পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

২০ ওভারের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ট্রফি

  • আরিফুল ইসলাম রনি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-11-14 19:23:44 BdST

নিউ জিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২১-এর চ্যাম্পিয়ন হলো অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম, নিউ জিল্যান্ডের শূন্য

ওয়ানডে বিশ্বকাপের রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া অবশেষে পেল অধরা টি-টোয়েন্টির ট্রফি। দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠে প্রথমবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পেলে তারা। আরও একবার তারা বুঝিয়ে দিল, সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে তারা ভিন্ন এক দল।

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বিশ্বকাপ শিরোপা এবারও হাতছানি দিয়ে মিলিয়ে গেল নিউ জিল্যান্ডের জন্য। এবার আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হলেও রঙিন পোশাকের কোনো সংস্করণে বিশ্বকাপ ট্রফি জয় হলো না এবারও।  

২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছেই তারা পাত্তা পায়নি। এরপর ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে দারুণ খেলেও শেষ পর্যন্ত ট্রফি জেতা হয়নি বাউন্ডারি কম মারায়। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আবার তাদেরকে হতাশা উপহার দিল অস্ট্রেলিয়া।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউ জিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৭২/৪ (গাপটিল ২৮, মিচেল ১১, উইলিয়ামসন ৮৫, ফিলিপস ১৮, নিশাম ১৩*, সাইফার্ট ৮*; স্টার্ক ৪-০-৬০-০, হেইজেলউড ৪-০-১৬-৩, ম্যাক্সওয়েল ৩-০-২৮-০, কামিন্স ৪-০-২৭-০, জ্যাম্পা ৪-০-২৬-১, মার্শ ১-০-১১-০)।

অস্ট্রেলিয়া: ১৮.৫ ওভারে ১৭৩/২ (ওয়ার্নার ৫৮, ফিঞ্চ ৫, মার্শ ৭৭*, ম্যাক্সওয়েল ২৮*; বোল্ট ৪-০-১৮-২, সাউদি ৩.৫-০-৪৩-০, মিল্ন ৪-০-৩০-০, সোধি ৩-০-৪০-০, স্যান্টনার ৩-০-২৩-০, নিশাম ১-০-১৫-০)।

ম্যান অব দা ম্যাচ: মিচেল মার্শ

ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট: ডেডিড ওয়ার্নার

অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়ন

টিম সাউদির বলে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের রিভার্স স্কুপে বাউন্ডারিতে নিশ্চিত হয়ে গেল অস্ট্রেলিয়ার জয়। উইকেটে ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গী মিচের মার্শ ডানা মেলে দিলেন। তার সতীর্থরা মেতে উঠলেন বাঁধনহারা উল্লাসে।

৭ বল বাকি রেখে ৮ উইকেটের দারুণ জয়ে অস্ট্রেলিয়া পেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম শিরোপার স্বাদ।

অ্যারন ফিঞ্চ তৃতীয় ওভারে আউট হলেও দলকে সেই ধাক্কা বুঝতেই দেননি মার্শ। প্রথম বলেই দুর্দান্ত ছক্কায় শুরু, পরের দুই বলে চার। এরপর তাকে আর থামানো যায়নি। মন্থর শুরুর পর জ্বলে ওঠেন ডেভিড ওয়ার্নারও। মার্শ পরে কাজ শেষ করেন ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে।

৫০ বলে ৭৭ রানে অপরাজিত মিচেল মার্শ। ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ম্যান অব দা ফাইনাল নিশ্চিতভাবেই তিনি। ম্যাক্সওয়েল অপরাজিত ১৮ বলে ২৮ রানে। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটির রান ৬.৩ ওভারে ৬৬!

মার্শের জীবন

শেষবেলায় এসে ব্যবধান কমানোর একটি সুযোগ পেয়েছিলেন ট্রেন্ট বোল্ট। তার বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দিয়েছিলেন মিচেল মার্শ। কিন্তু ফলো থ্রুতে বল হাতে জমাতে পারেননি বোল্ট। মার্শ জীবন পেলেন ৬৮ রানে।

জুটির পঞ্চাশ

বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মিচেল মার্শ ও গ্লেন ম্যাকওয়েল জুটির ফিফটি এলো বলেই। তাতে মার্শের অবদান ১৪ বলে ২২, ম্যাক্সওয়েলের ১৩ বলে ২১।

এই দুজনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে জয় এখন অস্ট্রেলিয়ার নাগালে।

মার্শের ফিফটি

ইশ সোধির বল গ্যালারির উঁচু ধাপে আছড়ে ফেলে মিচেল মার্শ পা রাখলেন ফিফটিতে। গড়লেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডও।

এই ম্যাচের প্রথম ইনিংসেই ৩২ বলে ফিফটির রেকর্ড গড়েছিলেন কেন উইলিয়ামসন। একই ম্যাচে সেই রেকর্ড অতীত করে দিলেন মার্শ ৩১ বলের ফিফটিতে।

অবশেষে উইকেট

অপ্রতিরোধ্য মনে হওয়া জুটি অবশেষে থামালেন ট্রেন্ট বোল্ট। অতি আগ্রাসী শট খেলতে গিয়ে উইকেট হারালেন ডেভিড ওয়ার্নার।

জুটি ভাঙতেই বোল্টকে ত্রয়োদশ ওভারে আক্রমণে আনেন কেন উইলিয়ামসন। বোল্টের একটি লেংথ বলে অনেকটা সুইপের মতো করে পুল করতে যান ওয়ার্নার। কিন্তু বলটি অতটা শর্ট ছিল না। ব্যাট ফাঁকি দিয়ে বল ছোবল দেয় স্টাম্পে।

৩৮ বলে ৫৩ করে আউট হলেন ওয়ার্নার। মার্শের সঙ্গে জুটি থামল ৫৯ বলে ৯২ রানে।

নতুন ব্যাটসম্যান গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

অস্ট্রেলিয়ার একশ

৭ ওভারে দলীয় ফিফটি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার। পরের পঞ্চাশ এলো আরেকটু দ্রুততায়। ১১.৩ ওভারে তাদের রান পা রাখল তিন অঙ্কে।

ওয়ার্নারের ফিফটি

সেমি-ফাইনালে ১ রানের জন্য ফিফটি পাননি ডেভিড ওয়ার্নার। ফাইনালে এগিয়ে গেলেন আরেকধাপ। জিমি নিশামের বল গ্যালারিতে পাঠিয়ে ফিফটি করে ফেললেন ৩৪ বলেই। অথচ এক সময় ২০ বলে তার রান ছিল ১৯!

ফিফটিতে চারটি চারের ছক্কা ওয়ার্নার ছক্কা মেরেছেন ৩টি।

টুর্নামেন্টে ওয়ার্নারের তৃতীয় ফিফটি এটি।

মাঝপথে ঠিক পথে অস্ট্রেলিয়া

ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শের দারুণ ব্যাটিংয়ে রান তাড়ায় দারুণভাবেই পথে আছে অস্ট্রেলিয়া। দুর্দান্ত রানিং বিটুউইন দা উইকেটের পাশাপাশি সুযোগ পেলেই চার ছক্কায় বাড়াচ্ছেন রান।

১০ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ১ উইকেটে ৮২। জুটির রান ৪৫ বলে ৬৭। ওয়ার্নার খেলছেন ৩৩ বলে ৪৫ রানে, ২০ বলে ৩০ রানে মার্শ।

শেষ ১০ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ৯১ রান।

১০ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের রান ছিল ১ উইকেটে ৫৭।

জুটির পঞ্চাশ

ইশ সোধির বলে ডেভিড ওয়ার্নারের দুর্দান্ত টাইমিংয়ে বাউন্ডারিতে ফিফটি হলো অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় উইকেট জুটির।

৩৫ বলেই হয়ে গেল জুটির পঞ্চাশ। তাতে ওয়ার্নারের অবদান ১৯ বলে ২০, মার্শ ১৬ বলে ২৮।

অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চাশ

সপ্তম ওভারের শেষ বলে ইশ সোধির ডেলিভারিতে ডেভিড ওয়ার্নারের সিঙ্গেলে অস্ট্রেলিয়ার রান পূর্ণ হলো ৫০।

পাওয়ার প্লেতে দারুণ লড়াই

অ্যারন ফিঞ্চকে হারানোর ধাক্কা সামলে অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে নিচ্ছেন ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শ। উইকেটে যাওয়ার পর নিজের প্রথম বলেই অ্যাডাম মিল্নকে ছক্কা মারেন মার্শ, পরের দুই বলে মারেন বাউন্ডারি। পরে টিম সাউদির বল গ্যালারিতে ফেলেন ওয়ার্নার।

পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান ১ উইকেটে ৪৩।

ডেভিড ওয়ার্নার খেলছেন ২০ বলে ১৯ রান করে, ৯ বলে ১৭ মার্শ।

পারলেন না ফিঞ্চ

প্রতিপক্ষ অধিনায়কের মতো ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পাররেন না অ্যারন ফিঞ্চ। তৃতীয় ওভারে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ককে ফিরিয়ে নিউ জিল্যান্ডকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দিলেন ট্রেন্ট বোল্ট।

আগের বলেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে মিড অফ দিয় চার মারেন ফিঞ্চ। পরের বলে আবার বেরিয়ে আসেন তিনি। সেটি দেখেই বোল্ট বল দেন ঠুকে। সেই শর্ট বল টাইমিং করতে পারেননি ফিঞ্চ। স্কয়ার লেগ থেকে অনেকটা দৌড়ে মিড উইকেটে চমৎকার ক্যাচ নেন ড্যারিল মিচেল।

৭ বলে ৫ রান করে আউট ফিঞ্চ। ২.৩ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান ১ উইকেটে ১৫।

নতুন ব্যাটসম্যান মিচেল মার্শ।

লড়িয়ে রান নিউ জিল্যান্ডের

উইলিয়ামসন আউট হওয়ার পর শেষ ২ ওভারে খুব ঝড়ো ব্যাটিং করতে পারেনি নিউ জিল্যান্ড। তবে অধিনায়কের দারুণ ব্যাটিংয়ের সৌজন্যই শেষ পর্যন্ত তারা পেয়েছে ১৭২ রানের পুঁজি।

নিউ জিল্যান্ডের ইনিংসের দুই ভাগ যেন পুরো আলাদা দুটি জগত। প্রথম ১০ ওভারে রান ছিল ৫৭। শেষ ১০ ওভারে আসে ১১৫ রান!

একাদশ ওভারে উইলিয়ামসনের ব্যাটেই এই মোড় বদলের শুরু। নান্দনিক ও কার্যকর ব্যাটিংয়ের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে কিউই অধিনায়ক খেলেন ৪৮ বলে ৮৫ রানের ইনিংস।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন জশ হেইজেলউড। যথারীতি ধারাবাহিক প্যাট কামিন্স ও অ্যাডাম জ্যাম্পা। তবে স্টার্ক ছিলেন ভীষণ খরুচে। একদমই ছন্দ পাননি তিনি। ৪ ওভারে রান হজম করেন ৬০!

তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খরুচে বোলিং তো বটেই, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে খরুচে বোলিংও। ২০১২ বিশ্বকাপের ফাইনালে ৪ ওভারে ৫৪ দিয়েছিলেন লাসিথ মালিঙ্গা।

স্টার্ক টি-টোয়েন্টিতে ৫০ রান গুনেছিলেন আগে একবারই, ২০১২ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুরে ৪ ওভারে ৫০।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউ জিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৭২/৪ (গাপটিল ২৮, মিচেল ১১, উইলিয়ামসন ৮৫, ফিলিপস ১৮, নিশাম ১৩*, সাইফার্ট ৮*; স্টার্ক ৪-০-৬০-০, হেইজেলউড ৪-০-১৬-৩, ম্যাক্সওয়েল ৩-০-২৮-০, কামিন্স ৪-০-২৭-০, জ্যাম্পা ৪-০-২৬-১, মার্শ ১-০-১১-০)।

রেকর্ড ছুঁয়ে আউট উইলিয়ামসন

গ্লেন ফিলিপসকে আউট করে জুটি ভাঙার পর একই ওভারে কেন উইলিয়ামসনকেও বিদায় করলেন জশ হেইজেলউড। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড স্পর্শ করে আউট হলেন কিউই অধিনায়ক।

শেষ দিকের দাবি মেটাতে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে উড়িয়ে মারেন উইলিয়ামসন। টাইমিং হয়নি ঠিকমতো। লং অফে ক্যাচ নেন স্টিভেন স্মিথ।

২১ রানে উইলিয়ামসনকে জীবন দেওয়া হেইজেলউড নিলেন তার উইকেট। তবে ততক্ষণে কিউই অধিনায়কের রান ১০ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৮ বলে ৮৫!

গত বিশ্বকাপের ফাইনালে মারলন স্যামুয়েলস করেছিলেন ৮৫।

অবশেষ ব্রেক থ্রু

নিজের শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসে অবশেষে জুটি ভাঙলেন জশ হেইজেলউড। অবশ্য বলা যায়, ছক্কার চেষ্টায় তাকে উইকেট উপহার দিলেন গ্লেন ফিলিপস। ভাঙল উইলিয়ামসনের সঙ্গে তার ৩৭ বলে ৬৮ রানের জুটি।

হেইজেলউড শেষ এসেও যথারীতি লেংথ বোলিংই করলেন। ক্রিজের গভীরে গিয়ে উড়িয়ে মারলেন ফিলিপস। কিন্তু মারে জোর হলো না যথেষ্ট। মিড উইকেটে ক্যাচ নিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

ফিলিপস আউট হলেন ১৭ বলে ১৮ করে। ১৭.২ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ৩ উইকেটে ১৪৪।

নতুন ব্যাটসম্যান জিমি নিশাম।

জুটির ফিফটি

মিচেল স্টার্কের বলে রান প্রবাহ চলছেই। তার বলে উইলিয়ামসনের টানা দুটি চার ও দুর্দান্ত একটি ছক্কায় তৃতীয় উইকেট জুটি পূর্ণ করল ফিফটি।

মাত্র ২৬ বলেই এলো জুটির পঞ্চাশ। তাতে উইলিয়ামসনের রান ১৪ বলে ৩৪, গ্লেন ফিলিপসের ১২ বলে ১৫।

জুটির ফিফটি হওয়ার পর ওই ওভারে আরও দুটি চার মারেন উইলিয়ামসন। চারটি চার ও এক ছক্কায় ওভার থেকে আসে ২২ রান।

৩ ওভারেই রান দেওয়ার ফিফটি হয়ে যায় স্টার্কের।

নিউ জিল্যান্ডের একশ

প্রথম দলীয় ফিফটি ছুঁতে ৮.৫ ওভার লেগেছিল নিউ জিল্যান্ডের। পরের পঞ্চাশ এলো স্রেফ ৫ ওভারেই।

১৩.৫ ওভারে তারা পা রাখল তিন অঙ্কে।

উইলিয়ামসনের ফিফটি

গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের বলে টানা দুটি বিশাল ছক্কায় কেন উইলিয়ামসন পা রাখলেন পঞ্চাশে। শুরুর ২০  বলে তার রান ছিল ১৯। সেখান থেকে খেলার মোড় বদলে ফিফটিতে পা রাখলেন স্রেফ ৩২ বল খেলেই।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ৭ ফাইনালে দ্রুততম ফিফটি এটিই। আগের রেকর্ড ছিল জো রুট ও কুমার সাঙ্গাকারার, ৩৩ বলে।

গাপটিলের বিদায়

১৯ রানের ওভারের পরই অস্ট্রেলিয়াকে কিছুটা শ্বস্তি দিলেন অ্যাডাম জ্যাম্পা। জুটি ভাঙলেন তিনি মার্টিন গাপটিলকে ফিরিয়ে।

জ্যাম্পার ওভারের প্রথম বলেই স্লগ করে ছক্কার চেষ্টা করেন গাপটিল। তবে টাইমিং হয়নি যথেষ্ট ভালো। মিড উইকেট সীমানায় ক্যাচ নেন মার্কাস স্টয়নিস।

শুরুটা ভালো করলেও পরে টাইমিং পেতে ধুঁকে শেষ পর্যন্ত গাপটিল করতে পারলেন ৩৫ বলে ২৮।

নিউ জিল্যান্ড ১১.১ ওভারে ২ উইকেটে ৭৬।

নতুন ব্যাটসম্যান গ্লেন ফিলিপস।

জীবন পেলেন উইলিয়ামসন

মিচেল স্টার্কের হাত ফসকে যাওয়া বাজে বল, সেই বলেও টাইমিং করতে ব্যর্থ কেন উইলিয়ামসন, সীমানার একটু আগে দাঁড়ানো জশ হেইজেলউডের ক্যাচ নিতে না পারা এবং তার হাত গলে বল বাউন্ডারি যাওয়া, এক বলেই অনেক কিছু। ধারাভাষ্যে হার্শা ভোগলে বলছিলেন, একটি বলই যেন একটি গল্প।

ইয়র্কার করার চেষ্টায় স্টার্ক লেগ স্টাম্পে ফুল টস করে বসেন। উইলিয়ামসন সরাসরি সেটি তুলে দেন ফাইন লেগে হেইজেলউডের হাতে। কিন্তু তার হাতের ফায়ক গলে বল মাটি ছুঁয়ে যায় বাউন্ডারিতে।

উইলিয়ামসন জীবন পেলেন ২১ রানে।

জীবন পাওয়া শটে বাউন্ডারির পর আরও টানা দুটি বাউন্ডারি মারেন উইলিয়ামসন। ওভার থেকে আসে ১৯ রান।

মাঝপথে নিয়ন্ত্রণ অস্ট্রেলিয়ার

প্রথম ১০ ওভারে কেবল একটি উইকেট হারিয়েছে নিউ জিল্যান্ড। তবে অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা দারুণভাবে আটকে রেখেছে কিউইদের রানের গতি।

১০ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের রান ১ উইকেটে ৫৬।

৩৩ বলে ২৭ রানে খেলছেন গাপটিল, ১৯ বলে ১৮ উইলিয়ামসন।

লেগ স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পা ২ ওভারে দিয়েছেন ৯ রান।

নিউ জিল্যান্ডের পঞ্চাশ

বাউন্ডারি ছাড়া টানা ৩২ বলের পর অবশেষে মিচেল মার্শের বলে ডাউন দা উইকেটে বাউন্ডারি মেরে খরা কাটালেন কেন উইলিয়ামসন। পরের বলে নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক আরেকটি বাউন্ডারি মারলেন পুল শটে। টানা দুই বাউন্ডারি দলের রান পঞ্চাশ স্পর্শ করল ৮.৫ ওভারে।

উইলিয়ামসনের রান তখন ১৫ বলে ১৫, গাপটিলের ৩০ বলে ২৪।

নিউ জিল্যান্ডের ভালো শুরু, অস্ট্রেলিয়ার ফেরা

আগে ব্যাট করে প্রয়োজন বড়  রান গড়া, নিউ জিল্যান্ডের শুরুটা ছিল তেমনই আগ্রাসী। ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই মিচেল স্টার্ককে চার মারেন মার্টিন গাপটিল, পরের ওভারে চার মারেন জশ হেইজেলউডকে। তৃতীয় ওভারে আক্রমণে আসা গ্লেন ম্যাক্সওলকে ছক্কায় স্বাগত জানান ড্যারিল মিচেল।

তবে অস্ট্রেলিয়া দারুভাবে বোলিংয়ে ফিরে আসে দ্রুতই। রানের গতিতে বাঁধ দেওয়ার পাশাপাশি মিচেলের উইকেটও নিতে পারে তারা।

পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ১ উইকেটে ৩২।

২০ বলে ১৭ রান নিয়ে খেলছেন মার্টিন গাপটিল, ৮ বলে ৩ কেন উইলিয়ামসন।

৩ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ১ উইকেট হেইজেলউডের।

প্রথম শিকার হেইজেলউডের

মার্টিন গাপটিল ও ড্যারিল মিচেল বেশ ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে জুটি জমে ওঠার মুখে ভেঙে দিল অস্ট্রেলিয়া। নিউ জিল্যান্ডের সেমি-ফাইনালের নায়ক মিচেলকে ফিরিয়ে দলকে প্রথম উইকেট এনে দিলেন জশ হেইজেলউড।

যথারীতি টেস্ট ম্যাচের লাইন-লেংথেই হেইজেলউডের এই সাফল্য। ডেলিভারিটি ছিল ক্রস সিম, একটু স্লোয়ার কিংবা লেগ কাটার করার চেষ্টাও ছিল। অফ স্টাম্পের বাইরে থাকা লেংথ বল ড্রাইভ করার চেষ্টা করেন মিচেল। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে যায় উইকেটের পেছনে। সামনে ঝাঁপিয়ে ভালো ক্যাচ নেন ম্যাথু ওয়েড।

৩.৫ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ১ উইকেটে ২৮। ৮ বলে ১১ করে আউট মিচেল।

নতুন ব্যাটসম্যান কেন উইলিয়ামসন।

একই দল নিয়ে অস্ট্রেলিয়া

সেমি-ফাইনাল ম্যাচে জয়ী একাদশই ধরে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে রেকর্ড দুর্দান্ত হলেও একাদশের বাইরেই থাকতে হচ্ছে বাঁহাতি স্পিনার অ্যাশটন অ্যগারকে।

অস্ট্রেলিয়া দল: অ্যারন ফিঞ্চ (অধিনায়ক), ডেভিড ওয়ার্নার, মিচেল মার্শ, স্টিভেন স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মার্কাস স্টয়নিস, ম্যাথু ওয়েড, প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, অ্যাডাম জ্যাম্পা, জশ হেইজেলউড।

নিউ জিল্যান্ড দলে এক পরিবর্তন

নিউ জিল্যান্ডের একাদশে একটি পরিবর্তন অবধারিতই ছিল। সেমি-ফাইনালে আউট হওয়ার পর নিজের ব্যাটে আঘাত করে হাত ভেঙে মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন ডেভন কনওয়ে। তার জায়গায় একাদশে টিম সাইফার্টকে নেওয়ার কথা ফাইনালের আগের দিনই নিশ্চিত করে দেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন।

এছাড়া পরিবর্তন নেই আর।

নিউ জিল্যান্ড দল: মার্টিন গাপটিল, ড্যারিল মিচেল, কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), টিম সাইফার্ট, গ্লেন ফিলিপস, জিমি নিশাম, মিচেল স্যান্টনার, টিম সাউদি, ইশ সোধি, ট্রেন্ট বোল্ট, অ্যাডাম মিল্ন।

টসে হাসি ফিঞ্চের

রাতের শিশিরের কারণে মহামূল্য হয়ে পড়া টস ভাগ্যকে পাশে পেল অস্ট্রেলিয়া। অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ অনুমিতভাবেই টস জিতে নিলেন বোলিং।

এই মাঠেই সেমি-ফাইনালে পাকিস্তানকে হারানো ম্যাচের উইকেটের চেয়ে ফাইনালের উইকেট একটু শুষ্ক মনে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়কের। তার আশা, পরের ভাগে ব্যাটে সুন্দরভাবে আসবে বল।

টস জিতলে বোলিং নিতেন বলে জানালেন কেন উইলিয়ামসনও। তবে দমে না গিয়ে আগে ভালো একটি স্কোর গড়ার আশা কিউই অধিনায়কের।

ব্যাটিং সহায়ক উইকেট

পিচ রিপোর্টে ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ জানালেন, উইকেট বেশ শক্ত। বাউন্স যথেষ্ট ভালো থাকবে, বল ব্যাটে আসবে দারুণভাবে। উইকেট তাই ব্যাটিং সহায়ক হওয়ারই কথা।

দুই দলের দুই অপূর্ণতা

সীমিত ওভারের ক্রিকেটের একটি সংস্করণের সফলতম দল অস্ট্রেলিয়া। ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি জয় তাদের, রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন তারা। তাদের ধারেকাছে কেউ নেই। সেই দলটিরই টি-টোয়েন্টিতে সাফল্যের ঝুলি শূন্য। এখানে বিশ্বকাপ ট্রফি নেই একটিও। আগের ছয় আসরে ফাইনাল খেলেছে মোটে একবার। এবার তাদের সেই অপূর্ণতা ঘোচানোর সুযোগ।

নিউ জিল্যান্ডের অপূর্ণতা অবশ্য আরও বড়। রঙিন পোশাকের কোনো বিশ্বকাপেই তারা কখনও পায়নি শিরোপার স্বাদ। ২০০০ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় ছিল এই বছরের আগে তাদের একমাত্র বৈশ্বিক শিরোপা। ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার ম্যাচে মূল ম্যাচ ও সুপার ওভার ‘টাই’ হওয়ার পর তারা ট্রফি পায়নি স্রেফ বাউন্ডারি সংখ্যায় পিছিয়ে থাকায়।

নিউ জিল্যান্ড অবশ্য তাতে দমে যায়নি। এবার আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠে ঠিকই জিতে নিয়েছে শিরোপা। এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও উঠে গেছে ফাইনালে। এবার আরেকটি অপেক্ষার অবসানের পালা।

মরুর বুকে ট্রান্স তাসমান লড়াই

এশিয়ার বিশ্বকাপে, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো কঠিন কন্ডিশনে ফাইনাল খেলবে অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ড, কজন ভাবতে পেরেছিলেন বিশ্বকাপের আগে! এশিয়ার দুই ফেভারিট ভারত-পাকিস্তান, এশিয়ার বাইরের ফেভারিট ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ আসতে পারেনি শিরোপার মঞ্চেই। ট্রফির লড়াইয়ে নামছে তাসমান সাগর পাড়ের দুই দেশ অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ড।