রামের সাঈদ মিয়ার ছেলে।

ইসরায়েলের বাবা সাঈদ মিয়া বলেন, রোববার বেলা ১২টার দিকে তার ছেলে রাজঘর কেন্দ্রে ভোট দেখতে যায়।

“ইসরাইল আওয়ামী লীগের কর্মী হলেও সে এখনও ভোটার হয়নি। তার বয়স ১৭ বছর। ওই কেন্দ্রে সে ভোট দেখতে গিয়েছিল। পরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর শুনে গিয়ে দেখি মারা গেছে।”

পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর) আসনের মহাজোট প্রার্থী রাজঘর কেন্দ্রে গেলে একদল লোক তার ওপর হামলার চেষ্টা করে। এ সময় গোলযোগে হতাহতের ঘটনা ঘটে।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শওকত হোসেন বলেন, তার হাসপাতালে চারজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ইসরায়েলকে নেওয়া হয়েছিল মৃত অবস্থায়।

আহতদের মধ্যে রাসেল মিয়া (২৬) নামে একজনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আহত অন্য দুইজনকে তাদের হাসপাতালে চিকিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে নৌকার র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন ধানের শীষের মো. খালেদ হোমেন মাহবুবু।

কক্সবাজার

কক্সবাজারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষে এক যুবলীগকর্মী নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন আরও আটজন।

পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন জানান, ‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে’ পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের টইটংয়ে রোববার বেলা ১১টার দিকে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (২৩) উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের উলুদিয়া পাড়ার আবুল কাশেমের ছেলে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ছাবের আহমদ বলেন, “আহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্র ও লাঠির আঘাতের জখম রয়েছে। নিহত আব্দুল্লাহর মৃত্যুও হয়েছে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হয়েছে।”

এছাড়া রাজাখালী ইউনিয়নের মাতব্বর পাড়ায় আরেক সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।

পুলিশ সুপার বলেন, পেকুয়া উপজেলার দুই জায়গায়ই ভোটকেন্দ্রে আসার পথে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে এসব সংঘর্ষ হয়।

কক্সবাজার-১ (পেকুয়া-চকরিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী জাফর আলমের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী হাসিনা আহমেদ।

গাজীপুর

গাজীপুর মহনগরীর হাড়িনাল উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের সামনে এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

নিহত যুবলীগ নেতা মো. লিয়াকত হোসেন (৪০) শহরের আবদুল হাই মেম্বারের ছেলে। তিনি গাজীপুর শহরের কাজী আজিম উদ্দিন কলেজের ছাত্রলীগের সাবেক ভিপি এবং মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাতি মাসুদ রানা এরশাদের বড় ভাই।

আহতরা হলেন স্থানীয় যুবলীগ কর্মী মো. আশরাফ (৪০) ও খায়রুল ইসলাম (৪০)।

মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল হাদী শামীম বলেন, “দুপুর দেড়টার দিকে ৫০-৬০ জন যুবক লাঠি-সোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজ ফটক, কাজী আজিম উদ্দিন কলেজ ও আশেপাশে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে।

“পরে তারা হাড়িনাল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এসে লিয়াকত, আশরাফ ও খায়রুলের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় এবং কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।”

তাদেরকে প্রথমে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে চিকিৎসক লিয়াকত ও আশরাফকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।

লিয়াকতের বন্ধু স্থানীয় একটি হাসপাতালের মালিক মো. হাবিবুর রহমান জানান, আহত লিয়াকতকে ঢাকার উত্তরার লেক ভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আল-আমিন নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ৮/১০ জন হাড়িনাল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে চেয়ারে বসে ছিলেন। বেলা পৌনে ২টার দিকে অর্ধশতাধিক যুবক লাঠি-সোঁটা ও দা নিয়ে তাদের কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়।

সিলেট

সিলেটের বালাগঞ্জের একটি ভোট কেন্দ্র থেকে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টার মধ্যে গণ্ডগোলে উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতা নিহত হয়েছেন।

বিকেলে সিলেট-৩ আসনের আজিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে বলে বালাগঞ্জ থানার ওসি গাজী আতাউর রহমান জানান।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আলী আহমদ সায়েম বলেন, “ভোটকেন্দ্রে গোলযোগ চলাকালে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এসময় সায়েমের বুকের নিচে গুলি লাগে।”

নিহত সায়েম আহমদ সোহেল (৩৫) বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি উপজেলার নলজুড় গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, বেলা ৩টার দিকে আজিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হট্টগোল শুরু হয়। এ সময় কয়েকজন যুবক ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। অন্যদিকে আরেকটি দল তাদের বাধা দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি ছুঁড়লে সোহেল গুরুতর আহত হন। সিলেটে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

বালাগঞ্জ থানার ওসি গাজী আতাউর রহমান বলেন, “ভোটকেন্দ্রে গোলযোগের সময় সায়েম নিহত হয়েছে। তবে কীভাবে মারা গেছে তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ছাড়া বলা যাচ্ছে না “

সিলেট-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মাহমুদ উদ সামাদ চৌধুরীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন বিএনপির শফি আহমেদ চৌধুরী।

যশোর

যশোরের অভয়নগরে ধানের শীষের এক এজেন্টকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিহত শামসুর রহমান (৮৫) উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের পাথালিয়া গ্রামের মৃত গোলাম মাওলার ছেলে।

অভয়নগর থানার ওসি আলমগীর হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,  বৃদ্ধ শামসুর রহমান ও তার দুই ভাইপো এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের এজেন্ট ছিলেন। রোববার সকালে তারা তিনজন পাথালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটের দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছিলেন।

“কেন্দ্রের কাছে নৌকার সমর্থকদের প্রতিরোধের মুখে পড়েন তারা। নৌকা সমর্থকরা তাদের মারধর শুরু করলে শামসুর রহমানের দুই ভাইপো তাকে ফেলে পালিয়ে যায়। প্রতিবেশী আরেক ব্যক্তি তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামসুর রহমান মারা যান।”

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সন্ধ্যায় যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, পুলিশ এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

যশোর ৪ (বাঘারপাড়া ও অভয়নগর) আসনে আওয়ামী লীগের রনজিৎ কুমার রায়ের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন বিএনপির টি এস আইয়ুব।

লালমনিরহাট

লালমনিরহাটে নিহত হয়েছেন এক বিএনপি নেতা।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান বাবলা জানান, নিহত তোজাম্মেল হক (৬২) সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক। তিনি ওই এলাকার খলাইঘাট গ্রামের বাসিন্দা।

সদর থানার ওসি মাহফুজ আলম বলেন, রাজপুর ইউনিয়নের পাগলারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া হলে তোজাম্মেলসহ ছয়জন আহত হন।

“তোজাম্মেলকে গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।”

নাটোর

‘ভোটের ঝগড়ায়’ ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা নিহত

‘ভোট দেওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে’ নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় ছুরিকাঘাতে চাচাকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে ভাতিজার বিরুদ্ধে।

রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে সমসখলসী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে নলডাঙ্গা থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান।

নিহত হোসেন আলী (৫৫) সমসখলসী গ্রামের ওয়ায়েস উদ্দিনের ছেলে ও আওয়ামী লীগের কর্মী।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে নিহতের স্ত্রী ইয়ার জান বলেন, হোসেন আলী সমসখলসী উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র নৌকার পক্ষে স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে কাজ করছিলেন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে তিনি কেন্দ্রের অদূরে বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে বাড়ির সামনে ভাই আসাদ আলীর ছেলে রতন আলীর সঙ্গে দেখা হয়। এ সময় হোসেন আলী ভাতিজা রতন আলীকে নৌকায় দিতে বললে তিনি ধানের শীষে ভোট দেবেন বলে জানান। এ নিয়ে দিতে চান।

“এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে রতন তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে চাচার বুকে আঘাত করেন।”

ইয়ার জান বলেন, ধস্তাধস্তির শব্দ পেয়ে বাড়ির ভেতর থেকে তিনি (ইয়ার জান) বের হয়ে স্বামীকে রক্ষার চেষ্টা করেন।

“কিন্তু এর আগে হোসেন আলী মাটিতে পড়ে যাণ এবং রতন চাকু ফেলে পালিয়ে যান।”

পরে প্রতিবেশী তাইজুল ইসলাম ও ফজলুর রহমান ছুটে এসে হোসেন আলীকে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয় বলে ইয়ার জান জানান।

ইয়ার জান জানান, তার স্বামী এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ভাতিজা রতন বরাবরই ধানের শীষের কর্মী।

তাইজুল ইসলাম ও ফজলুর রহমান জানান, তারা ঘটনাস্থলে রতনকে চাকু হাতে দেখেছেন। তবে রতন ঘটনার পর পলাতক রয়েছেন।

ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, কী কারণে হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে তা স্পষ্ট না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোন নির্বাচনে
কোন আসনে কার অবস্থান কী